kalerkantho


টিফিন আওয়ার

আমেরিকার ভুতুড়ে স্কুল!

পুরনো বটের তলায় ভুতুড়ে স্কুলের গল্প শুনে থাকবে নানা-দাদার কাছে। এখন কি আর ভূতের ভয় পাও? তুমি না পেলেও আমেরিকায় কিন্তু এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে দিব্যি ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছে ভূতের দল। হদিস জানাচ্ছে নসজল সরকার পুরনো বটের তলায় ভুতুড়ে স্কুলের গল্প শুনে থাকবে নানা-দাদার কাছে। এখন কি আর ভূতের ভয় পাও? তুমি না পেলেও আমেরিকায় কিন্তু এমন কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে দিব্যি ভয় দেখিয়ে বেড়াচ্ছে ভূতের দল। হদিস জানাচ্ছে নসজল সরকার

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আমেরিকার ভুতুড়ে স্কুল!

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জোসেফ কলেজটি গৃহযুদ্ধের সময় হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহূত হতো। এখনকার হাসপাতালের তুলনায় সেটাকে কসাইখানা বলাই ভালো।

কারণ চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে আহত মানুষজনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফেলে দেওয়া হতো। শোনা যায়, সেখানে নাকি অপারেশন থিয়েটার থেকে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হাতে নিয়েই বের হতো নার্সরা। তারপর ছুড়ে ফেলত বাইরে। কালক্রমে হাসপাতালটি হয়ে যায় একটি মেডিক্যাল কলেজ। এখনো নাকি কেউ কেউ এখানে মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গন্ধ পায়। অনেক শিক্ষার্থীই বলেছে, তারা গভীর রাতে এ কলেজে আহত মানুষের আনাগোনা টের পায়। কেউ কেউ আবার আমেরিকান সিস্টার্স চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাতা মাদার সেটনকেও দেখতে পেয়েছে। এক শিক্ষার্থী তো বলল, ‘মাদার সেটন হাসিমুখে এখানে ঘুরে বেড়ান এবং আহত কাউকে দেখলে ছুটে যান। ’

 

তরুণী ও যাজক

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের হাভারহিল শহরের ব্র্যাডফোর্ড কলেজটি এখন পরিত্যক্তই বলা যায়।

কলেজটিতে যখন ক্লাস চলত, তখন আচমকা ভূতের আনাগোনা শুরু হয়ে যেত এখানে। এর মধ্যে বিখ্যাত ছিল একটি মেয়ে ভূত। গল্পে শোনা যায়, এক যাজকের সঙ্গে ওই তরুণীর এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও একসময় তরুণীটি আত্মহত্যা করে। কেউ বলে, তরুণীকে খুন করা হয়েছিল। এরপর নাকি সেই তরুণীর সঙ্গে যাজকের আত্মাও কলেজে ঘুরে বেড়ায়। তবে তারা কোনো ছাত্রছাত্রীর ক্ষতি করেছে বলে শোনা যায়নি।

 

লাইব্রেরিতে ভূত

পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি স্টেট কলেজের পাঠাগারটি নাকি ভূতের আখড়া। ১৯৬৯ সালে বেটসি আর্ডসমা নামের এক কলেজছাত্রী লাইব্রেরিতে বসে ইংরেজি ক্লাসের পড়া তৈরির সময় ছুরিকাঘাতে মারা যায়। এখনো খুনের রহস্য উন্মোচন হয়নি। বলা হয়, ওই ছাত্রীর আত্মা নাকি গভীর রাতে লাইব্রেরিতে এসে কান্নাকাটি করে। একদিন আরেক শিক্ষার্থী আর্ডসমার আত্মাকে দেখতে পায় এবং ভয়ে সে কাউকে ডাকতেও পারেনি। শুধু এই একটি ভূতই নয়, এ কলেজে আরো ভূতের দেখা পেয়েছে অনেকে।

 

ভালো ভূত

ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম স্কুলের ভূতগুলো নাকি সব ভালো। একসময়ের তারকা ফুটবলার জর্জ গিপের আত্মাও নাকি এখানে ঘুরে বেড়ায়। তবে তিনি ফোঁসফোঁস করেন না। শিক্ষার্থীদের ঘাড়ের পাশে ঘোরাঘুরি করা আর তাদের সঙ্গে মজা করা নিয়েই থাকেন গিপ। শিক্ষার্থীরা যখনই ঘাড় ঘোরায় তখনই অদৃশ্য হয়ে যান জিপ। তবে এখানে কিছু ভূত আছে, যারা এতটা বন্ধুবৎসল নয়। শোনা যায়, কলেজের কলম্বাস হলটি একটি সমাধির ওপর বানানো হয়েছে। অনেকেই এখানে আগেকার দিনের ঘোড়সওয়ারদের ভূতও দেখেছে।

 

ভূতের আড্ডাখানা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের এথেন্স এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে ‘ভূতপ্রবণ’ হিসেবে কুখ্যাত। এখানেই আছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় ওহাইও ইউনিভার্সিটি। ১৮০৯ সালে চালু হওয়া এ ক্যাম্পাসে এতই ভূতের আনাগোনা যে প্রতিটি ভবনে অন্তত একটি করে ভূতের বাস বলে মনে করা হয়। কলেজ ও হোস্টেলের দরজা-জানালা প্রায়ই নাকি নিজে থেকে বন্ধ হয়, আবার খোলে। বন্ধ কক্ষ থেকে একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর কথাও শোনা যায় এবং ভুতুড়ে শিক্ষকের লেকচার দেওয়ার আওয়াজও পাওয়া যায়! এ প্রতিষ্ঠানটিতে এত বেশি ভূতের উপদ্রব যে এ নিয়ে ‘স্ক্যারিয়েস্ট প্লেসেস অন আর্থ’ নামে একটি টিভি সিরিজও বানানো হয়েছিল।


মন্তব্য