kalerkantho

চবির নিরাপত্তা দপ্তরে দুইজনকে আটকে রাখার অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চবির নিরাপত্তা দপ্তরে দুইজনকে আটকে রাখার অভিযোগ

বেআইনিভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে দুইদিন ধরে দুইজনকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর। আজ শনিবার রাত ৯টার দিকে আটকৃতদের উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে সিএনজির ড্রাইভার বেলাল ও ডিশ অপারেটর মো. জোবায়েরকে আটক করে বৃহস্পতিবার রাতে। পরে মারধর করে শুক্রবার সকাল৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে স্থানান্তর করে। তারা দু'জনেই মদনহাট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়। তবে নিরাপত্তা দপ্তরে কর্মকর্তারা বিশ্বদ্যিালয়ের প্রশাসনকে না জানিয়ে দুইদিন ধরে তাদের আটকে রাখে।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা দপ্তরের ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের কাছে শুক্রবার সকালে নাজিম উদ্দিন মোটরসাইকেল চোর বলে জোবায়ের ও বেলাল নামের দুইজনকে দিয়ে যায়। আমি এ বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকতা ও প্রক্টর অফিসে জানাই। তবে এ বিষয়ে প্রক্টরিয়ালবডি কোনো কিছু জানে না বলে নিশ্চিত করেছে সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন বলেন, স্বরসতী পূজার দিনে  বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরা আবাসিক এলাকা থেকে আমার মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা দপ্তরে চুরির লিখিত অভিযোগ করি। তবে গত দেড় মাসে মোটরসাইকেল উদ্ধার না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেল চোর জোবায়ের ও বেলাকে ধরতে পারি। পরে মোটরসাইকেল চুরি করেছে এমন স্বীকারোক্তি দেয় তারা। তবে মারধরের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলে চুরির সঙ্গে নিরাপত্তা কর্মীদের যোগসূত্র আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জোবায়ের বড় ভাই বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে জোবায়ের গান শুনতে আসলে নাজিম তাকে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে আটক করে এবং বেধড়ক মারধর করে মোটরসাইকেল চুরি করেছে এমন স্বীকারোক্তি আনতে মারধর করে তা মোবাইলে রেকর্ড করে। পরে শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা দপ্তরে তাঁদের স্থানান্তর করে। বেআইনিভাবে নিরাপত্তা দপ্তর দুইদিন ধরে তাদেরকে আটকে রাখে। 

নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, আমার ভাই যদি চুরিও করে থাকে তাহলে বিশ্ববিদালয় প্রশাসন বা পুলিশের কাছে দিতে পারতো না কি? কেন তারা দুইদিন ধরে একটি কক্ষে আটকে রাখলো।

এ ব্যাপারে চবির নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান বজল হককে ফোন দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে রাখেন।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আখতারুজ্জান বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় আমাদেরকে জানানো হয়েছে আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে হাটহজারী থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

মন্তব্য