kalerkantho


'ক্যারি অন সিস্টেম' চালুর দাবিতে শেকৃবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

শেকৃবি প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:০০



'ক্যারি অন সিস্টেম' চালুর দাবিতে শেকৃবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ‘ক্যারি অন’ সিস্টেম চালু করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। 'ক্যারি অন' সিস্টেমের আওতায় সেশনজট কমানোসহ ৮ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দুই মাস যাবৎ আন্দোলন করে আসছে বলে জানায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি সেমিস্টারে ৫ থেকে ৭টা বিষয়ে মোট ১৭ থেকে ২৩ ক্রেডিট পড়তে হয়। এর মধ্যে কোনো শিক্ষার্থী ৫ এর বেশি ক্রেডিটে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী সেমিস্টারে অনুত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে ঐ শিক্ষার্থী এক বছর পিছিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) চলমান ‘ক্যারি অন’ সিস্টেমের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাকৃবিতে একজন শিক্ষার্থীকে সর্বোচ্চ ১০ ক্রেডিট পর্যন্ত অকৃতকার্য হলেও পরবর্তী সেমিস্টারে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ প্রদান করা হয়। অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলো পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পাস করার সুযোগ থাকে স্নাতক শ্রেণির শেষ সেমিস্টার পর্যন্ত। কিন্তু শেকৃবিতে এমন কোনো সুযোগ নেই।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বিভিন্ন অনুষদে এক সেমিস্টারে ১২০ থেকে ১২৫ কার্য দিবসে ৩৫ থেকে ৪৯ টা পরীক্ষা দিতে হয়। ফলে সেমিস্টার যথা সময়ে শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় সেশনজটে পড়তে হয়। এ ছাড়াও প্র্যাক্টিক্যাল খাতা লেখার চাপ থাকেই। যা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজে আসে না। তাই তারা পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে আনা ও প্র্যাক্টিক্যাল খাতা লেখা তুলে দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা এসব অসঙ্গতির সংস্কার চেয়ে গত ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আট দফা দাবি সম্বলিত এক স্মারকলিপি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে উপ-উপাচার্য ড. সেকেন্দার আলীকে আহ্বায়ক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যালাচনা করে উক্ত কমিটি ৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জানাবে বলে শিক্ষার্থী জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম।

প্রশাসনের দেওয়া সময় পেরিয়ে গেলে গতকাল ১৯ নভেম্বর শিক্ষার্থীরা পুনরায় প্রশাসনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপ-উপাচার্য দাবিগুলো নাকোচ করলে আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। ঘোষণা অনুযায়ী আজ ১০টায় তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ভবনের দুই গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ছাত্র পরামর্শক ড. মিজানুর রহমানের আহ্বানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সাথে আলোচনায় বসে।

এ সময় উপস্তিত ছিলেন উপ-উপাচার্য ড. সেকেন্দার আলী, ছাত্র পরামর্শক ড. মিজানুর রহমান, প্রক্টর ড. ফরহাদ হোসাইন এবং সহকারী প্রক্টর মো. রুহুল আমিন ও মো. দুলাল সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপ-উপাচার্য দাবিগুলো পুনরায় ২২ নভেম্বর লিখিত দিতে বলেন। পরবর্তী একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তারা। প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ভবনের তালা খুলে দিয়ে আগামী ২২ নভেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন।



মন্তব্য