kalerkantho


টিফিন আওয়ার

শিশুরা যেন স্কুলে আসে

শিশুদের স্কুলমুখী করতে অনেকেই অনেক চেষ্টা করছে। এর মধ্যেও আছে মজার ও ব্যতিক্রমী কিছু। সেগুলোই জানাচ্ছেন সজল সরকার

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



শিশুরা যেন স্কুলে আসে

জিপ-লাইনে স্কুল যাত্রা, কলম্বিয়া

স্কুলে ভিডিও গেম, সুইডেন

পড়াশোনায় সুইডেন বরাবরই ব্যতিক্রম। আর তার নমুনা দেখা যাবে স্টকহোমের ভিক্টর রিডবার্গ স্কুলে।

সেখানে শিশুদের দিনই শুরু করে ভিডিও গেম খেলার মধ্য দিয়ে। স্কুলের শিক্ষকরা বলেন, ভিডিও গেম বাচ্চাদের সৃজনশীল করে তোলে এবং কল্পনাশক্তিও বাড়ায়। আর শিক্ষার সঙ্গে এটি একাট্টা করতে পারলে নাকি তারা যুগের সঙ্গে খাপ খেতে পারবে।  

ছাদে হুড়োহুড়ি, চীন

শিশুরা হুল্লোড় পছন্দ করে। আর এটা ভালো করেই জানে চীনারা। তাই ঝেজিয়াং প্রদেশের বেশ কিছু স্কুলের ছাদে দেখা যাবে দৌড়ানোর ট্র্যাক। তিয়ানতাই কাউন্টির প্রায় সব স্কুলেই আছে ছাদে হৈহুল্লোড় করার বাধ্যতামূলক সেশন। অবশ্য ছাদে যথেষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই শিশুরা দৌড়াদৌড়ি করে। স্কুলে গিয়ে যেন পড়ালেখাকে চাপ না মনে করে এ কারণেই এ আয়োজন।

এমন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের স্কুলের ছাদটি বাচ্চাদের জন্য একটি প্রাকৃতিক ব্যায়ামাগার। ’

 

বোতল স্কুল, ফিলিপাইন

ফিলিপাইনের একটি প্রাইমারি স্কুল তৈরি হয়েছে আগাগোড়া বোতল দিয়ে। পুরো স্কুলটি তৈরিতে লেগেছে ৯ হাজার বোতল। পরিবেশবান্ধব এ স্কুল নির্মাণ করেছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। প্রতিটি বোতলে আছে বালি, পানি ও খড়। একটির পর একটি বোতল সাজিয়ে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আঠা দিয়ে। শিশুরা যাতে আগ্রহ নিয়ে স্কুলে আসে সে কারণেই এভাবে বানানো হয়েছে।

 

বিড়াল স্কুল, জার্মানি

দূর থেকে দেখে মনে হবে এক দানব আকারের হুলো বিড়াল বসে আছে। আসলে ওটা একটা স্কুল। জার্মানির একটি স্কুলের নকশা করা হয়েছে বিড়ালের মতো করে। স্কুলের ভবনের জানালাই হলো বিড়ালের চোখ। শিশুরা যেন স্কুলে মজা করে ঢোকে সে জন্য গেটটি বানানো হয়েছে বিড়ালের মুখের মতো করে। ভবনের পেছন দিকটা বিড়ালের লেজের মতো লম্বা করা হয়েছে।

 

জিপ-লাইন, কলম্বিয়া

কলম্বিয়ার লস পিনোস নামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের স্কুলে যেতে খুব কষ্ট। বন-জঙ্গলের গিরিখাদ পেরিয়ে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক লাগত। তাই কর্তৃপক্ষ হাতে নেয় রোমাঞ্চকর এক পরিকল্পনা। বন-জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ের ওপর দিয়েই বসিয়ে দিল জিপ-লাইন। কোমরে নিরাপত্তার দড়ি বেঁধে পাহাড়ের ওপর থেকে নামতে হয় নিচে। শুরুর দিকে দেখতে ভয়ানক লাগলেও এখন শিশুরা বেশ মজা করেই পাখির মতো উড়ে উড়ে স্কুলে যায়। তবে কম বয়সী শিশুদের জিপ-লাইনে একা উঠতে দেওয়া হয় না। সঙ্গে থাকে অভিভাবক। এখন জিপ-লাইনের উন্নত সংস্করণ কেবল কার স্থাপনের পরিকল্পনা আছে স্থানীয় সরকারের।


মন্তব্য