আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। নির্দেশনা জারির মাত্র একদিনের মাথায় তা স্থগিত করা হয়। আগামী ২ জুলাই থেকে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে সব কেন্দ্রের সচিবকে পরীক্ষাকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে থানা বা ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র আনার দায়িত্বে কারা থাকবেন, তাদের তথ্যও বোর্ডে পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এর একদিন পরই ২ জুন সেই চিঠি বাতিল করে বোর্ড।
ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা নতুন চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর সিসিটিভির ডিভিআর, এনভিআরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখা এবং প্রশ্নপত্র গ্রহণে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তথ্য পাঠানোসংক্রান্ত চিঠিটি স্থগিত করা হলো। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল ও মে মাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। বোর্ডের দাবি, এর ফলে নকলের প্রবণতা কমেছে। তবে এ নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একাংশের মধ্যে সমালোচনাও তৈরি হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো কঠোর নজরদারি শিক্ষার্থীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক শিক্ষাবিদ।
হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু বলেন, ‘আমরা আগের চিঠিটা স্থগিত করেছি। শিগগির হয়তো নতুন আরেকটি চিঠি দেওয়া হবে।’ তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হলো, সেটিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ উল্লেখ করে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।








