kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টিফিন আওয়ার

তুমিই আগে স্যরি বলো

বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়ার কোনো আগামাথা নেই। হুটহাট টুকটাক ঝগড়া লাগবেই। তবে সেই ঝগড়া যেন বড় কোনো বাগড়া বাধাতে না পারে, তার আগে বলে দাও স্যরি। যে আগে বলবে, জিতবে সে-ই! —ফারাহ নাজ মুন

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ক্লাসের প্র্যাকটিক্যাল খাতায় লাল রং দিয়ে বন্ধু মিনি কোনো কারণ ছাড়াই ঝিলির অনুপস্থিতিতে লিখে রাখল ‘মন চাইল তাই লিখলাম’। লেখাটা দেখার পর থেকেই ঝিলির প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ।

লেখার ভাষার জন্য নয়। একটা পরীক্ষার কাজে কিভাবে এত প্রাণের বন্ধু এ রকম করল, সেটাতেই ঝিলির বিস্ময়।

এরপর কিছুদিন গেল। প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ঝিলি লক্ষ্য করল, তাদের আগের গ্রুপটাকে এড়িয়ে অন্য গ্রুপের সঙ্গে মিনির সখ্যতা বাড়ছে দিন দিন। এ নিয়ে সবার সঙ্গেই মনোমালিন্য। শেষমেশ মিনি আগের গ্রুপের সবার সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিল। কিন্তু পরীক্ষা ঘনিয়ে আসতেই বুঝতে পারে ভুল। কারণ সব সময়ই পরীক্ষার সময় ঝিলির সঙ্গেই তার গ্রুপ স্টাডিটা জমত বেশ। ভাবতে লাগল এবার কী করবে? কিভাবে কথা বলবে? স্যরি বা ক্ষমা চাওয়া—সেটাই বা কিভাবে! বেশ বিব্রতকর অবস্থা। এ অবস্থায় মিনি ঠিক করেই ফেলল সাহসের কাজটা করবেই করবে। সোজা গিয়ে ‘স্যরি’ বলল ঝিলিকে। ঝিলিও হেসে বলল, ইটস ওকে।

মনোবিজ্ঞানী পরমা প্রীতি মালিক বললেন, সহপাঠীর সঙ্গে রাগারাগি হলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। গ্রুপে এমন হলে রাগারাগি বেশিদূর গড়ানোর আগেই মিটমাট করা উচিত। আর যদি হয়েই যায়, তবে ঝগড়ার পর নিজেকে কিছু প্রশ্ন করা যেতে পারে। যেমন : আমার জন্য ওই বন্ধুটি কী কী করেছিল? প্রিয় বন্ধুটির কোন দিকগুলো ভালো সেগুলো চিন্তা করলেও খারাপ লাগার ভাবটা কমে আসবে এবং দ্রুত ঝগড়া মিটে যাবে। এ ছাড়া বন্ধুটির সঙ্গে তুমি যা করেছ, সেটা তোমার সঙ্গে হলে কেমন লাগত সেটাও ভাবতে হবে। আবার ওই বন্ধুটির সঙ্গে কথা না বললে কত দিন তোমার ভালো লাগবে বলে মনে করছ, সেটাও ভাবো।

এবার একটা গল্প বলা যাক। এক শিষ্য গুরুর কাছে এলো অনেক দুঃখ নিয়ে। শিষ্য বলল, ‘গুরু, আমি হুটহাট মানুষের ওপর রেগে যাই। পরে মন খারাপ হয় খুব। কী করতে পারি?’ গুরু বললেন, ‘এক কাজ করবি, যখনই মেজাজ চড়বে, গিয়ে ওই কাঠে পেরেক মারবি একটা করে। ’ এই বলে গুরু একটা কাঠের বেড়া দেখিয়ে দিলেন। এদিকে শিষ্য রাগে আর গিয়ে একটা করে পেরেক ঠোকে কাঠে। মারতে মারতে পুরো কাঠ পেরেকে ভর্তি। আর জায়গা নেই একটুও। তখন আবার গেল সেই গুরুর কাছে। ‘গুরু, কী করব এবার?’ গুরু বললেন, ‘এবার পেরেকগুলো তোলা শুরু কর। যতবার কারোর ওপর রাগ করবি, একটা করে পেরেক তুলবি। ’ অনুগত শিষ্য রাগে আর পেরেক তোলে। তুলতে তুলতে কাহিল হয়ে পড়ল। তারপর ফের গেল গুরুর কাছে। গুরু জিজ্ঞেস করলেন, ‘কেমন লাগে?’। ক্লান্ত শিষ্য বলল, ‘রাগ তো কমে না। ’ গুরু বললেন, ‘পেরেক তোলার পর কাঠটার দিকে তাকিয়ে দেখিছ? কী দেখলি?’ শিষ্যের উত্তর, ‘শুধু ফুটো আর ফুটো। ’ গুরু হেসে বললেন, ‘মনে রাখবি, যার ওপর রাগ করেছিস, তার মনেও এমন দাগ পড়ছে। স্যরি বললেও তা সারে না। আর যত বেশি দাগ পড়বে, সেটা মোছাও তত কঠিন হবে। ’

এখন ক্ষমা চাওয়ার প্রচলন নেই বললেই চলে। সে জন্য উপায়গুলো বাতলে দিলেন মনোবিজ্ঞানী পরমা।

‘কিছু সময়ের জন্য দুজনেই আলাদা থাকো। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করো। তারপর সোজা গিয়ে স্যরি বলে ফেলো। যে আগে বলবে মনে করবে সে-ই জিতে গেলে। ’


মন্তব্য