kalerkantho


ছাত্রদের প্রয়োজনীয় কয়েকটি উদ্ভাবন

মুতাসিম বিল্লাহ নাসির

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের গবেষণা করা হয়। এ জন্য আছে সেন্টার ফর অ্যানার্জি রিসার্চ (সিইআর)।

সাবেক ও বর্তমান ছাত্ররা সেখানে গবেষণা করেন। তাঁদেরই একজন ইইই বিভাগের সাবেক ছাত্র রাশেদুল হাসান। তিনি ‘নেট মিটারিং’ নামের একটি ডিভাইস তৈরি করেছেন। খুব ছোট আকারের এই অ্যালার্মটি বিদ্যুৎ অফিসে স্থাপন করা হবে। সেখান থেকে যেসব লাইনে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, সেগুলোর কোনোটিতে ত্রুটি থাকলে ডিভাইসের সঙ্গে থাকা জিপিএস সেটির অবস্থান জানিয়ে দেবে। এভাবে কোথায় কোথায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আছে, তা জানা যাবে। এ আবিষ্কার গত বছরের জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহে উপস্থাপন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রথম রানারআপ হয়েছে। সেন্টারের আরেক গবেষক আরিফুর রহমান সৌরচালিত চুলা উদ্ভাবন করেছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘সোলার স্টোভ’। এ চুলায় সূর্যের আলো ব্যবহার করে পাঁচজনের পরিবারের রান্না ও দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করা যাবে। এ জন্য মাত্র তিন শ কী সাড়ে তিন শ টাকা খরচ হবে বলে জানালেন তিনি। আরিফ জানালেন, এ চুলার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—চুলায় রান্নার পরে যে ধোঁয়া বের হবে, সেটি নলের মাধ্যমে অন্য একটি চুলার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে সেই গরম তাপেই অন্য চুলায় রান্না করা যাবে। মাহমুদ ইব্রাহিম ‘সৌরচালিত সেচপদ্ধতি’ উদ্ভাবন করেছেন। তিনি বলেন, ‘এক কেজি বোরো ধানের জন্য যেখানে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার লিটার পানি খরচ হয়, আমার এই পদ্ধতিতে মাত্র এক-দেড় হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হবে। ’ এ জন্য জমিতে একটি তাপমাত্রা পরিমাপক ডিভাইস রাখা হবে। সেটি আবার চাষি বা জমির মালিকের মোবাইলে সংযুক্ত থাকবে। ফলে কখন জমিতে পানি লাগবে, তা এসএমএসের মাধ্যমে তাঁকে জানানো হবে। ডিভাইসটির মাধ্যমে জমির আর্দ্রতা, আবহাওয়াগত তথ্য ও মাটির তাপমাত্রাও রেকর্ড করা হবে। ফলে কোন জমিতে কী ধরনের ফসল ভালো হবে, সহজেই জানা যাবে। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাদা ছড়ি বানাচ্ছেন। তাতে আলট্রাসনিক সেন্সর থাকবে। এই সেন্সর সামনের গাড়ি বা অন্য কিছুর শব্দ ধারণ করতে পারবে এবং বাংলায় সেই সংকেত ছড়ির মালিককে পাঠিয়ে দেবে। ফলে ছড়িটি কেঁপে উঠবে। এ ছাড়া ছড়ির সঙ্গে থাকা জিপিএসে ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে। ফলে ছড়ির বাটনে ক্লিক করে ছড়ির মালিক বাংলায় গুগল ম্যাপের মাধ্যমে কোথায় আছেন জানতে পারবেন। একবার চার্জ দিলে ছড়িটি টানা দুই দিন ব্যবহার করা যাবে। এটির দাম হবে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। আরো গবেষণা শেষে এটি বাজারে ছাড়া হবে বলে জানালেন তিনি।


মন্তব্য