kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আয়োজন

পুরনো সেই দিনের কথা

আজিজুর রহমান চৌধুরী   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুরনো সেই দিনের কথা

“১৯৮৩ সালে এসএসসি পাস করে আশেক মাহমুদ কলেজে ভর্তি হই। তখন সামরিক শাসন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল নিষিদ্ধ। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়ি। আমরা কলেজ থেকে আনিছ ভাইয়ের সম্পাদনায় ‘উত্তরণ’ নামে একটি ম্যাগাজিন বের করতাম। সেখানেই আমার প্রথম কবিতা ছাপা হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর প্রকাশিত কলেজ ম্যাগাজিনে লিখতাম। ১৯৮৭ সালে স্নাতক পড়া অবস্থায় যুক্ত হই এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। জামতলায় দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আগুনঝরা বক্তৃতা দেওয়া এবং নেতাদের বক্তৃতা শোনার শিহরণ জাগানিয়া মুহূর্তগুলোর কথা খুব বেশি মনে হয়েছে। ” স্মৃতিচারণা পর্বে পুরনো দিনগুলোয় ফিরে গিয়েছিলেন জামালপুর আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক ছাত্র মানবাধিকারকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম। জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ৭০ বছর পূর্তি উৎসব উপলক্ষে গত ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি স্মৃতি রোমন্থন করে সবাই হারিয়ে গিয়েছিলেন সেই সোনালি দিনগুলোয়।

কলেজ মাঠে আয়োজিত ওই উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা আর অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই জীবনে পরিপূর্ণতা আসে। শিক্ষাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ’

কলেজের অধ্যক্ষ মুজাহিদ বিল্লাহ ফারুকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে। কলেজ ক্যাম্পাস সেজেছিল বর্ণিল সাজে। ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কলেজের শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে, নাচ ও গান। ছিল মোমবাতি প্রজ্বালন, আতশবাজি, ফানুস ওড়ানো।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি বলেন, ‘মাদারগঞ্জ থেকে এসে আশেক মাহমুদ কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। এ কলেজের সঙ্গে আমার জীবনের বহু স্মৃতি জড়িত। তা স্মরণে রেখেই কলেজের ৭০ বছর পূর্তিতে এই মিলনমেলার আয়োজন। ’

জানা গেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনের কথা। ১৯৪০ সালে জামালপুরে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার কর্মকাণ্ড শুরু হলেও অর্থাভাবে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ১৯৪৬ সালে মাদারগঞ্জের আশেক মাহমুদ তালুকদারের কাছে অনুদানের প্রস্তাব এলে সানন্দে গ্রহণ করেন। তিনি তিন কিস্তিতে ৪০ হাজার টাকা দেন। জনশ্রুতি আছে, তখন কাগজের নোটের ব্যাপক প্রচলন না থাকায় তিনি রুপা ও তামার মুদ্রা বস্তা বোঝাই করে গরুর গাড়িযোগে জামালপুর নিয়ে আসেন। নিজের সঞ্চিত টাকায় প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ও হালের গরু বিক্রি করে টাকা দেন। কলেজের নামকরণ করা হয় দানবীর আশেক মাহমুদ তালুকদারের নামে।


মন্তব্য