kalerkantho


বিতর্কে সহযাত্রী

৩১টি দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। এই দলের তিন বিতার্কিকের গল্প শোনাচ্ছেন নাবিদ আহমেদ। ছবি তুলেছেন আশকার আমিন রাব্বি

১৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিতর্কে সহযাত্রী

তাসনিম আবেদিন, হাসনাত কালাম ও রাকিবুল হাসান

অবশেষে চ্যাম্পিয়ন হলেন তাঁরা। গেল বছর ৯টি টুর্নামেন্টে রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ফলে এবার অর্জনের খাতাটি ভরতে পেরে খুব খুশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্ক সংগঠন সাস্ট স্কুল অব ডিবেটের তিন বিতার্কিক হাসনাত কালাম, রাকিবুল হাসান এবং তাসনিম আবেদিন। এই সাফল্যের রহস্য কি—এই প্রশ্নের জবাবে প্রথমে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো হাসনাতের বুক চিরে। এরপর বললেন, ‘আসলে চাপই খেয়ে ফেলছিল। এবার চাপ না নিয়ে আমরা বিতর্ক করতে গিয়েছি। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে হবে শুনেই মনে হয়েছে চেনা ভেন্যু। ফলে বাড়তি টেনশন ছিল না। প্রতিটি রাউন্ডে আমরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলাম। ’ রাকিবুল বললেন, ‘আমাদের বোঝাপড়া খুব ভালো। অনেক দিন ধরে একসঙ্গে বিতর্ক করছি বলে সবার মধ্যে আস্থার মনোভাব তৈরি হয়েছে। জানি কে কোন জায়গায় ভালো, কে কখন সেরাটি দেবে। ’ কে কোথায় ভালো সেই তথ্যটি দিলেন তাসনিম, ‘হাসনাত ভাই যেকোনো বিষয়বস্তু খুব ভালো করে বিশ্লেষণ করতে পারেন, তাঁর পড়ালেখাও খুব ভালো। রাকিবুল ভাইও যেকোনো কিছু খুব সহজে ব্যাখ্যা করতে পারেন। ’ হাসনাত জানালেন, ‘আমাদের কৌশল কী হবে, প্রতিপক্ষের যুুক্তি কিভাবে খণ্ডাতে হবে সেটি তাসনিমের মাথা থেকেই বের হয়। আমি আর রাকিবুল তথ্যের জোগান দিই, বিশ্লেষণ করি। তাসনিম আমাদের এই কাজের শুরু করে দেয়। সেই তো প্রথম মঞ্চে ওঠে। ’ তারা তিনজন সাস্টের তিনটি দায়িত্ব পালন করছেন। রাকিবুল চলতি কমিটির সাধারণ সম্পাদক, হাসনাত সহসভাপতি, তাসনিম বিতর্ক পরিচালক [বাংলা]। ও বলা হয়নি, হাসনাত লোকপ্রশাসন চতুর্থ বর্ষ, রাকিবুল তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল চতুর্থ বর্ষ আর তাসনিম রসায়ন তৃতীয় বর্ষে পড়েন।

এবারের প্রতিযোগিতায় সারা দেশের ৩২টি দল অংশ নিয়েছে। ৪ ও ৫ মার্চ ইন্টার ইউনিভার্সিটি ন্যাশনাল ডিবেট কম্পিটিশন নামের এই প্রতিযোগিতার আয়োজক ছিল সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ। এবার দ্বিতীয় হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

রাকিবুলের বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিভাগের সিনিয়র বিতার্কিক এ এস শাকুরের হাত ধরে।   তবে হাসনাত স্কুল থেকেই বিতর্ক করেন। লেখালেখি, আবৃত্তি, কুইজও করেছেন অনেক। তাঁর এই সৃজনশীলতার প্রেরণা তাঁর মা। তিনি হাসতে হাসতে বললেন, ‘মায়ের কারণেই অন্তর্মুখী স্বভাবের হয়েও বিতর্ক করে চলেছি। তিনি সব সময় সাহস দিয়ে চলেছেন। ’ তাসনিমের শুরুটি কলেজে। শুরুর দিকে যে ছেলে সহবিতার্কিকদের সঙ্গে পেরে উঠত না এখন সে ধারাবাহিক অনুশীলন, অধ্যবসায়ের ফলে দেশের অন্যতম সেরা বক্তা। এই প্রতিযোগিতাতেই তো ফাইনালের সেরা বক্তা হয়েছেন তিনি। বিতর্কের প্রভাব কেমন ব্যক্তিগত জীবনে—এই প্রশ্নের জবাবে একটি কমন উত্তর পাওয়া গেল, বিতর্কের মাধ্যমে তৈরি আত্মবিশ্বাস, নিজেকে প্রকাশের শিক্ষা, বোঝানোর ক্ষমতা এবং যেকোনো বিষয়ে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারার দক্ষতা সারা জীবন কাজে লাগবে। এ ছাড়া বিতর্ক আমাদের মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা, যুক্তিবোধের জন্ম দিয়েছে। কেবল ক্যাম্পাসেই নয়, তারা সিলেট ডিবেট ফেডারেশনের [এসডিএফ] হয়ে পুরো সিলেটে বিতর্কচর্চা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে চলেছেন। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সিলেটের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।


মন্তব্য