kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিতার্কিকদের সাগরবেলা

নূর-ই-জান্নাত   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বিতার্কিকদের সাগরবেলা

ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের আয়োজনে ১৯ ও ২০ ফেব্রুয়ারি বিতার্কিকদের নিয়ে কক্সবাজারে হয়ে গেল লিডারশিপ ট্রেনিং প্রোগ্রাম-১৬। ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে তরুণ বিতার্কিকরা দেখল কক্সবাজারের নয়নাভিরাম দৃশ্য।

খুব দ্রুত সকালের জলখাবার সেরে সবাই ছুটল লাবণী বিচের উদ্দেশে। তার্কিকরা পথে যেতে যেতে ছড়িয়ে দিচ্ছিল সচেতনতার বাণী। হাতে ব্যানার, কণ্ঠে ‘অমলিন থাকুক নৈসর্গের আধার সাগরের হাসি, পৃথিবীর সুন্দরতম সৈকতকে ভালোবাসি’ স্লোগান। সাগরের সৌন্দর্য দেখার পাশাপাশি চলতে থাকল সচেতনতামূলক কার্যক্রমও। তারা সৈকতে পরিত্যক্ত চকোলেট ও ফলের খোসা, ঝালমুড়ির ঠোঙা, সিগারেটের টুকরা পরিষ্কার করে এবং সৈকতকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে আহ্বান জানায়।

পড়ন্ত বিকেলে বিতার্কিক দল আবারও হাজির সমুদ্রতীরে। বালুকাবেলায় দাঁড়িয়ে তারা উপভোগ করে নয়নাভিরাম সূর্যাস্ত। এরপর কক্সবাজার শহরটাকে ঘুরে দেখা আর কেনাকাটা শেষে রাতে শুরু হলো বারবিকিউ পার্টি। আগুনের পাশে গোল হয়ে বসে সুস্বাদু ভূরিভোজ তো হলোই, পাশাপাশি চলল তরুণদের হাসি-গান আর সম্ভাবনার কথা।

নিশাকর রাত বাড়ার সংকেত দিলেও তরুণদের আয়োজন থামল না। রিসোর্টের ছাদে শুরু হলো লিডারশিপ সেশন। পরিচালনা করেন এনডিএফ বিডির চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব। তিনি নেতৃত্বের জন্য যেসব গুণাবলি থাকা দরকার, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরেন। ছিল মজার মজার সব খেলা। তার্কিকদের সবাই কোনো না কোনো খেলায় অংশ নেয়। বিজয়ীরা জেতে পুরস্কার।

২০ তারিখ সকালে একপাশে সাগরের নীল আর একপাশে পাহাড়ের সবুজকে রেখে তার্কিকরা ছুটল হিমছড়িতে। পাহাড়ের উঁচুতে দাঁড়িয়ে চারপাশের প্রকৃতি স্বর্গীয় সুখের শিহরণ জাগায়। পাহাড় থেকে নেমে সবাই চলে আসে হিমছড়ি ঝরনায়। ঠাণ্ডা পানির স্পর্শ পেয়ে অনেকেই নেমে পড়ে গোসলে। আরো সৌন্দর্যের সন্ধানে এরপর যাত্রা শুরু ইনানি বিচের উদ্দেশে। এখানে ছিল ১০০ মিটার দৌড়, মোরগ লড়াই, বল ছুড়ে টার্গেট হিট, ঝুড়িতে বল ফেলাসহ অনেক খেলা। খেলা শেষে সবাই ছোটে সমুদ্রস্নানে। সাগরের গর্জন আর বিতার্কিকদের উচ্ছ্বাস মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

বিকেলে রিসোর্টে ফিরে আবার শুরু হয় ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের সামাজিক কার্যক্রম। অকালপ্রয়াত মেধাবী চিকিৎসক ও বিতার্কিক ডা. শামারুখ মাহজাবীন শামা স্মরণে আয়োজন করা হয় ‘ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং’-এর। এখানে স্থানীয় অনেক ব্যক্তি তাঁদের রক্তের গ্রুপ জেনে নেন।

সন্ধ্যায় বিতার্কিকরা শেষবারের মতো আবারও উপস্থিত হয় লাবণী বিচে। চাঁদের মায়াবী আলোয় সাগরের গর্জন আর পা ভিজিয়ে দেওয়া ঢেউ তাদের শিহরিত করে। দেখতে দেখতে বিদায়ক্ষণ উপস্থিত। সমুদ্রের উত্তাল গর্জনকে পেছনে ফেলে বাড়ি ফেরার পথ ধরল বিতার্কিকরা, পেছনে রইল সাগরপাড়ের স্মৃতি।


মন্তব্য