kalerkantho


আয়োজন

খুদে জ্যোতির্বিদদের অলিম্পিয়াড

২৫ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



খুদে জ্যোতির্বিদদের অলিম্পিয়াড

হয়ে গেল আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড। ১৩ থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনের এ আয়োজনে চ‚ড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হয় ২১ নভেম্বর।

প্রতিযোগীরা ছিল ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী। বিজয়ী হওয়াদের তিনটি ধাপে পরীক্ষা দিতে হয়Ñথিওরি, প্র্যাকটিক্যাল ও অবজারভেশন। অংশ নেওয়া চারটি দেশ-বাংলাদেশ, কাজাখস্তান, রাশিয়া ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম হয়েছে তিনজনÑরাজশাহী কলেজের মো. মাহমুদুন্নবী, কাজাখস্তানের এগিসেভ দামির ও চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ফাইরুজ ইশরাক। দ্বিতীয় পুরস্কার পায় চারজন। কাজাখস্তানের ডোসম্যানবিটোভ নূর সুলতান। শ্রীলঙ্কার রোউয়ান্থা জাইয়াম্যান্নি, কাজাখস্তানের যেমনুখভ ভ্লাদিমির ও কাদিয়ারফ আমির খান। তৃতীয় পুরস্কার পায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও রাশিয়া থেকে একজন করে মোট তিনজন। আর সান্ত্বনা পুরস্কার পায় ১০ জন। অলিম্পিয়াডটি হয় তিনটি ধাপে। প্রথমে দেশের প্রতিটি বিভাগে পরীক্ষা হয়। উত্তীর্ণদের জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া হয় ঢাকায়। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। অন্যান্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে ১০ দিন প্রশিক্ষণের সুযোগ পায় তারা। প্রশিক্ষণের পর সব দেশের প্রতিযোগীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত হয় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

২০১৪ সালের আন্তর্জাতিক জোতির্বিজ্ঞান ও অ্যাস্ট্রোফিজিকস অলিম্পিয়াডে চতুর্থ হয়েছিল এবার প্রথম হওয়া মাহমুদুন্নবী। মাহমুদুন্নবী জানায়, ‘আমার স্বপ্ন হচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক হওয়া। কখন থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে বুঝতে পারিনি। এখন এটাই আমার স্বপ্ন। ’ সঙ্গে হতাশার কথাও জানায় মাহমুদুন্নবী, ‘বাংলাদেশে ছোটবেলা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে কোনো ধারণা দেওয়া হয় না, তাই এ বিষয়ের ওপর অনেকেরই আগ্রহ জন্মায় না। দেশের মানুষ জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে জানেও খুব কম। ’

প্রথম হওয়া আরেক প্রতিযোগী ফাইরুজ ইশরাক জানায়, ‘জীবনে প্রথমবার বাসা থেকে বাইরে। তাও আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায়। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। প্রথম দুই-তিন দিন খারাপ লেগেছিল। এখানে সবার সঙ্গে মেশার পর খুব ভালো লাগছে। অনেক মজা করে দিন কেটেছে। বাসায় ফিরে বন্ধুদের খুব মিস করব। ’

১৭ নভেম্বর ছিল অবজারভেশন রাউন্ড। ১৮ তারিখ গল্প আর আড্ডা। ১৯ নভেম্বর হয় প্র্যাকটিক্যাল। ২০ তারিখ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের পর সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় বিজ্ঞান জাদুঘরে।

আগারগাঁও বিজ্ঞান জাদুঘরের সহকারী অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এখানে আমি ও সুকালিয়ান বাছার মিলে শিক্ষার্থীদের থিওরি এবং প্র্যাকটিক্যালের কিছু বিষয় দেখিয়ে দিয়েছি। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যে অনেক প্রতিভাবান সেটা ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়। ’

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারি অধ্যাপক ও এশিয়ান প্যাসিফিক এস্ট্রো অলিম্পিয়াডের লোকাল অর্গানাইজিং কমিটির প্রকল্প পরিচালক ড. হুমায়রা ফেরদৌস বলেন, ‘এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশে জ্যোর্তিবিজ্ঞান চর্চা প্রসার ঘটবে বলে আমি মনে করি। ’

প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দলে টিম লিডার থাকে। তারা প্রতিযোগীদের গাইড করেছে। বাংলাদেশ দলে ছিল পাঁচ প্রতিযোগী আর দুইজন টিম লিডার। কাজাখস্তান দলে আট প্রতিযোগী দুইজন টিম লিডার, রাশিয়ার একজন প্রতিযোগী এবং একজন টিম লিডার, শ্রীলঙ্কার ছয়জন প্রতিযোগী এবং দুইজন টিম লিডার। ঢাকার আশুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গণে ১৪ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এ অলিম্পিয়াড। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকসান্দর এ নিকোলেভ। তিনি বলেন, ‘কঠিন কঠিন ধাপ পেরিয়ে সবাই এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। প্রতিযোগী কম হলেও এর তাৎপর্য অনেক। ’

মো. শাওন আবদুল্লাহ, ছবি : নাদিম চৌধুরী


মন্তব্য