kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বছরজুড়ে নানা আয়োজনে

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজকে কালচারাল মেডিক্যাল কলেজ বলা হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে জড়িয়ে আছেন এই কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। সে গল্প শোনাচ্ছেন নূপুর দেব

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বছরজুড়ে নানা আয়োজনে

অন্য মেডিক্যালগুলোর চেয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনেক বেশি হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি এসব কার্যক্রমে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সুনামও অনেক আগে থেকে আছে।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সুভাষ মজুমদার বললেন, “আমাদের কলেজে এত বেশি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম হতো যে নব্বইয়ের দশকে অনেককে বলতে শুনেছি—কলেজের নাম ‘চট্টগ্রাম সাংস্কৃতিক মেডিক্যাল কলেজ’ রাখলে ভালো হয়। ” তিনি তাঁর সময়ের ছাত্রদের সম্পর্কে বললেন, “২৮ ব্যাচের বি এম আতিকুজ্জামান সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে ‘সড়ক নাম্বার দুঃখ, বাড়ি নাম্বার কষ্ট’ নামে একটি কবিতার বই বের করেছিলেন। তিনি ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। ভালো আবৃত্তি করেন। গ্যাস্ট্রোস্ট্রোলজির চিকিৎসক ও কবি আতিক এখন ফ্লোরিডায় থাকেন। নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদের ছেলে মোশতাক আহমদ আন্তমেডিক্যাল বিতর্কে উপস্থিত বক্তৃতায় প্রথম হয়েছিলেন। তিনি প্রবন্ধ লিখতেন, আবৃত্তি করতেন। তিনিও এখন আমেরিকায়। ” কলেজে পড়ার সময় যেসব প্রতিভা ছিল, সেগুলোর চর্চা এখনো ধরে রেখেছেন কলেজের চিকিৎসকরা। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ দত্ত গজল গান। প্যাথলজির ডা. জিল্লুর রহমান শিল্পকলা একাডেমিতে কবিতা আবৃত্তি করেন। কার্ডিওলজিস্ট ডা. সন্দীপন দাশ তবলাবাদক, রেডিওলজিস্ট ডা. শর্মিলা বড়ুয়া আধুনিক গান করেন, ইএনটির ডা. মুজিবুল হক খান, সার্জারির ডা. নূর হোসেন ভূঁইয়া, বায়োকেমিস্টির ডা. নজিবুন নাহার, গাইনির ডা. হোসনে আরা শামা, ডা. রোকসানা, ডা. রাজীব মঞ্জু, ডা. ফরিদা ইয়াসমিনদের কেউ গান করেন, কেউ আবৃত্তি করেন, কেউবা কবিতা ও নাটক লেখেন। তাঁদেরই একজন কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী। ১৯৭৭ সালে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। তখন তিনি কলেজে পড়তেন। স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে চিকিৎসা ও বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখির পাশাপাশি তিনি নাটকও লেখেন। বন্ধুরা এখনো তাঁকে ‘কবি’ নামে ডাকে। পুরনোদের সংস্কৃতিচর্চার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন নতুনরাও। তাঁদেরই একজন আন্তমেডিক্যাল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ জাহান-ই-নূর। ৫৫ ব্যাচের এই ছাত্রী বললেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ সব কিছুতেই আমরা অংশ নিই। এ জন্য আমাদের কলেজকে অন্যরা ‘কালচারাল মেডিক্যাল কলেজ’ বলে। ” ৫৬ ব্যাচের বর্ষানাথ বললেন, ‘সারা বছর অনুষ্ঠান হয় বলে আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভালো। ক্যাম্পাসে বিষণ্ন হয়ে কাউকে ঘুরতে দেখিনি কখনো। ’ এসব কাজে তাঁরা একে অন্যকে যেমন সহযোগিতা করেন, তেমনি লেখাপড়ায়ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে বললেন ২০১৬ সালে এমবিবিএস প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা মিশওরা রহমান, ‘বড় ভাইয়া-আপুরা পড়াশোনাসহ সব ব্যাপারে খুব সাহায্য করেন। তাঁদের সাহায্য ছাড়া আমার এ অর্জন সম্ভব হতো না। ’ তাঁর কাছ থেকেই জানা গেল, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৪টি সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় প্রথম ১১ জনের ১০ জনই এই মেডিক্যালের ছাত্রছাত্রী।

এখানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় এবং সে কমিটি বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সরকারি মেডিক্যালগুলোর মধ্যে একমাত্র এখানেই কেবল সাহিত্যের বই নিয়ে লাইব্রেরি আছে। সেটির নাম ‘চমেকসু সাহিত্য লাইব্রেরি’। তাতে আছে পাঁচ হাজার বই। এটি ছাত্র সংসদ পরিচালনা করে। এ ছাড়া সংসদের সাহিত্য বিভাগের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবছর জাতীয় বিতর্কে অংশ নেন এবং সাফল্য বয়ে আনেন। তিনবার তাঁরা ইংরেজি বিতর্কে রানার-আপ হয়েছেন। ২০১৪ সালে আন্তমেডিক্যাল বিতর্কের আয়োজক ছিল এই ক্যাম্পাস। ২০১৪ ও ১৫ সালে পরপর দুবার তাঁরা রানার-আপ হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্র সংসদ সাহিত্য-সংস্কৃতি সপ্তাহ পালন করে। গেল বছর এই সপ্তাহে তিনটি দল—জাগরণ, প্রলয় ও দুর্বার অংশ নিয়েছে। তারা নাচ-গান-আবৃত্তি ইত্যাদি পরিবেশন করেছে। পরে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভোটে বিজয়ী হয়েছে জাগরণ, দ্বিতীয় প্রলয় আর দুর্বার হয়েছে তৃতীয়।


মন্তব্য