kalerkantho

ছবির গল্প

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফিক সোসাইটি আয়োজন করেছিল আন্তবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার। সেখানে সেরা চারটি ছবির গল্প শোনাচ্ছেন আসাদুজ্জামান

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছবির গল্প

ভালোবাসা

রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহে বেড়াতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ দেখলেন—এক অসাধারণ দৃশ্য।

ঘোড়াটি দুই পা আকাশের দিকে তুলে দিয়ে ডাক ছেড়েছে। অনড় ঘোড়ার মালিক পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি তুলে ফেললেন শামস আহমেদ। এর আগেও অনেকগুলো পুরস্কার জিতেছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় হয়েছেন প্রথম, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রাফার্স ফোরাম ম্যাগাজিন, অনলাইনের শখের ফটোগ্রাফি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি আয়োজিত প্রতিযোগিতায়ও পুরস্কার পেয়েছেন।

 

 

জলচর

ছবি তুলবেন বলে বন্ধুকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন সাহাজ উদ্দিন। সদরঘাটে পৌঁছার পর দেখলেন, বুড়িগঙ্গায় সাঁতরাচ্ছে একদল শিশু। একটি শিশু হঠাৎ বলে বসল, আমার ছবি তুলবেন? তাকে আরো এগিয়ে আসতে বললেন তিনি। লঞ্চের শেকলের সামনে চলে এলো সে।

সরল চাহনি নিয়ে সামনে তাকিয়ে আছে। দুই হাতের ঝাপটায় পানিতে বেশ আন্দোলনও হয়েছে। ছবিটি তুলেই মনে হলো তাঁর—ভালো একটি ছবি হয়েছে। তিনি পড়েন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে।

 

 

সরল চাহনি

কমলাপুর রেল স্টেশনে তোলা ছবি এটি। সেখানে এক ভোরে ছবি তোলার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ওমর ফারুক। হঠাৎ একটি ট্রেনের জানালায় চোখ আটকে গেল। বন্ধ জানালার ওপাশে তাকিয়ে আছে একটি ছেলে। ভীষণ সরল মুখটি। একটি মাত্র শটই নেওয়া গেল। এর পরই মুখটি সরিয়ে ফেলল ও। পরে তার সঙ্গে কথা বলে জেনেছিলেন, ওর নাম তানভীর, বাড়ি খুলনা। রাগ করে পালিয়ে এসেছে ঢাকায়। মানুষ আর জীবনের ছবি তোলার জন্য এভাবে সময়ে-অসময়ে বেরিয়ে পড়েন ওমর। ছবির প্রতি তাঁর এই ভালোবাসার শুরু বছর তিনেক আগে। তিনি পথের মানুষের ছবি তুলতে ভালোবাসেন। ওমর ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্র।

 

 

শৈশবের গান

অফিসের দিকে যেতে যেতেই ছবিটি চোখে পড়ে গেল। পথের ধারে ঝিলের পাড়ে খেলা করছে দুটি শিশু। ওপারে বিশাল সব দালানের ছায়া পড়েছে ঝিলে। ছবিটি তুলে ফেললেন তিনি। এই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেমন চোখে পড়ছে, তেমনি সামাজিক অবস্থানের বেড়া ডিঙিয়ে সব শিশুরই শৈশব আছে—এ কথাটিও বলে ছবিটি। শহরের ইট-পাথর তাদের শৈশব মুছে দিতে পারেনি। ছবির আলোকচিত্রী তপন কর্মকার। ছোটবেলায় মোবাইলে ছবি তুলতেন। তবে তাতে মন ভরছিল না। তিন বছর টিউশনির টাকা জমিয়ে ক্যামেরা কিনেছেন। তাঁর তোলা ছবি নিত্য উপহারের টি-শার্টে আছে। তিনি সরকারি তিতুমীর কলেজে পড়েন।


মন্তব্য