kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা : প্রশ্নপত্রে অমিল, সিদ্ধান্তে গরমিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১৯:২৪



ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা : প্রশ্নপত্রে অমিল, সিদ্ধান্তে গরমিল

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে এবং উত্তরপত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।

সে ক্ষেত্রে পরীক্ষার কক্ষে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত দেন পরিদর্শকরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরীক্ষা দিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে ভর্তিচ্ছুরা। ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্তে পরীক্ষা দেওয়া ফলাফলে বৈষম্য হবে বলে আশঙ্কা করছে পরীক্ষার্থীরা।

‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষার্থী মাইশা রহমান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সব সময় এ ধরনের ভুল হয়। গত বছরেও এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছি। আমাকে বলা হয়েছে উত্তরপত্রের ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী উত্তর দিতে। বের হয়ে শুনলাম অনেক রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন হবে জানি না। এমন করে ভর্তি পরীক্ষা হয় না। সত্যি পরীক্ষা দিতে এসে বিব্রত হয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভূক্ত ‘সি’ ইউনিটের প্রশ্ন চারটি অংশে বিভক্ত। ইংরেজি অংশে ৩০ টি, হিসাববিজ্ঞান অংশে ১৫ টি এবং ব্যবসায় ১৫ টি প্রশ্ন থাকে। এছাড়া ২০ টি লিখিত প্রশ্ন রয়েছে প্রশ্নপত্রে। উত্তরপত্র (ওমমআর) শিটে যথাক্রমে ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও লিখিত প্রশ্ন অংশ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ওএমআর পত্রের সাথে মিল রেখে প্রশ্ন করবে ইউনিট সমন্বয়কারী। তবে প্রশ্নপত্রে হিসাববিজ্ঞানের অংশে ব্যাবসায় শিক্ষার প্রশ্ন এবং ব্যবসায় শিক্ষার অংশে হিসাববিজ্ঞানের প্রশ্ন করেছে সংশ্লিষ্টরা। এতে বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা।

প্রশ্নপত্রে অমিল থাকার বিষয়টি বিভিন্ন কক্ষে পরীক্ষার্থীদের নজরে আসলে কক্ষ পরিদর্শকদের জানায় তারা। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিট পর কক্ষ পরিদর্শকদের সিদ্ধান্ত জানায় ইউনিট সংশ্লিষ্টরা। তবে কক্ষ পরিদর্শকরা ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত জানায় পরীক্ষার্থীদের। ইউনিটের শুধু বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীদের প্রশ্নে এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। সূত্র অনুযায়ী সি ইউনিটে ৪ হাজার ৪১৬ জন বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থী ভোগান্তির শিকার হয়েছে। অবাণিজ্য শাখার প্রশ্নে কোনো সমস্য ছিল না বলে জানিয়েছেন পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে হল পরিদর্শকরা ৪ টি সিদ্ধান্ত দিয়েছে পরীক্ষার্থীদের। ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ঠিক রেখে উত্তর প্রদান করতে বলা হয়েছে। কেউ কেউ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন উত্তরপত্রের ক্রমিক নম্বর ঠিক রেখে উত্তর দেওয়ার। এছাড়া ওএমআর পত্রে হিসাববিজ্ঞান লেখাটি কেটে ব্যাবসায় শিক্ষা লিখে যথাস্থানে উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অনেক কক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘সি ইউনিটের বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ইউনিট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে মঙ্গলবার একটি সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সিদ্ধান্ত অবশ্যই শিক্ষার্থীবান্ধব হবে এবং কোনো শিক্ষার্থীর সাথে অবিচার করা হবে না।



মন্তব্য