নওয়াব ইনস্টিটিউশনের শতবর্ষপূর্তি-333704 | ক্যাম্পাস | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


আয়োজন

নওয়াব ইনস্টিটিউশনের শতবর্ষপূর্তি উৎসব

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নওয়াব ইনস্টিটিউশনের শতবর্ষপূর্তি উৎসব

টাঙ্গাইলের মধুপুর সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ধনবাড়ী জমিদার বাড়ির পাশেই ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত ভবনে ১৯১০ সালে যাত্রা শুরু করে এ বিদ্যায়তন। ১৯৩৮ সালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে আরো নতুন ভবন তৈরি করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১০৬ বছরে পা দিয়েছে। দেরিতে হলেও গেল ২৩ ফেব্রুয়ারি জাঁকজমকের সঙ্গে পালন করা হয় ইনস্টিটিউশনের শতবর্ষপূর্তি। সকালে বের করা হয় বিশাল শোভাযাত্রা। ইনস্টিটিউশনের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গুণীজন এতে অংশ নেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি।

উপজেলা পর্যায়ের একটি বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ পালন অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি উদ্বোধন করেছেন—এ রকম ঘটনা খুব একটা নেই। ঐতিহ্যবাহী ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশন সেই সুযোগটি পেয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ বিদ্যাপীঠের শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে নতুন রূপে সেজেছিল এ প্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতে আদিবাসী সাংস্কৃতিক সংগঠন ও টাঙ্গাইলের স্থানীয় শিল্পীরা নেচে-গেয়ে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে পরিবেশন করা হয় একটি গীতিনাট্য।

লিখিত ভাষণের বাইরেও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মন খুলে কিছু কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর যে তিনি আগের মতো কথা বলতে পারেন না, স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন না—এসব আক্ষেপের কথাও জানান।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আগ্রহ। দশম শ্রেণির ছাত্রী নূর-ই-জান্নাত বলে, ‘এত বড় মানুষ আমাদের ইনস্টিটিউশনে আসবেন শুনেই অবাক হয়েছি। এটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার।’

একই শ্রেণির ছাত্র আরাফাত কবির বলে, ‘রাষ্ট্রপতিকে শুধু টেলিভিশনেই দেখেছি। এবার সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেলাম।’

বিকেলে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সংগীতশিল্পী আরফিন রুমী, কর্নিয়া, সাগর বাউল, সুজন আরিফসহ জেলার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন মঞ্চস্থ হয় ইনস্টিটিউশনের সাবেক ছাত্র কাজল কুমার বর্ধন রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘ক্যারফা ডাক্তার’।

স্মৃতিচারণা পর্বে অংশ নেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব পরিচালনা করেন ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন শিক্ষার্থী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম শাহীন।

বিদ্যাপীঠটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক সাইদুল ইসলাম জানান, ইনস্টিটিউশনে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক হাজার ৮০০। শিক্ষক ও স্টাফ রয়েছেন ৪০ জন। এলাকার শিক্ষা প্রসারে এ ইনস্টিটিউশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে চলেছে। ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় এ ইনস্টিটিউশন থেকে ১৩৫ জন অংশ নিয়ে ৩৮ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। পাসের হার শতভাগ।

মন্তব্য