kalerkantho

সোমবার । ১৬ জানুয়ারি ২০১৭ । ৩ মাঘ ১৪২৩। ১৭ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ফটোগ্রাফারের দল

দলটি নতুন। কিন্তু তারাই ক্যাম্পাসে ছবি তোলাকে জনপ্রিয় করে তুলছে। আর এরই মধ্যে তারা ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসা নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটির । আরো অনেক স্বপ্নের কথা শোনাচ্ছেন শাহীন আখতার

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফটোগ্রাফারের দল

ক্যামেরার সামনে একসঙ্গে বসে আছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শখের ফটোগ্রাফাররা

অবসরে বিশাল, সুন্দর, ক্যাম্পাসের এখানে সেখানে ছবি তুলে বেড়ান ছাত্র-শিক্ষকরা। পরে নিজেদের তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। ব্যাপারটি নজরে পড়ল জিকরুল হাকিমের। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশুপালন অনুষদে দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন। গেল বছরের মার্চে ‘অ্যামেচার ফটোগ্রাফারস অব বাউ’ নামের একটি ফেসবুক পেইজ খুলে ফেললেন তিনি। উদ্দেশ্য, সবার ছবি একটি পেইজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। সেই থেকে শখের আলোকচিত্রীদের সেখানে ছবি আপলোড করা শুরু হলো। তবে পেইজের লাইকের দিকে নজর রাখতে থাকলেন জিকরুল ও তাঁর বন্ধুরা। সবচেয়ে বেশি লাইক পাওয়া ছবিগুলো নিয়ে তাঁরা গেল বছরের সেপ্টেম্বরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের মুক্তমঞ্চে প্রথম আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করলেন। সেখানে ২৮ জন আলোকচিত্রীর মোট ৭০টি ছবি স্থান পেয়েছিল। ক্যাম্পাসে এই প্রদর্শনীটি সাড়া ফেলে দিয়েছিল। অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিলেন। শিক্ষকরা পরিবার নিয়ে নিজেদের, ছাত্রদের তোলা ছবি দেখেছেন। তখন জিকরুলের মনে হলো, এসব আলোকচিত্রীকে একটি ছাতার নিচে আসা খুব দরকার। সে ভাবনাটিই সাইফুর রহমান, মনিফুদ্দোজা সম্রাট, সাদিক খান, খালেদ মাহমুদসহ আরো অনেকের সঙ্গে শেয়ার করলেন। তাঁরাও খুব উৎসাহ দিলেন। সাহায্য-সহযোগিতা করতে নিজে থেকেই এগিয়ে এলেন। এভাবেই ক্যাম্পাসের ফটোগ্রাফারদের ক্লাবটি গড়ে তোলার কাজটি শুরু হলো।

এরপর সবাই মিলে ছবি তোলেন এমন সব শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলেন। সবার আগে ক্রপ বোটানি বিভাগের অধ্যাপক সোলাইমান আলী ফকিরের কাছে গেলেন তাঁরা। তিনিও পাশে থাকবেন বলে জানালেন। এরপর তাঁরা দেখা করলেন ডেইরি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. সোহেল রানা সিদ্দিকীর সঙ্গে। তাঁকে সঙ্গে পাওয়ার পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম জাকির হোসেনের সঙ্গে আলাপ হলো। তিনিও সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন। এসবেরই ফল হিসেবে গেল বছরের বিজয় দিবসে ‘ফ্রেমে ফ্রেমে জীবনের গল্প’—এই স্লোগানে যাত্রা করল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি [বাকৃবিফসো]।

এই সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ও সদস্য জিকরুল হাকিম জানালেন, এ পর্যন্ত তাঁরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে তিনটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী করেছেন। প্রথমটি ৫ জানুয়ারি, পরেরটি পহেলা ফেব্রুয়ারি। সর্বশেষটি হয়েছে ভালোবাসা দিবসে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে করা এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তাঁরা কেবল ভালোবাসার ছবিগুলোই তুলে ধরেছেন। এই ছবিগুলোর কোনো কোনোটি সত্যিকারের প্রেমের গল্প। কোনো কোনোটিতে মডেল আছেন। তবে তাঁরা সবাই সানন্দে ছবি দিতে রাজি হয়েছেন। ক্যাম্পাসেও খুব ভালো সাড়া পড়েছিল।

কোনো এক ছুটির দিনে ক্যামেরা কাঁধে নিয়ে বাকৃবিফসোর বন্ধুরা সবাই মিলে বের হন। একে অন্যের সঙ্গে ছবি নিয়ে আলাপ করেন। কখনো কোনো বিশেষ বিষয় নিয়ে সবাই ছবি তোলেন। ক্লাবের সদস্যরা হলেন—খালেদ মোহাম্মদ সাদ, আজহারুল বারী, সাইফুর রহমান, সাদিক খান, আবির মাহমুদ, হাসান আল বান্না, শিশির মোহন্ত, মনিফুদ্দোজা খান, সাদিকুর রহমানসহ অনেকে।

ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে ক্লাবের সভাপতি ড. সোহেল রানা সিদ্দিকী বললেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফটো আর্কাইভ গড়ে তুলব। ’ আর সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ সাদ জানালেন, নতুন আলোকচিত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন তাঁরা।


মন্তব্য