kalerkantho


এক যুগ পেরিয়ে ইউআইইউ

মানসম্পন্ন লেখাপড়া শেখানোর জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা আছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ)। প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে যেতে না যেতেই সেরা হওয়ার গল্পটি মুতাসিম বিল্লাহ নাসিরকে শোনালেন সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান আবু সাদাত। এই বিশেষ আয়োজনের ছবি তুলেছেন তারেক আজিজ নিশক

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



এক যুগ পেরিয়ে ইউআইইউ

২০০৩ সালে মাত্র দুটি অনুষদ এবং ৭৬ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যে ক্যাম্পাস যাত্রা শুরু করেছিল, এখন সেখানে পড়ছেন অন্তত ছয় হাজার ছাত্র-ছাত্রী। গেল ১৩ বছরে পাঁচ হাজার ২০০ ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন বিষয়ে পাস করে কর্মজীবনে সাফল্য দেখাচ্ছেন। এসব কিছুর পেছনে আছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) কর্তৃপক্ষের শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রচেষ্টা। সে জন্য তারা এখানে ভালো ভালো শিক্ষক নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানোর জন্য দুই শতাধিক শিক্ষক আছেন। তাঁদের মধ্যে বুয়েট ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ২৬ জন শিক্ষক আছেন। ক্লাসরুমগুলোও খুব আধুনিক। সব শ্রেণিকক্ষেই মাল্টিমিডিয়া আছে। পুরো ক্যাম্পাসই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। আর কিছুদিনের মধ্যে ধানমণ্ডির দুটি ক্যাম্পাস ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয় চলে যাবে ঢাকার বাড্ডার ইউনাইটেড সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে। তখন ২৫ বিঘা জমির বিশাল ক্যাম্পাসে পড়ালেখা করতে পারবেন ছাত্র-ছাত্রীরা।

সেখানে ভবন তৈরির কাজ চলছে।

এখন তাঁরা পড়ছেন ধানমণ্ডি-১৫-এর প্রধান ক্যাম্পাসে। তাঁদের জন্য স্নাতক পর্যায়ে ছয়টি বিশেষায়িত বিভাগ আছে। সেগুলো হলো—ব্যবসায় প্রশাসন, বিবিএ ইন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, অর্থনীতি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং। এ ছাড়া কিছুদিনের মধ্যে ইংরেজি, ফার্মাসি ও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং চালু করা হবে। স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে আছে—এমবিএ, একজিকিউটিভ বা ইভনিং এমবিএ, অর্থনীতিতে মাস্টার্স, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও কম্পিউটার সায়েন্সে এমএস ডিগ্রি নেওয়ার সুবিধা।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান ভালো বলে জানালেন সাবেক ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীরা। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাবেক ছাত্রী তিথী তাসনুভা বলেন, ‘শিক্ষকরা আমাদের স্বনির্ভর হতে শিখিয়েছেন। প্রতিটি বিষয়ে খুঁটিনাটি বিশ্লেষণের দক্ষতা তৈরি করে দিয়েছেন। এসব কারণে আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভালো ভালো পদে কাজ করছি। ’ সাবেক ছাত্র মুহাম্মদ আলী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাক্রম উন্নত, লেখাপড়ার পদ্ধতি ভালো, বিশাল লাইব্রেরিতে অসংখ্য বই আছে। অনলাইন লাইব্রেরিও আছে। ল্যাবগুলো মানসম্পন্ন। ফলে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পেরেছি। সেটিই এখন চাকরিজীবনে কাজে দিচ্ছে। ’

মানসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ গবেষণা করা—এ কথাগুলো জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘আমাদের এখানে আছে অনেক গবেষণাগার। আরো আছে সার্কিট ল্যাব, ফিজিক্যাল ল্যাব, কেমিস্ট্রি ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, মেশিন অ্যান্ড পাওয়ার সিস্টেম ল্যাব, কমিউনিকেশন ল্যাব, ডিজিটাল ডিজাইন ল্যাব, মাইক্রোপ্রসেসর ল্যাব ও ইলেকট্রনিকস ল্যাব। এ ছাড়া আছে এইমস ল্যাব। এই ল্যাবটি অন্ধ বা বিকলাঙ্গদের জন্য নতুন অ্যাপস ও ডিভাইস তৈরি করে। ল্যাবের পরিচালক খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা নতুন প্রযুক্তি তৈরি ও প্রতিবন্ধীদের কাছে নানা ধরনের প্রাযুক্তিক সুবিধা পৌঁছে দিতে বিজনেস মডেল তৈরি করি। এটুআইয়ের অর্থায়নে অটিজম স্ক্যানিং ডিভাইস বানিয়েছি। ফলে কোনো শিশু অটিজমে আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা করা যাবে। এখন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় দরিদ্র শিশুদের স্বাস্থ্যগত সুবিধা দেওয়ার জন্য গবেষণা করছি। ’

শুধু নিজেদের ছাত্র-ছাত্রীই নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেশাদার জনগোষ্ঠী তৈরির জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। যেমন ইউআইইউর ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (আইবিইআর) ব্রিটেনের দ্য চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব লজিস্টিক অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের (সিআইএলটি) সঙ্গে যৌথভাবে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করেছে। এই কোর্সের আওতায় লজিস্টিক, সাপ্লাই চেইন বিল্ডিং ও ট্রান্সপোর্ট মার্কেটের জন্য পেশাদার জনগোষ্ঠী তৈরি করা হচ্ছে। দেশে শুধু এ বিশ্ববিদ্যালয়েই এ কোর্সটি পড়ানো হয়। ২৪ সপ্তাহের কোর্সের ক্লাস হয় শুক্র ও শনিবার।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের (বিএইচআরএম) মাধ্যমে গবেষণা, কনসালট্যান্সি ইত্যাদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২২ সপ্তাহের এই কোর্সের নাম ‘ডিপ্লোমা ইন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’। এটি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি। সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস হয়। এমন আরো অনেক প্রশিক্ষণকেন্দ্র আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো সেন্টার ফর আইটি প্রফেশনালস (সিডিআইপি)। সিডিআইপিতে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে মোট আটটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করা হয়। এসব কোর্স করে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রগ্রামার, ওয়েব ডেভেলপার, গ্রাফিকস ডিজাইনার, গেম ডেভেলপার হন। গত এক বছরে প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মডার্ন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, স্টাডি কর্নার, নামাজ ঘর, জিমনেশিয়াম, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন এবং মেয়েদের আলাদা কমনরুম আছে।


মন্তব্য