রঙ্গভরা ৩৬ বছর-333696 | ক্যাম্পাস | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


রঙ্গভরা ৩৬ বছর

৩৬ বছর পালন করল জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। ৬ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ১১ দিনের আয়োজন ছিল। শুরু থেকে এখনকার গল্প শোনাচ্ছেন আসাদুজ্জামান

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রঙ্গভরা ৩৬ বছর

‘ট্রেন টু পাকিস্তান’ নাটকের একটি দৃশ্য

পিয়াল ভালো তবলা বাজাতে পারেন। ক্যাম্পাসে ঢোকার পর পরই তাঁর এই গুণের কথা ছড়িয়ে পড়ল। একদিন হঠাৎ গণরুমে চলে এলেন কয়েকজন বড় ভাই। তাঁরা থিয়েটারের জন্য কর্মী খুঁজছিলেন। জানেন, শুরুতে অভিনয় কেউ পারে না, শিখে নিতে হয়। তাই অন্যান্য প্রতিভাও খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন তাঁরা, ‘কেউ গিটার বা অন্য কিছু বাজাতে পারলে চলে এসো।’ তারপর থেকে জড়িয়ে আছেন পিয়াল। অনেক কিছু শিখেছেনও। যেমনটি বললেন মৌ, ‘অভিনয় করতে গিয়ে অনেক আঞ্চলিক ভাষা শিখেছি, নানা এলাকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য জেনেছি।’ 

ঠিক এভাবেই শুরুটি হয়েছিল থিয়েটারের। সেই ১৯৭৯ সালের গল্প। কাইজার আহমেদ তখন পড়তেন পদার্থবিজ্ঞানে। লেখাপড়ার চাপ ভালো লাগত না বলে একটু দম নেওয়ার জন্য অভিনয়ে পা বাড়ালেন। ঢাকা থিয়েটার থেকে রাত-বিরাতে ফিরে আসেন। নিস্তব্ধ ক্যাম্পাসে ফিরতে ফিরতে নানা স্বপ্ন আঁকেন। রঞ্চমঞ্চের গল্প বলে কোনো কোনো দিন চমকে দেন শহীদুজ্জামান সেলিম, ফারুক আহমেদ, শুভাশীষ ভৌমিকসহ আরো অনেক তরুণকে। তাঁরা সবাই মিলে সে বছর আন্তহল প্রতিযোগিতার আয়োজন করলেন। তিনটি হলের ছেলেমেয়েরা যোগ দিয়েছিলেন প্রথম আসরে—মীর মশাররফ হোসেন হলের সেলিম, ফারুক, শুভাশীষ, আমিরুল; আল-বেরুনীর কাইজার, লিটন, নওয়াব ফয়জুন্নেসার ইন্দ্রপ্রভা, শিবলী।

সেই শুরু। আর থামেনি নাটকের চর্চা। জাকসুর [জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ] নাট্য সম্পাদক হুমায়ুন ফরীদির হাত ধরে নাট্য কর্মশালা হলো। বাছাই নাট্যকর্মীদের নিয়ে তৈরি হলো জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। সেই সভাতে তাঁরা যা বলেছিলেন, সেটিই তাদের স্লোগান—‘আমরা নাট্যশ্রমিক, নাটক আমাদের শ্রম ও ঘামের ফসল।’

সেলিম আল দীনের ‘শকুন্তলা’ দিয়ে মুক্তমঞ্চের যাত্রা হলো। সেটি অভিনেতা ফারুকের প্রথম মঞ্চাভিনয়। এই থিয়েটারের সূত্র ধরেই বাংলা বিভাগের অধীনে একসময় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব পড়ানো শুরু হয়। পরে সেটি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ হয়ে ওঠে। 

থিয়েটারকর্মীরা নাটকের মাধ্যমে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান। মেহের চত্বরের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছিল, আবৃত্তি সংগঠন ধ্বনির রিহার্সাল রুমটি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ২০১০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বটতলায় তৃতীয় মাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছিল থিয়েটার। এ পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি নাটক ৩০০-র বেশিবার প্রদর্শনী করেছে তারা। এই নাটকগুলোর অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পেছনের গল্প জানতে হলে যেতে হবে জহির রায়হান মিলনায়তনের ৩ নম্বর রুমে। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা অবধি সেখানে রিহার্সালে ব্যস্ত থাকেন তাঁরা।

নাটকের পাশাপাশি নানা বিভাগে পুরস্কারও প্রদান করে জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার। এ বছর মঞ্চাভিনয়ে আলী যাকের, শিক্ষা ক্ষেত্রে রাশেদা কে চৌধুরীকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। তিন যুগ পূর্তি উৎসব উপলক্ষে প্রবর্তিত আলোককুমার রায় পদক পেয়েছেন নাট্যকার-নির্দেশক রাজন নন্দী, শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সাইদুজ্জামান চয়ন ও বদরুন্নাহার। জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সম্পাদক পার্থপ্রতিম পিয়াল বললেন, ‘এখন আমাদের সাধারণ সদস্য আছেন ৬৯ জন, কার্যকরী কমিটিতে ২৭ জন।’

মন্তব্য