kalerkantho

জবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো তৃতীয় সংগীত উৎসব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২১ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জবিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেষ হলো তৃতীয় সংগীত উৎসব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দু’দিনব্যাপী তৃতীয় সংগীত উৎসব ২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন চত্বরে সংগীত বিষয়ক সেমিনারের মাধ্যমে এ উৎসবের  সমাপনী দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। সেমিনারে ‘রাগ সংগীত ও প্রকৃতি’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. অসিত রায়।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, সংগীতের ভাবার্থ সঠিকভাবে বুঝতে হলে গাইড লাইনের প্রয়োজন। রাগ, তাল, সুর ইত্যাদির বিষয়ে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে শুদ্ধ সংগীত চর্চা করা সম্ভব নয়। আর সংগীতের ভালো উপলদ্ধি করার জন্যও জ্ঞানের প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি যুগ যুগ ধরে পুরানো ঢাকার সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল। একটি জাতির পরিপূর্ণ বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ ধরনের নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরানো ঢাকা কেন্দ্র করে আগের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করছে।

সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, সংগীতের মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‘রাগ’। একে যত ভালো করে বুঝা যাবে, ততই সংগীতকে ধারণ ও বহন করা যাবে। আমাদের দেশে সংগীত বিষয়ে যারা একাডেমিক পড়ালেখা করে, তারাই শুধুমাত্র এগুলো নিয়ে গবেষণা করে থাকে। শ্রোতা হিসেবেও অনেকে কিছু জানার প্রয়োজন রয়েছে। মানুষ সংগীতের সাথে যত বেশি সম্পৃক্ত থাকতে পারবে ততই হানাহানি ও সন্ত্রাস হ্রাস পাবে।

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী এফ এম রেজোয়ান এবং সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহমুদুল হাসান স্বাগত বক্তব্য দেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী ও রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী মিতা হককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।

এতে দেশ বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, লাইসা আহমেদ লিসা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ সংগীত পরিবেশন করেন।

পরে  সুবীর নন্দী, কিরণ চন্দ্র রায়, মোহাম্মদ শোয়েব, রাজরূপা চৌধুরী (সরোদ), স্বাগতা মুখার্জী (শাস্ত্রীয়সংগীত, ভারত), সুপ্রিয়া দাশ (শাস্ত্রীয় সংগীত), বিট্টু নৃত্যগোষ্ঠী (ভারত), শুষেণ রায় (তবলা) এর পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য