kalerkantho


মনোরম এক বাগান

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে ২৫ একরের বিশাল এক বোটানিক্যাল গার্ডেন। সেখানে ৬০০ জাতের গাছ আছে। সেগুলো নিয়ে লিখেছেন আবুল বাশার মিরাজ। ছবি তুলেছেন আশরাফুল আলম

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মনোরম এক বাগান

চারটি বছর কেটে গেল ক্যাম্পাসে। তার পরও ঘুরে দেখা হলো না বোটানিক্যাল গার্ডেনটি।

ফলে বিশাল এই উদ্ভিদবাগানটি একনজর দেখতে হামিমের খুব মন চাইল। একদিন তানজিমা তানিকে নিয়ে সেখানে চলেও গেলেন। এটি আছে পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে, উপাচার্যের বাসভবনের পাশে। বাগানটি অনেক বড়, প্রায় ২৫ একর। অথচ শুরুতে ছিল ১০ একর। শুরুটি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের বছর দুয়েক পরে, ১৯৬৩ সালে। বাগানে ঢুকে জানলেন, এখানে মোট ৬০০ প্রজাতির গাছ আছে। হাজারখানেক বিশাল বৃক্ষ, এক হাজার ২৭৮টি মাঝারি ও চার হাজার ৪৬৭টি ছোট আকারের গাছ আছে। ফলে বিশাল এই বাগানকে ৩০টি জোনে ভাগ করে দেখাশোনা করতে হয়। জোনগুলোর নামও দেওয়া হয়েছে। যেমন—ঔষধি, ফুল, ফল, ক্যাকটাস, অর্কিড, পাম, মসলা, টিম্বার, বাঁশ, বেত, বিরল, বনজ উদ্ভিদ ইত্যাদি। জলজ উদ্ভিদের জন্য ওয়াটার গার্ডেন, মরুভূমি ও পাথুরে এলাকায় জন্মে এমন উদ্ভিদের জন্য রক গার্ডেন আছে। দেশের নানা এলাকা থেকে জোগাড় করা বিলুপ্ত ও বিরল ক্যাকটাস আছে নিসর্গ ভবনে। একেবারে দক্ষিণে আছে অর্কিড হাউস। সুন্দরবন জোনে আছে সুন্দরবনে জন্মে এমন গাছগুলো। এমনকি সেখানে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, পশুর, বাইন, হোগলা ও ফার্ন জাতীয় গাছ আছে। নিসর্গ ভবনে আছে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় ক্যাকটাসের সারি। ‘পট হাউস’ নামের বিশেষ সংরক্ষণাগারে আছে অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, গন্ধভাদুলি, পূর্ণনভা, কুর্চি, বচ, উলটচণ্ডাল, অন্তর্মূল, অঞ্জন ইত্যাদি জাতের ঔষধি উদ্ভিদ। আছে সুগন্ধি জাতের উদ্ভিদ। বাগানে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ধরনের ফলের গাছের মধ্যে আছে স্টার আপেল, আমেরিকান পেয়ারা, থাই পেয়ারা ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে আছে কমব্রিটাম, রনডেলসিয়া, পালাম, ক্যামেলিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, রাইবেলি ইত্যাদি। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের মধ্যে আছে রাজ অশোক, নাগলিঙ্গম, কালাবাউশ, ক্যারিলিফ, ফলসা, মনগোটা, মাক্কি, বনভুবি, লোহাকাট, উদাল, পানবিলাস,  টেকোমা, বহেরা, হরীতকী, কাঁটাসিংড়া, ম্যালারিউকা, প্যাপিরাস, রুপিলিয়া, স্ট্যাভিয়া, হিং, পেল্টো ফোরাম ইত্যাদি। আরো আছে পদ্ম শাপলার ঝিল, কৃত্রিম দ্বীপ, নারিকেল কর্নার, বিলুপ্ত বাঁশঝাড় ইত্যাদি।

এত সব গাছ ঘুরে দেখার সময় মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে মেলবন্ধনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পশু-পাখির প্রতিকৃতি আছে। মূল গেটের কাছে বাঘ, সিংহ, দ্বীপ জোনে দুুটি রাজহাঁস ও দুটি সারস, আর্কেডিয়া গাছের নিচে আছে হরিণ। বাগানে বেড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ আছে। নদীর পাড়ে বেড়াতে আসা মানুষ সেখানে বসে গল্প করে। সেই সঙ্গে নদীতে ভেসে বেড়ানো নৌকা দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যায়। রবি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা ও শুক্র-শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনেকেই বেড়াতে আসেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোনো ফি নেই। অন্যদের ১০ টাকার কুপন কিনে বেড়াতে হয়। এভাবে প্রতিবছর ২০ লাখ টাকা জমা পড়ে। সেই টাকায়ই বাগানের খরচ চলে।

বাগান ঘুরে তাঁরা এটির কিউরেটর ফসল উদ্ভিদ বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফুজ্জামানের সঙ্গেও দেখা করলেন। তিনি বলেন, ‘এই বাগানে মানুষ কেবল ঘুরেই বেড়ান না, অনেকে এখানে গবেষণাও করতে আসেন। ’ স্যার আরো জানালেন, ‘এটি বোটানিক গার্ডেনস কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল (বিজিসিআই) স্বীকৃত দেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন। ’


মন্তব্য