kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ইভ টিজিং প্রতিরোধী জুতো!

ইভ টিজাররা সাবধান! বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির পাঁচ ছাত্রী মিলে তৈরি করেছেন ইভ টিজিং প্রতিরোধী জুতো! ছাত্রীদের পায়ে থাকা বিশেষভাবে তৈরি এ জুতোয় শায়েস্তা হবে বখাটেরা। বগুড়া থেকে জানাচ্ছেন লিমন বাসার

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইভ টিজিং প্রতিরোধী জুতো!

স্কুল-কলেজের আসা-যাওয়ার পথে প্রায় প্রতিদিনই ইভ টিজিংয়ের শিকার হয় ছাত্রীরা। দেশের বেশির ভাগ মেয়ে যখন ইভ টিজিং সমস্যা মোকাবিলা করার উপায় খুঁজছে, তখন বগুড়ার কয়েকজন ছাত্রী মিলে তৈরি করেছে ইভ টিজিং প্রতিরোধী জুতো! ছাত্রীদের পায়ে থাকা বিশেষভাবে তৈরি এ জুতোয় শায়েস্তা হবে বখাটেরা।

তবে এ জন্য যেকোনোভাবে উত্ত্যক্তকারীর দেহে জুতোটির স্পর্শ লাগাতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক শক খেয়ে কুপোকাত হবে বখাটে উত্ত্যক্তকারী।

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির পাঁচ ছাত্রী মিলে তৈরি করেছেন এই জুতো।

দলের সদস্যরা হলেন—সাদিকা জাহান, সিনথিয়া সরকার, তানিয়া আখতার, রাজিয়া রিমি ও নুসরাত। বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই জুতোয়।

এই জুতো কিভাবে কাজ করবে, তার ব্যাখ্যায় দলের সদস্য সিনথিয়া সরকার বলেন, ‘সাধারণ জুতোয় ছোট একটি ট্রান্সফরমারের সঙ্গে তামার দুটি তার দিয়ে ব্যাটারির সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর একটি সুইচের মাধ্যমে নেগেটিভ ও পজিটিভ তার একত্র করে বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম প্রযুক্তির মিশেল ঘটানো হয়েছে। স্কুল-কলেজের নির্দিষ্ট জুতোতেই এই প্রযুক্তি লাগানো যাবে। এক পায়ে থাকবে এই প্রযুক্তি, উত্ত্যক্তকারীকে শায়েস্তা করতে আরেক পায়ের জুতো দিয়ে ছোট্ট সুইচটি অন করতে হবে। এরপর কৌশলে প্রযুক্তি লাগানো জুতোর সঙ্গে উত্ত্যক্তকারীর শরীরের স্পর্শ লাগাতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড শক খেয়ে কুপোকাত হবে ইভ টিজার। ’

দলনেতা সাদিকা জাহান বলেন, ‘স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসার পথে ছাত্রীদের উত্ত্যক্তকারী বখাটেদের শায়েস্তা করতে পুলিশ-র‌্যাব বা অন্য কাউকে প্রয়োজন হবে না। বখাটেদের শায়েস্তা করবে ছাত্রীদের পায়ে থাকা ইভ টিজিং প্রতিরোধী জুতো। ’

কিভাবে এই উদ্ভাবনের চিন্তা মাথায় এলো? সাদিকার উত্তর, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইভ টিজিংয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মাথায় এই উদ্ভাবনের চিন্তা আসে। এরপর উদ্ভাবনী ভাবনা নিয়ে স্যারদের সঙ্গে কথা বলি। স্যাররাও উৎসাহ দেন। কয়েক মাসের প্রচেষ্টার পর উদ্ভাবনটি আলোর মুখ দেখে। ’

কলেজের শিক্ষক ফারুক আহম্মেদ উৎসাহ ও পরামর্শ দিয়ে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সহযোগিতা করেছেন। বিশেষ জুতো কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে ক্লাসের ছেলে বন্ধুদের ইভ টিজার সাজিয়ে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা করেছে দলের সদস্যরা। ইভ টিজার সাজতে গিয়ে বন্ধুরাও সত্যিই শক খেয়ে কুপোকাত!

সিনথিয়া সরকার জানান, তাঁদের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির জুতো তৈরি করতে প্রয়োজন হবে রিচার্জেবল ব্যাটারি আর কিছু ইলেকট্রনিকস যন্ত্রাংশ। ওজন প্রথম দিকে কিছুটা ভারী হওয়ায় তাঁরা গবেষণা করে আরো হালকা করেছেন। এখন পায়ে দিয়ে স্বাভাবিক জুতার মতোই যে কেউ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে। চার্জ শেষ হয়ে গেলে যেকোনো মোবাইল চার্জার দিয়ে রিচার্জ করা যাবে।

সম্প্রতি কলেজের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলায় ইভ টিজিং প্রতিরোধী এই জুতা উপস্থিত দর্শক ও সাধারণ ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করে। তাঁরা এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে চান দেশের সব স্কুল ও কলেজের মেয়েদের কাছে।


মন্তব্য