kalerkantho


আহা, কত স্মৃতি!

রঙের খেলা, আড্ডা, খাওয়াদাওয়া আর গান-গল্পে কেটেছে তাঁদের র‍্যাগ ডে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ২০তম ব্যাচের সেই স্মরণীয় দিনের গল্প শোনাচ্ছেন বিভাগের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মনসুর

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আহা, কত স্মৃতি!

রং মেখে, সঙ সেজে বিভাগের সামনে আমরা সবাই ছবি : আরিফুর রহমান

নানা জায়গা থেকে পড়তে এসেছি আমরা। কেউ ঢাকা, কেউ রাজশাহী আবার কেউ বা অন্যান্য এলাকা থেকে এসেছি। আমি যেমন এসেছি কক্সবাজার থেকে। চারটি বছর একসঙ্গে, বিপদে-আপদে, হাসি-গানে, আড্ডায় কাটিয়েছি। ক্লাস-লেখাপড়ার এই দিনগুলো এখন শেষ হতে চলেছে। অনার্সের চার বছর শেষ। আছে মাস্টার্সের একটি বছর মাত্র। ফলে সবাই মিলেই পরিকল্পনা করলাম, জম্পেশ একটি শিক্ষা সমাপনী উৎসব করব। টি-শার্ট কেনার জন্য যখন মার্কেটে মার্কেটে ঘুরেছি, নানা স্মৃতি এসে ভিড় করেছে। কোনো একটি টি-শার্ট কিনছি, পাশ থেকে বন্ধু জিজ্ঞেস করল—এটা কে পরবে রে, মনসুর? বললাম। সঙ্গে সঙ্গে হাসির তোড়ে ভেসে গেলাম, ও যেমন মোটা, গায়ে লাগবে তো? কী আর করা! বদলে নিতে হলো।

এভাবেই আমাদের আয়োজনগুলো চলছিল। আমরা রং কিনেছি, ভুভুজেলা বাঁশি কিনেছি, শোভাযাত্রার ব্যানারও করেছি। শিক্ষা ভবন-ডির সামনের রাস্তায় লিখেছি বিভাগের নাম। সত্যি বলছি, তখন আমার চোখের কোণে জল জমে গিয়েছিল। আহা, কত স্মৃতি!

অন্য সব আয়োজনের মতো এখানে কাউকে বলে দিতে হয়নি, ঠিক টাইমে আসিস। ১ সেপ্টেম্বর সকাল হতেই দেখি, একে একে চলে এসেছে সবাই। আমরা সবাই সমাজবিজ্ঞানে পড়ি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-১১ সেশনের ছাত্রছাত্রী। আর আমাদের ব্যাচটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ২০তম ব্যাচ।

সেদিন সকালে সবার গায়েই সাদা টি-শার্ট। একটু পরেই মার্কার কলম দিয়ে যে যার পাশের জনের টি-শার্টে নানা ধরনের মন্তব্য লিখতে শুরু করল। একজনের গায়ে লেখা হলো—‘এই মোর জীবন!’ আরেকজন নেত্রকোনার ভাষায় কথা বলে দেখে লেখা হলো ‘নেত্রকোনা’। এরপর শুরু হলো আমাদের শোভাযাত্রা। সেখানে সঙ্গে ছিলেন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন। শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ফারুক উদ্দিন, আল আমীন। অন্য ব্যাচের কিছু ছেলেমেয়েও সঙ্গী হয়েছিল এই যাত্রায়। ইচ্ছামতো নেচেছি, ব্যান্ডের তালে তালে গান গেয়েছি, ঘুরেছি পুরো ক্যাম্পাস। ঘোরাঘুরি শেষ করেছি আমাদের ভবনের সামনে এসে।

এরপর স্মৃতি ধরে রাখার পালা। স্যাররা হাসিমুখে আমাদের সঙ্গে ছবি তুললেন। বিশাল কেক কাটা হলো। একে অন্যের মুখে কেক লাগিয়ে দিলাম। সবাই তখন হাসছিল। পরে বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা হলো। জসিম উদ্দিন স্যার বললেন, ‘আমরা তোমাদের এই ধরনের অনুষ্ঠান করতে উৎসাহিত করি। এই আনন্দ ভাগাভাগির ক্ষণে তোমাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আমাদেরও ভালো লাগছে। ’ তারপর ক্যাম্পাসের এখানে-সেখানে ঘোরাঘুরি, গল্প, আড্ডা জমেছে। এই ফাঁকে আমাদের নামগুলো অন্তত বলে নিই—কলি, জাহিদ, তুহিন, মঞ্জুরুল, মোশাররফ, আজমির, এনামুল, আদনান, নজরুল, সেলিম, আতিক, শুভ, দীপঙ্কর, জাহিদ, জিতেশ, নাদিম, কামরুল, মিতালি, তৌহিদ, তানিম, জুয়েল, নীলাদ্রি, মিমি, তানিয়া, জেবিন, সুজন, অন্তিক, তুলি, টনি, শাশ্বতী, শতাব্দী, মাহি, শিরিন, দিতি, নিগার, শাফি, মুক্তা, আফসানা, মৌসুমী, মুমু, নূপুর, অনুকা, টুম্পা, কনক আর রাজন।

একসময় নানা কথার ফাঁকে আমাদের সবার মনের কথা বলে দিল বন্ধু মুক্তি—‘কিভাবে যে চার-চারটি বছর চলে গেল, টেরই পেলাম না। সেই দিনগুলো কোনো দিন ফিরে পাব না জানি, কিন্তু আজ সেসব স্মৃতিকেই তো খুঁজে ফিরছি। ’ তোফায়েল শুধু বলল, ‘এই দিনটি মনে রাখব সারা জীবন। ’ সারা দিন ক্যাম্পাসে ঘোরা আর আড্ডা শেষে রাতে ছিল গ্র্যান্ড ডিনার। এরপর আরো কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটিয়ে আমরা যে যার হলে বা বাসায় ফিরেছি। আরেকটি কথা না বললেই নয়—সুন্দর এই আয়োজনের পেছনে অনেকের অবদান ছিল। তবে আলাদা করে আলী, আবীর, ইমন আর আহসানের কথা বলতেই হবে। ওরা দিন নেই, রাত নেই, যখনই দরকার হয়েছে, সবার আগে চলে এসেছে, সবচেয়ে বেশি খেটেছে।


মন্তব্য