kalerkantho


আমার ক্যাম্পাস : ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ধূমপানমুক্ত, দেয়াললিখন ও পোস্টারিং নিষিদ্ধ

ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের একমাত্র পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় [ডুয়েট] ঘুরে এসে লিখেছেন জামিল মাহমুদ। ছবি তুলেছেন রনিউজ্জামান রাব্বী

২৫ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



ধূমপানমুক্ত, দেয়াললিখন ও পোস্টারিং নিষিদ্ধ

এক বিকেলে ডুয়েটের বন্ধুরা

যশোর পলিটেকনিক থেকে ডিপ্লোমা করে ডুয়েটে ভর্তি হন সুজন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একে একে তিনটি বছর কেটেছে।

প্রথম দুই বছর ক্যাম্পাসের পাশের মেসে থেকেছেন। তৃতীয় বর্ষে উঠে হলে সিট পান। অথচ এখানে ছেলেদের জন্য পাঁচটি আর মেয়েদের জন্য একটি হল আছে।

৩৫ বছরের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি অনুষদে ৯টি বিভাগ আছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, ফিজিকস, আর্কিটেকচার বিভাগ; ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে আছে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। নতুন চালু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন [আইপি] বিভাগ। এখান থেকে অনার্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও মাস্টার্সে এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ও পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়। অন্য ক্যাম্পাসগুলোর সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্থক্যÑহরতালসহ রাজনৈতিক কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয় না, সেশনজট নেই।

ধূমপানমুক্ত, ক্যাম্পাসে দেয়াললিখন ও পোস্টারিং সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১৭ একর জমিতে পাঁচটি ভবনে একাডেমিক কার্যক্রম চলে। মেডিক্যাল সেন্টার, জিমনেসিয়াম, বাস্কেটবল গ্রাউন্ড, কেন্দ্রীয় মসজিদ ছাড়াও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবন আছে। লাইব্রেরিতে বই আছে প্রায় ৩০ হাজার। বিএসসিতে দুই হাজার ২০০, এমএসসি ও পিএইচডিতে ৩০০ ছাত্রছাত্রী আছে। ১৭০ জন শিক্ষক আছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ৩০০ জন। তাঁদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বাস আছে। সেন্ট্রাল ক্যান্টিন ছাড়াও প্রতিটি হলে একটি ক্যান্টিন আছে। দুটি কম্পিউটার সেন্টারও আছে।

ক্লাব-লেখাপড়া শেষে অবসরে তাঁরা শহীদ মিনার চত্বর, বকুলতলা, কেন্দ্রীয় মাঠে আড্ডা দেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা রোবটিকস ক্লাব, সৃজনী সাংস্কৃতিক ক্লাব, ডিবেটিং সোসাইটি, স্পোর্টিং ক্লাব, চেস ক্লাব, ইংলিশ স্পোকেন ক্লাব, গ্রিন সোসাইটি গড়ে তুলেছেন।

ডুয়েট রোবটিকস ক্লাবের সভাপতি রূপায়ণ হালদার বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের রোবটিকসের ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। কিন্তু এই ক্লাবের জন্য রুম নেই, আলাদা ল্যাবও নেই। ফলে ভালোভাবে কাজ করতে পারি না। এ জন্য শিক্ষকদের সহায়তা দরকার। আর্থিক সহায়তা আরো বাড়ালে আমরা ভালো মানের রোবট তৈরি করতে পারব। ’

ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের একমাত্র এই পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বলতে গিয়ে উপাচার্য ড. মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ ভালো হলেও বরাদ্দ না থাকায় আবাসন সমস্যা দূর হচ্ছে না। ফলে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা মেসে থাকে। আয়তন কম হওয়ায় রুমও কম। ফলে আমরা এই সমস্যা দূর করতে পারি না। আমাদের জন্য বরাদ্দ তিন একর জায়গায় নির্মাণকাজ শেষ হলে এই সমস্যা দূর হবে। ’


মন্তব্য