kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমার ক্যাম্পাস : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস

অন্য এক ক্যাম্পাসের গল্প

বিশাল এক ক্যাম্পাসে নানা বিষয়ে আধুনিক শিক্ষা নিচ্ছেন ছেলেমেয়েরা। আছে দক্ষ শিক্ষক, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, বিশাল লাইব্রেরি। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস ঘুরে এসে জানাচ্ছেন মুতাসিম বিল্লাহ নাসির। ছবি তুলেছেন তারেক আজিজ নিশক

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অন্য এক ক্যাম্পাসের গল্প

মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ এসউপি, পিএসসি, পিএইচডি

ধূমপানমুক্ত, নয়নাভিরাম এই ক্যাম্পাসটি মিরপুর সেনানিবাসে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে [বিইউপি] শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস আছে।

প্রধান ভবনে প্রবেশ করেই চোখে পড়ে ক্যাফেটরিয়া। সেটির পাশেই লাইব্রেরি, তাতে শিক্ষার্থীরা বসে পড়ছেন। বিইউপির প্রতিটি ক্লাসরুমে আসনসংখ্যা ৪৩টি। বিইউপির গণসংযোগ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর জানালেন, প্রতিটি ক্লাসরুমের পাশে কম্পিউটার ল্যাব আছে।

বিশাল এক ক্যাম্পাস

২০০৮ সালের ৫ জুন যাত্রা শুরু করে করে ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস [বিইউপি]। একমাত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়েই একসঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হয়। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, আধুনিক বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এখানে। ১৪ একরের বিশাল ক্যাম্পাস এলাকায় ১৪ তলা একটি অ্যাকাডেমিক ভবন তৈরি হচ্ছে, এর মধ্যে ছয়তলার কাজ শেষ, বাকি অংশের কাজ চলছে। প্রশাসনিক ভবনও আছে। মাস্টার প্ল্যান অনুসারে সেখানে শিক্ষকদের কোয়ার্টার, কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার তৈরি হচ্ছে। আরো থাকছে ছাত্র হল, শিক্ষা ভবন, গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশাল অডিটরিয়ামসহ সব আয়োজন।

যুগের উপযোগী নানা বিষয়

শুরু হয়েছিল বিবিএ-এমবিএ দিয়ে। হাঁটিহাঁটি পা পা করে বিইউপিতে এখন পাঁচটি অনুষদ—বিজনেস স্টাডিজ, সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ, মেডিক্যাল সায়েন্স, ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট। অনুষদগুলোর অধীনে ১৩টি বিভাগে অনার্স লেভেলে ইংরেজি, বিবিএ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, লোক প্রশাসন ও আইন পড়ানো হয়। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্রছাত্রীদের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের অনার্স ডিগ্রি দেওয়া হয়। তাদের বিষয়গুলো বিশেষায়িত। যেমন মেডিসিন, সার্জারি, মেরিটাইম সায়েন্স, শিক্ষা, নার্সিং, নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ এসউপি, পিএসসি, পিএইচডি বললেন, ‘প্রকৌশল, চিকিৎসা ও সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে সামরিক বাহিনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ২১টি অনার্স, ৯টি মাস্টার্স, ৫টি এমফিল ও ১২টি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি সার্টিফিকেট প্রদান করে বিইউপি। ’ তিনি আরো জানালেন, ‘আমরা নিজেরা পিএইচডি, এমফিল, ব্যবসা প্রশাসনে মাস্টার্স, ইভিনিং এমবিএ, মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, মাস্টার্স ইন ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট, মাস্টার্স ইন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকশন টেকনোলজি, মাস্টার্স ইন ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি ও মাস্টার্স ইন পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিগ্রি প্রদান করি। ’

ছাত্রছাত্রীদের গল্প

এসব বিভাগে পড়ছে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে ৩২৬ জন বিদেশি। বছরে দুবার এখানে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। বিভাগীয় লেখাপড়ার বাইরে তারা আরবি, বার্মিজ, চীনা, ফরাসি, রাশিয়ান ও তুর্কি ভাষা শিখতে পারে। এ পর্যন্ত বিইউপি থেকে মোট ছয় হাজার ৭০৯ জন ছাত্রছাত্রীকে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে।

আছে নানা বৃত্তি

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও মেধার ওপর ভিত্তি করে নানা ধরনের বৃত্তি প্রদান করছে বিশ্ববিদ্যালয়। ২১ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে ‘বিইউপি স্টাইপেন্ড’ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ‘সিএএস স্টাইপেন্ড’ তিনজন, ‘ব্যুরো বিডি’ শিক্ষাবৃত্তি পাঁচজন, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামাল’ শিক্ষাবৃত্তি একজন ও ‘ওসমানী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ শিক্ষাবৃত্তি পান ১৬ জন ছাত্রছাত্রী। এসবের বাইরে কৃতী শিক্ষার্থীদের চ্যান্সেলরস মেরিট স্কলারশিপ, চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল ও ভাইস চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল দেওয়া হয়। আছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান স্কলারশিপ ও শিক্ষাবৃত্তি।

লাইব্রেরির কথা

বিইউপির বিশাল লাইব্রেরিতে বিভিন্ন বিষয়ের বই ছাড়াও নির্বাচিত বইয়ের সমাহার আছে। তবে অন্য লাইব্রেরির সঙ্গে এটির পার্থক্য, এখানে অনলাইনে বই পড়ার সুবিধা আছে। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজের মতো বিশ্ববিখ্যাত প্রকাশনার সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ ই-বুক আকারে আছে। সেগুলো ছাত্র-শিক্ষকরা ১২টি ই-সাবসক্রিপশনের মাধ্যমে পড়তে পারেন। লাইব্রেরির আলাদা ওয়েবসাইটও আছে। তাঁরা যাতে সহজে ওয়েব ব্রাউজিং করতে পারেন সে জন্য সাইবার সেন্টার আছে। বিশেষ সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন লাইব্রেরি খোলা থাকে। এ ছাড়া প্রতিটি ক্লাসরুমে ওয়াই-ফাই আছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠন

ছাত্রছাত্রীদের সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ক্যারিয়ার ক্লাব, কালচারাল ফোরাম, লিটারেচার অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, গ্লোবাল কাউন্সিল ইত্যাদি। ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি তন্ময় জানালেন, এ বছর ক্লাবের যাত্রার শুরুতেই তাঁরা ক্যারিয়ার ফেয়ার করেছেন। তাতে ১৮টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বছরের মাঝামাঝি তাঁরা ক্যারিয়ার ওয়ার্কশপ করবেন, শেষের দিকে দুই দিনের ক্যারিয়ার ফেস্ট করতে চান। লিটারেচার অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাবের ওমর তামিম জানালেন, নানা ধরনের কুইজ, বিতর্ক, প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন তাঁরা। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় ক্যাম্পাসে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করেছেন। বর্ষা উৎসব, সাহিত্যমেলা, আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করবেন। ‘লিটারেচার ফেস্ট’ নামের সাহিত্য আসরটি পাঁচ দিন ধরে আয়োজন করার পরিকল্পনা আছে। সেখানে নানা ধরনের আয়োজন থাকবে। ইকোনমিক কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হলো, অর্থনীতিবিষয়ক লেখালেখিতে আগ্রহীদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতা, অর্থনীতি নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও লেখকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য একটি কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া নিয়মিতভাবে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয় বিভিন্ন ক্লাব ও বিভাগের উদ্যোগে।

হল জীবন

ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য হোস্টেল আছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আছে পারিবারিক আবাসনের ব্যবস্থা। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের জন্য ঢাকা সেনানিবাসে আছে স্টুডেন্ট হোস্টেল। স্পোর্টস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট সজীব জানালেন, মেয়েদের রাত সাড়ে ৯টা ও ছেলেদের সাড়ে ১০টার মধ্যে হলে ফেরা বাধ্যতামূলক। তিনিও হলে থাকেন। সব হলেই ওয়াই-ফাই আছে, খাবারের মানও ভালো।

ছাত্রছাত্রীদের গল্প

বিবিএ সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র ইসমাইল ইশতিয়াক বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন, ধূমপানমুক্ত। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আমরা লেখাপড়া করি। মানও ভালো। যেকোনো পরিকল্পনা খাতা-কলমে বন্দি থাকে না, দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। বিইউপি গ্লোবাল আফেয়ার্সের সভাপতি রানা আজিজ বললেন, শিক্ষক-ছাত্রের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হয়। তাঁরা আমাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সাহায্য করেন। বিইউপির আরেক ছাত্র তন্ময় জানালেন, সেমিস্টারের ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আবেদন করলে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে সহযোগিতা করেন।

ভিসি বললেন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উপাচার্য মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ বললেন, ‘বিইউপির শিক্ষা কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত করা। ’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে আমরা আইন, লোকপ্রশাসন, ইংরেজি, উন্নয়ন অধ্যয়ন ও ব্যবসায় শিক্ষায় অনার্স প্রোগ্রাম চালু করেছি। ’


মন্তব্য