kalerkantho

26th march banner

সবার সেরা ফাইরুজ

৪ মার্চ হয়ে গেল ন্যাশনাল আর্থ অলিম্পিয়াড। চ্যাম্পিয়ন হন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের ছাত্র ফাইরুজ ইশরাক। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন নাদিম মজিদ

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সবার সেরা ফাইরুজ

গত বছর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সময় শুনেছিলেন বাংলাদেশে প্রতিবছর আর্থ অলিম্পিয়াডের কথা। তখন থেকেই আর্থ অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন ফাইরুজ ইশরাক। অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন হয় আন্তর্জাতিক মানের। বইপত্রও আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে রেফারেন্স হিসেবে ন্যাশনাল অলিম্পিয়াড কমিটি উইকিপিডিয়ার ‘হাই স্কুল আর্থ সায়েন্স’ টপিকস রেফারেন্স দিয়ে থাকে। ডিভিশনাল রাউন্ডের পরীক্ষা হয় ২৬ নভেম্বর। পরীক্ষায় ভালো করায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হন। ৪ মার্চ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে বসে জাতীয় পর্ব। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়া ৭০ জনের মধ্যে এ পরীক্ষা হয়। চ্যাম্পিয়ন হন ফাইরুজ। ‘সারা দেশের বাছাইকৃত তরুণদের মধ্য থেকে প্রথম হয়েছি। বিষয়টি ভাবতে কেমন জানি লাগছিল। কারণ এবারই প্রথম আমি আর্থ অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছি। ’

আর্থ অলিম্পিয়াডের প্রশ্ন হয় ১০০ নম্বরের। ৭৫ মার্কস এমসিকিউ, ২৫ মার্কস লিখিত। পৃথিবীসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় এতে। ফাইরুজ পেয়েছে ৯৩ নম্বর।

ফাইরুজ পড়ছেন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজে ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে। এর আগে ২০১৫ সালে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেল, ২০১৪ সালে জুনিয়র গ্রুপে অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে রানার্স-আপ, এ বছর বিসিএসআইআর আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় তাঁর দল প্রথম হয়। ফাইরুজ ও একই কলেজের অরুণিমা বড়ুয়ার প্রজেক্টটি ছিল খাদ্য সংরক্ষণ করে অ্যান্টিবায়োটিক উত্পাদনের। এটি বায়োলজি ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়।

২০১৪ সালে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত পোস্টার ড্রয়িং প্রতিযোগিতায় তাঁর পোস্টার চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৩ সালে দৃষ্টি আয়োজিত স্কুল ডিবেট প্রতিযোগিতায় বেস্ট ডিবেটর হয়েছিলেন। ফাইরুজ বলেন, ‘আমি পাঠ্য বইয়ের পড়াশোনা এবং অন্যান্য পড়াশোনার জন্য সময় ভাগ করে রাখি। ’

বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হয়েছে নানা অভিজ্ঞতা। ‘গত বছর এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিযোগীরা এসেছিল। দুই সপ্তাহের ক্যাম্পে কয়েকজন রাশিয়ানের সঙ্গে সখ্য গড়ে উঠেছিল। তারা বাংলা শিখতে চাইল। বাংলা বাক্য ও শব্দগুলো ইংরেজিতে রূপান্তর করে তাদের শেখাতে হতো। যাওয়ার সময় তারা আমাদের ধন্যবাদ দিয়েছিল। ’

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় পরিবারের সহযোগিতা পেয়ে আসছেন। অবসরে বই পড়েন এবং বাস্কেটবল খেলেন। ভবিষ্যতে অ্যাস্ট্রোফিজিকস নিয়ে পড়াশোনা করতে চান ফাইরুজ।

 

অংশ নিতে চাইলে

অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আর্থ অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পারে। আর্থ অলিম্পিয়াডের ডিভিশনাল রাউন্ড হয় ডিসেম্বরে। আঞ্চলিক পর্বের জন্য www.byei.org/neo ওয়েবসাইটে গিয়ে আর্থ অলিম্পিয়াডের রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। অথবা আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ আর্থ এনভায়রনমেন্টাল ইনিশিয়েটিভের স্বেচ্ছাসেবীদের কাছে ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া যায়। ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চ মাসের শুরুতে ন্যাশনাল রাউন্ড হয়ে থাকে। বিজয়ীদের মধ্য থেকে পাঁচজন নির্বাচিত হন আন্তর্জাতিক আর্থ অলিম্পিয়াডের জন্য। এ বছর বিজয়ীরা জাপানে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক আর্থ অলিম্পিয়াডে অংশ নেবে।


মন্তব্য