kalerkantho

বুধবার । ১৮ জানুয়ারি ২০১৭ । ৫ মাঘ ১৪২৩। ১৯ রবিউস সানি ১৪৩৮।


২০১৮ সালের পর এক দিনেরও সেশনজট থাকবে না

কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডভিত্তিক ইউরোপ বিজনেস অ্যাসেম্বলির ‘সেরা ব্যবস্থাপক’-এর পুরস্কার। নানা বিষয়ে কথা বলেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ

৩০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



২০১৮ সালের পর এক দিনেরও সেশনজট থাকবে না

অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। ছবি : কাকলী প্রধান

কিভাবে পরিচালিত হয় এত বড় বিশ্ববিদ্যালয়?

২০১৩ সালের ৬ মার্চ যোগদান করার পর দেখলাম এটি একটি বিশাল সমুদ্র। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস বাংলাদেশব্যাপী। গাজীপুরে কেন্দ্রীয় অফিস থেকে এটি পরিচালিত হয়ে আসছে গতানুগতিক পদ্ধতিতে। একটি বড় সমস্যা সেশনজট। আমি তখন দুটি বিষয় স্থির করলাম—একটি হলো এর বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। আরেকটি হলো সেশনজট দূর করা; এটিকে এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করলাম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু কর্মকাণ্ড এখন আঞ্চলিক কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে। সেশনজটও দূর হওয়ার পথে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি। উপাচার্য হিসেবে আপনি পেয়েছেন ‘সেরা ব্যবস্থাপক’ পুরস্কার—

বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্ভাবনী কৌশলের প্রয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে আমাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আমি পুরস্কারের চেয়ে কাজটাকেই বড় করে দেখি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেহেতু আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত, এটার দেখাশোনা করা, এটাকে গতিশীল করা আমার দায়িত্ব। আমি যখন যে পদে বসি, দায়িত্ব নিয়েই বসি। কোনো দায়িত্ব নিয়ে যদি উন্নতি করতে না পারি, তাহলে সে পদে বসে লাভ কী?

অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেনশিক্ষকদের ডাটাবেজ করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ই-ফাইলিং। কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত বা ভালো মানের পাঠ্যপুস্তক নেই। এ জন্য আমরা বই কিনে দিচ্ছি। পাঠ্যপুস্তক রচনার জন্য হাতে নেওয়া হচ্ছে প্রকল্প। চালু করা হয়েছে কল সেন্টার ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস। সিলেবাস, কোর্স কারিকুলাম আপটুডেট করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটকে আমরা নতুন করে তৈরি করেছি। এটি এখন আপটুডেট ও তথ্যসমৃদ্ধ। প্রতিবছর দুটি জার্নাল বের হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সমাচার নামে একটি ত্রৈমাসিক প্রকাশনাও আছে।

ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছেনআমরা প্রায় ১০০ ধরনের পরীক্ষা প্রতিবছর নিয়ে থাকি। এই পরীক্ষাগুলোও নিতে হবে, আবার সেশনজটও কমাতে হবে। আমরা ৮-৯ মাস গবেষণা করে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ তৈরি করেছি। এটি একটি একাডেমিক ক্যালেন্ডার। ক্লাস কত দিন হবে, ফরম ফিলাপের সময়, পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়সূচি—সবটা আমরা ক্র্যাশ প্রোগ্রামে বলে দিচ্ছি এবং সারা দেশের কলেজ ও শিক্ষার্থীদের দিয়ে দিচ্ছি। এর ফলে সবাই জানে, কোন পরীক্ষা কখন হবে। সকালে ক্লাস, বিকেলে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আমরা নিয়ম করে দিয়েছি, কোনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে তিন মাসের বেশি সময় নেওয়া যাবে না।

এটির সুফল কতটা পাওয়া যাচ্ছে?

২০১৩-১৪ সেশনের ছাত্রছাত্রীদের কোনো সেশনজট নেই। তারা ২০১৮ সালে বের হয়ে যাবে। এটা একটা বড় ধরনের অগ্রগতি। এই প্রোগ্রাম অনুযায়ী ২০১৮ সালের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রছাত্রীর এক দিনেরও সেশনজট থাকবে না।

ক্র্যাশ প্রোগ্রাম কত দিন চলবে?

ক্র্যাশ প্রোগ্রাম মানেই হলো অনেক কিছু সংকোচন করা। হয়তো অনেকেরই কষ্ট হবে। তবে এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। ২০১৮ সালের পর যখন কোনো সেশনজট থাকবে না, তখন আর এটির প্রয়োজন হবে না।

আইটিনির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেসব এখন অনলাইনেই হচ্ছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে ওএমআর পদ্ধতি। কলেজ থেকে সব পরীক্ষার নম্বর পাঠানো হয় অনলাইনে। শিক্ষার্থীদের আগে রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্রের জন্য গাজীপুরে আসতে হতো। এখন অনলাইনের মাধ্যমে তারা তা পেয়ে যান এলাকায় বসেই। ভর্তি কার্যক্রম ও ফল প্রকাশ অনলাইনে করা হয়। শিক্ষকদের ডাটাবেজ করা হয়েছে। সোনালীসেবার মাধ্যমে এখন তাঁদের অ্যাকাউন্টে সম্মানির টাকা চলে যায়। এজন্য গাজীপুর আসতে হয় না। ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে এখন পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য ডাটাবেজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কাউকে কম কাউকে বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেওয়ার সুযোগ আর নেই। ফলে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।

প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন২৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমাবর্তন হয়নি। প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ আমরা শুরু করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট অধিবেশন ছিল অনিয়মিত। ৫-৬ বছর পর একবার হতো। আমি ২০১৩ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিবছর একবার নয়, দুবার নিয়মিত সিনেট অধিবেশন হয়ে আসছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ভার্চুয়াল ক্লাসরুম চালু হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে বসে যে লেকচার দেওয়া হবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও সে ক্লাস করা যাবে। শিক্ষার্থীরা যাতে মোবাইলেই সব কনটেন্ট পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করারও পরিকল্পনা আছে। সব কলেজকে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের আওতায় এনে নিবিড় কানেক্টিভিটি রচনা আমাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা। এ ক্ষেত্রেও বেশ অগ্রগতি হয়েছে।


মন্তব্য