kalerkantho


আলো ছড়ানো একজন

মুতাসিম বিল্লাহ নাসির

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আলো ছড়ানো একজন

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যানার্জি রিসার্চের (সিইআর) পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসরুমে পাঠদানের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গবেষণা করেন। কিছুদিন আগে ‘স্মার্ট ভিলেজ ন্যানোগ্রিড’ নামের একটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ যাতে ভাগাভাগি করা যায় সে জন্য ‘সোলবক্স মিটার’ তৈরি করেছেন। এই উদ্ভাবনের ফলে গত বছরের জুনে জার্মানির ‘ইন্টার সোলার অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন তিনি। এ পুরস্কারকে সোলারের নোবেল বলা হয়। এ ছাড়া এই গবেষণা প্রকল্পটি তাঁকে জাতিসংঘের ২২তম জলবায়ু সম্মেলনে ‘মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ এনে দিয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংস্থা ইউএনএফসিসিসি তাঁর এই উদ্যোগ নিয়ে বলেছে—‘এ ধরনের উদ্যোগ সারা বিশ্বের জন্যই অনুকরণীয় হতে পারে। ’

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিনি তাঁর প্রকল্প চালু করেছেন। মানিকগঞ্জ, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, ফরিদপুর, নরসিংদী, রাজশাহীর গ্রামে সেগুলো চালু আছে। ২০১৪ সাল থেকে ইডকলের আর্থিক সহায়তায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পারতলী ইউনিয়নে সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হচ্ছে। ফলে পাঁচ শতাধিক বাড়ি ও দোকানে আলো জ্বলছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের পলাশী-ফতেহপুর গ্রামে ১৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উত্পাদন করা হচ্ছে। ভোলার মনপুরা উপজেলার বাংলাবাজার, মাস্টারহাট ও আশপাশের এলাকায় ১৭৭ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি হচ্ছে। ফলে ৬৬১ জন গ্রাহকের বাড়ি, দোকান ও দুটি বাজার আলোকিত হবে, একটি বরফ কল চলবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি, ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ ছিল না। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সব কাজ থেমে যেত। তারা বাড়িতে চলে যেত। এখন সেখানে গেলে দেখবেন, আমার প্রকল্পের মাধ্যমে সব জায়গায় আলো জ্বলছে। রাত ১০টা-১১টা পর্যন্ত মানুষ বাজারে আছেন, দোকানে বিক্রি হচ্ছে। নতুন ব্যবসা গড়ে উঠছে। অর্থনীতির চাকা ঘুরছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছাচ্ছে। এটুকুই চেয়েছিলাম আমি—মানুষের জীবনমান যেন বদলে যায়, তারা যাতে আলোকিত জীবনযাপন করতে পারে। ’


মন্তব্য