kalerkantho


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

একদল নাটকপাগল

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটকের দল ‘থিয়েটার সাস্ট’ এ পর্যন্ত ১০৩টি নাট্য প্রদর্শনী করেছে। তাদের গল্প লিখেছেন আব্দুল্লাহ আল মনসুর

২৫ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



একদল নাটকপাগল

ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাবের পরও বিশ্রামের সুযোগ তাঁরা পান না। নাট্যকর্মীরা ছোটেন থিয়েটার সাস্টে।

নতুন নাটকের রিহার্সাল দেন। সব কিছু ছাপিয়ে তখন নাটকই হয়ে ওঠে তাঁদের ধ্যানজ্ঞান। এই করতে করতে এ পর্যন্ত তাঁরা ২৮টি নাটকের ১০৩টি প্রদর্শনী, পাঁচটি নাট্যোৎসব করেছেন। থিয়েটার সাস্ট হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য সংগঠন। ‘নাটক নির্মাণ করে যৌবন, নাটক আনবেই অবিনাশী প্লাবন’Ñএই স্লোগানে ১৯৯৭ সালের ৮ ডিসেম্বর তাদের যাত্রা। উলে­খযোগ্য নাটক হলোÑ‘বেধুয়া’, ‘সোনার হরিণ’, ‘আ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’, ‘মাধব মালঞ্চী কইন্যা’, ‘জলতরঙ্গ’ ইত্যাদি। মৌলিক নাটকের মধ্যে আছে ‘ভাস্কর্য’, ‘আÍকথন’।

কিছুদিন আগে থিয়েটার সাস্ট তাদের ‘বেধুয়া’ নাটকের প্রদর্শনী করল। নাটকের অন্যতম অভিনেত্রী গ্লোরি তালুকদার বলেন, “‘বেধুয়া’ করতে গিয়ে চা শ্রমিকদের ভাষা ও সংস্কৃতি বুঝতে হয়েছে।

সে জন্য খুব কষ্টও করতে হয়েছে। ” শিক্ষকরাও জড়িয়ে আছেন এখানে। উপদেষ্টা হিসেবে আছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজামউদ্দিন, রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জায়েদা শারমিন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কৃষ্ণ বিশ্বাস এবং রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের প্রভাষক শাকিল ভ‚ইয়া। ক্যাম্পাসের বাইরে ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার প্রতীক নাট্য সংস্থার আমন্ত্রণে প্রদর্শন করে ‘আত্মকথন’। এ বছরের ৪ এপ্রিল সিলেটের সম্মিলিত নাট্য পরিষদ আয়োজিত নাট্যোৎসবে পরিবেশন করে ‘আ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’।

সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি নীলিমা ফেরদৌস বলেন, ‘সাস্টের সঙ্গে চার বছর ধরে জড়িয়ে আছি। শুরুতে ছিল কৌত‚হল, এখন এটি আমার দ্বিতীয় পরিবার। ’ সভাপতি আব্দুল আজিজ রিয়াদ বলেন, ‘দেড় যুগের এই সংগঠনে সদস্য ৬৯ জন, কার্যকরী কমিটির সদস্য ২৭ জন। তবে এখনো আমরা মহড়ার জন্য রুম পাই না, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক থিয়েটার হওয়ায় সিলেটের বাইরে প্রদর্শনী করতে পারি না, বড় অনুষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তা পাই না। ’

এসব নিয়ে বলতে গিয়ে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, ‘রুম কম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্ধশতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সবাইকে বরাদ্দ দিতে পারি না। তবে আমাদের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। ’


মন্তব্য