kalerkantho


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জালিয়াতির বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মানববন্ধন

প্রধান ফটকের এক অংশ উধাও!

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৭ মে, ২০১৮ ২৩:৩১



জালিয়াতির বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মানববন্ধন

প্রকাশনা জালিয়াতির বিচার এবং বিশ্ববদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষকবৃন্দ। আজ সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শুরুতে শিক্ষকরা শহীদ মিনার থেকে র‌্যালি বের করে, ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ করেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক খোলাকে কেন্দ্র করে, শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামানো আর চালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন। কালের কণ্ঠের পাওয়া তথ্যমতে আজ সোমবার প্রায় প্রতিটি বিভাগেই যেকোনো পরীক্ষা বর্জন করলে তা আর না নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা প্রকাশনা জালিয়াতির শাস্তি দাবি করে বক্তব্য দেন। এ সময় আইন অনুষদের ডিন এবং চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, বাংলাদেশে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ যদি মনে করেন আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, অবিচার হয়েছে তাহলে কোর্টে যান, কোর্টে যাওয়ার সাহস দেখান না কেন? সমাধানের পথে না গিয়ে শিক্ষার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। মানববন্ধন থেকে প্রশাসনের কাছে ৩টি দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষকরা। যার মধ্যে রয়েছে, প্রকাশনা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে একাডেমিক কর্মকাণ্ডে বাঁধা প্রদানকারীদের বিচারের আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদেরকে মাঠে নামিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে ইন্ধন ধাতাদের তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা। এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আজ সোমবার প্রশাসনের সঙ্গে প্রায় ২ ঘন্টার মতো আলোচনা করেছি। আজ সকালে সকল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে এবং নাসির স্যারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এদিকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের এক পাশ নেই। ফটকে নিরাপত্তা কাজে নিয়জিতরা কেউ কিছু বলতে রাজি না হলেও। খবর নিয়ে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নির্দেশেই কয়েকজন লোক আজ সোমবার রাতে ফটকটি খুলে ফেলে। তবে কোথায় রেখেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফটক খুলে ফেলা কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করছেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলন কে ব্যাহত করার চেষ্টা । প্রধান ফটকের বিষয়ে প্রক্টর নূর মোহাম্মদের বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে রেজিষ্ট্রার স্যারের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান ফটক নতুন করে নির্মাণ করা হবে। যার কারণে এটি খুলে রাখা হয়েছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ফটকটি নতুন করে সংস্কার করার জন্য খুলে রাখা হয়েছে। সংস্কারের জন্য এক পাশ কেন খোলা হয়েছে? গেইটটি কখন খোলা হয়েছে? কারা খুলেছে? খুলে কোথায় রাখা হয়েছে? পুরো ফটক কেন খোলা হয়নি? কালের কণ্ঠের এমন প্রশ্নগুলোর উত্তরে তিনি বলেন, ‘পুরোটাই খোলা হবে। ফটকটি কখন খোলা হয়েছে সেটি আমি জানি না। আমি খুলিনি।’



মন্তব্য