kalerkantho


মানের ব্যাপারে আমরা আপসহীন

বিদ্যুত্ব্যবস্থা নিয়ে কৃতিত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭-১৮ সালের জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারদের সবচেয়ে বড় সংগঠন আইইইইর ডিসটিংগুইশড লেকচারার হয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রিজওয়ান খান। এক যুগেরও বেশি সময় তিনি ইউআইইউর উপাচার্য হিসেবে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হয়েছেন মুতাসিম বিল্লাহ নাসির

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মানের ব্যাপারে আমরা আপসহীন

কিভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তুলেছেন?

শুরু থেকেই আমি শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি, গবেষণার প্রতি জোর দিয়েছি। এ জন্য তহবিল জোগাড় করেছি।

ভালো মানের গবেষণার জন্য বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানেই আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে গবেষণা করি। আমাদের কাজের পরিধি এত ব্যাপক যে এ খাতে আমাদের কাজের কথা জানেন না—এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিরল। শুরু থেকেই আমি শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে চলেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর শিক্ষাবৃত্তি দেয়। প্রতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়া হয়।

 

শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি বা নম্বর প্রদানে কতটা স্বচ্ছতা আছে?

স্বচ্ছতা আমাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য। সাধারণত এ দেশে পাবলিক বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর চাইলেও কোনো শিক্ষার্থীকে তার খাতা দেখতে দেওয়া হয় না। তবে আমাদের এখানে যেকোনো শিক্ষার্থী চাইলে তার খাতা দেখতে পারে, সেটি পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ আছে।

সে জন্য শিক্ষকের সহযোগিতা না পেলে সে সরাসরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে, অভিযোগ জানাতে পারে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিই। মানের ব্যাপারে আমরা আপসহীন। সে জন্য ছাত্র-ছাত্রীরা পাস করে ভালো ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারে। তাদের মধ্যে লিডারশিপ গড়ে তোলার জন্য বহু প্রগ্রাম চালু আছে, ক্লাব আছে।    

 

স্বচ্ছতা?

এটি আমাদের আরেকটি বড় বিষয়। আমাদের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য কোনো খাতে খরচ করার সুযোগ নেই। বোর্ড মেম্বাররা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো টাকা নেন না। গত ১৩ বছরে আমাদের কোথাও কোনো অনিয়ম খুঁজে পাবেন না। এখানে সব কিছুতেই স্বচ্ছতা আছে। সেই নিয়মকানুন যেমন আমাকে মেনে চলতে হয়, তেমনি একজন সাধারণ ছাত্রের বেলায়ও সেটি খাটে। আমরা উন্মুক্ত দ্বার নীতি গ্রহণ করেছি। ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী যে কেউ যেকোনো সময় আমার সঙ্গে দেখা করতে পারে। আমার কোনো ব্যক্তিগত সচিব নেই। শিক্ষক নিয়োগ বা ছাত্র ভর্তিতে কোনো তদবির খাটে না।    

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

গবেষণার জন্য আমরা বিদেশ থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ ডলারের প্রকল্প জোগাড় করেছি। এ ছাড়া দেশের ভেতরে এটুআই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরো তিন-চার কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ পেয়েছি। আমাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে গত বছর প্রায় দেড় কোটি টাকা গবেষণা খাতে বরাদ্দ করেছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে গবেষণা খাতে বছরে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমাদের পরিচালনা পর্ষদ অনেক বেশি ছাত্রবান্ধব। তারা নানাভাবে সমর্থন ও সাহায্য করে।


মন্তব্য