kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে জীবন মেডিক্যালের

পড়াশোনার রুটিনটাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারলে মন্দ হয় না। ব্যতিক্রম মেডিক্যালের পড়াশোনা। এখানকার রুটিনটা কমবেশি একই। বেশির ভাগ সময়ই ডুবে থাকতে হয় পড়াশোনায়। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীর লাইফস্টাইল নিয়ে জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



যে জীবন মেডিক্যালের

বন্ধুত্বই যেখানে মন ভালো রাখার একমাত্র রসদ ছবি: আহাদুল করিম খান

লেখাপড়া নিয়ে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের আসলে অভিযোগ নেই। তাঁরা মেনে নিয়েছেন, বিষয়টি যখন মানুষের স্বাস্থ্য ও সেবা নিয়ে—তাই জানতে হবে সবই।

ভুল কিছু শেখা চলবে না। মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রীরা মজা করে পড়াশোনাকে বলে ‘মরো-বাঁচো বই সাথে’। তবে ব্যক্তিগত জীবনেও কিছু ম্যানেজ করে চলেন ছাত্রছাত্রীরা। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী তামান্না জাহিদ তন্দ্রার মতে, মেডিক্যাল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বন্ধুত্ব। ‘এই বন্ধুত্বটাই আমাদের সব কিছু ভুলিয়ে দেয়। আমরা একসঙ্গে আড্ডা দিই, সুখ-দুঃখের কথা ভাগাভাগি করে নিই। পড়াশোনার চাপ তাতে কিছুটা কমে বৈকি। ’

তন্দ্রা গান করেন, জাতীয় শিশু পুরস্কার ২০০৫ সালে স্বর্ণপদক পেয়েছেন ছড়াগানে। ২০০৬ সালে লালনগীতিতে দ্বিতীয়। এত কিছু একসঙ্গে! বললেন, ‘মেডিক্যালে ভর্তির পর নিয়মিত চর্চার সুযোগ পাই না। তবে যখনই গাইতে ইচ্ছা করে, বন্ধুরা মিলে ছাদে বসে গাই। আর কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো আছেই।

তন্দ্রা আরো ভালো করে গান শিখতে চান। পরিকল্পনা করছেন এ বছরেই ছায়ানটে ভর্তি হবেন।

যাঁরা এবার পরীক্ষা দেবেন, তাঁদের জন্য শুভকামনা রেখে তন্দ্রা বলেন, ‘ডাক্তার হতে চাইলে ত্যাগের মনোভাব নিয়েই আসতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের শখ বা প্রতিভার প্রতি যেন বেশি অবিচার না করা হয়। ’

পারিবারিক এটা ওটা কিভাবে ম্যানেজ হয়? এর জবাবে একই কলেজের নূরে আলম সিদ্দিকী তাঁর একটি দিনের গল্প বলেন। ‘সেদিন আমার সন্তানসম্ভবা বোন ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি ছিলেন। সকালে দুটি ক্লাস করে দুপুরে হাসপাতালে যেতে হলো। বিকেলে আবার এলাম। রাতে হাসপাতাল থেকে জরুরি ডাক। তাই রাত ৯টায় আবার যেতে হয়। গিয়ে দেখি, বাবু চলে এসেছে পৃথিবীতে। তবে তাকে রাখতে হবে এনআইসিইউতে। ব্যস, নিয়ে গেলাম। পাহারায় বসলাম মধ্যরাত পর্যন্ত। সেখান থেকে জানলাম বাচ্চাকে রাখতে হবে ইনকিউবেটরে। সেখানেও নিয়ে যাওয়া হলো, বারডেম হাসপাতালে। সেদিন রমজানও শুরু হয়। মেডিক্যালের ক্যান্টিনেই সেহরি খাই। সিঁড়ির নিচে পাটি পেতে কিছুটা ঘুমও দিয়েছিলাম। এরপর সকালে ফজরের নামাজটা পড়ে আরো কিছুক্ষণ থেকে পরে ক্লাসে চলে আসি। ’ এত কিছু সামলেও যে পরদিনের ক্লাসটা ধরতে পারা যায়, সেটাই জানা গেল আলমের গল্পে।

তিনি আরো বলেন, ‘লেখাপড়ার চাপ যতই থাকুক, পারিবার তো আগে। চাপের বিষয়টি তারাও বোঝে। সব কিছু ম্যানেজ করে চলতে শিখতে হবে। ’

ডাক্তার হতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বলেন, মেডিক্যালে নাকি শুরুর দিকে এত বেশি চাপ থাকে যে মনে হয় ছেড়ে পালাই। তবে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের স্বর্ণা কুণ্ডু জানান, তিনি সব ম্যানেজ করে চলছেন। গত বছর ভর্তি হন। স্বর্ণার কাছে পরিবার ও বন্ধুত্ব এখনো সবার আগে। এই তো সেদিন বন্ধুর জন্মদিন ছিল, এর মধ্যে ছিল পরীক্ষা আর পড়ার চাপও। অনেকক্ষণ ধরে আড্ডা দেওয়া না হলেও বন্ধুর জন্মদিনটি কিন্তু ঠিকই পালন করেছেন। তিনি মনে করেন মেডিক্যাল এমন একটি জায়গা যেখানে পড়ার চাপের অজুহাত দিয়ে আপনি চাইলে দরজা বন্ধ করে সারা দিন পড়েও কাটিয়ে দিতে পারেন। আর একটু চতুরতার সঙ্গে সব কিছু ম্যানেজ করতে জানলে জীবন একেবারেই সহজ।

তিনি মনে করেন, ‘একটা প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে, আমাদের প্রতিযোগিতায় নামতে হয় না। ৬০ পেয়েছো তো পাস। ফলে বন্ধুত্ব থাকে অটুট। আর এই বন্ধুত্বই ব্যস্ত সিলেবাসে মন ভালো রাখার রসদ। ’


মন্তব্য