kalerkantho

উট অর্ণব

উট জেতার পরে সেটি ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে কোরবানি দেওয়া হয়েছিল। ভিসি থেকে শুরু করে সব স্যারের বাসায় গেছে মাংস। এরপর থেকে তাঁকে লোকে উট অর্ণব নামে চেনে, তাঁদের ব্যাচকে বলে উট ব্যাচ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাশহারুল হকের উটের কাহিনী শোনাচ্ছেন নাবিদ হাসান

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



উট অর্ণব

উদ্ভট অফারের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ট্রাকে করে উট নিয়ে সারা খুলনা ঘুরেছিল মোজো। নিরালাতে যেদিন এই অফারের প্রচার চলল সেদিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ের ছাত্র মাশহারুল হক অর্ণবও ছিলেন।

সুযোগ হাতছাড়া না করে উটের সঙ্গে সেলফিও তুলে ফেললেন। মোজো থেকে জানানো হলো, এসএমএস পাঠিয়ে উট জেতা যাবে। পরে সুসংবাদ এলো—নেক্সট রাউন্ডে গিয়েছেন। বাবার অফিস এমনকি বাসাও ঘুরে দেখল মোজো। ঈদের তিন-চার দিন আগে এলো জয়ের খবর। মোজো টিম বাড়ি এসে বলল, শিববাড়ী মোড়ে হাতে উট তুলে দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে খবরটি দিয়ে অনেককে ট্যাগ করলেন তিনি। একের পর এক অভিনন্দনে ভেসে গেলেন। খবরটি বন্ধুদের জানাতেই ওরা গাল ফোলাল, আগে বললে তো সেলিব্রেট করতে পারতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আশরাফুল হককে নিয়ে উট আনতে গিয়ে দেখেন—বিশাল প্যান্ডেলের ভেতরে উট রাখা আর চারদিকে কয়েক শ মানুষ অবাক হয়ে উট দেখছে, আলোচনা চলছে। জানা গেল, রাজস্থানের এই উটের দাম আট লাখ। উটের দৌলতে জীবনের প্রথমবারের মতো সময় টিভিতে সাক্ষাৎকারও দিলেন তিনি। সকাল, দুপুর উট নিয়ে সারা শহর ঘুরে বাড়িতে এলেন। সেদিনই সিদ্ধান্ত হলো, ঈদের পরদিন ক্যাম্পাসে উট কোরবানি দেওয়া হবে। সব ব্যাচমেটকে নিমন্ত্রণ করা হলো। বাসায় অবশ্য গরু কোরবানি হলো। সুমাইয়া, রিয়া, মুনতাসির বন্ধুদের ব্যস্ত হয়ে ফোন করতে লাগল। বাড়িতে তখন নানা এলাকা থেকে মানুষ উট দেখতে আসছে। তবে গোল বাধালেন আশরাফ স্যার, তিনি বললেন, ক্যাম্পাসে কোরবানি দিতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এদিকে স্যাররা অভিনন্দন জানাচ্ছেন একের পর এক। ঈদের পরদিন স্যার, বন্ধুদের নিয়ে উটের মিছিলে ক্যাম্পাসে গেলেন। তার আগেই অনুমতি নেওয়া হলো। ক্যাম্পাসে উট কোরবানি হলো। মোজোর লোকেরাই মাংস কেটে দিল। স্যারদের বাসা, ক্যাম্পাসের আশপাশে, এলাকার বাড়িতে বাড়িতে মাংস পাঠানো হলো। এমনকি ভিসি স্যারের বাসায়ও বন্ধু মুুন্নিকে নিয়ে মাংস দিয়ে এসেছিলেন। তিনি বললেন, তোমার উট জেতার কাহিনী নিয়ে সবাই ফোন করছে। পরে এসে পুরো গল্পটি বলে যাবে। আমার বাসায় খাবে।

এরপর থেকে বন্ধুরা তাঁকে উট অর্ণব নামেই ডাকে। তাঁদের ১৩তম ব্যাচকে চেনে উট ব্যাচ হিসেবে। আর তাঁদের বাসাকে বলে উটওয়ালা বাড়ি। একদিন রিকশায় আসার সময় রিকশাওয়ালা বাসা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বাসার সামনে এসে তিনি বললেন, উটওয়ালা বাড়িতে যাবেন—আগে বললেই তো হতো। একটানে নিয়ে আসতাম।


মন্তব্য