kalerkantho


শেষ হলো কালাচারাল জুবিলেশন

দেশজ সংস্কৃতি চর্চায় নজির রাখতে চায় নটর ডেম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০১৮ ০০:৪৮



দেশজ সংস্কৃতি চর্চায় নজির রাখতে চায় নটর ডেম

শিক্ষা বলে মস্তিষ্কের কথা আর সংস্কৃতি বলে মনের কথা। এই সংস্কৃতি চর্চার মধ্য দিয়েই শিকড়ের সন্ধান করা যায়। শিকড়ের সান্নিধ্যে গেলে নিজের দেশ ও জাতির প্রতি যে প্রেম সৃষ্টি হয়, সেই প্রেম একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। গতকাল বিকালে রাজধানীর নটর ডেম কলেজের সাংস্কৃতিক উত্সবের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা এমনই অভিমত ব্যক্ত করেন।
কলেজের কালচারাল ক্লাব এবার চতুর্থবারের মতো আয়োজন করেছিল সংস্কৃতিক উৎসবের 'কালাচারাল জুবিলেশন-২০১৮'। দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের গতকাল শনিবার ছিল শেষ দিন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল 'আমার বাংলাদেশ, আমার সংস্কৃতি'। এই উৎসবে দেশের ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই হাজার শিক্ষাথী অংশ নেয়। উৎসবে মোট ১৯টি ক্যাটাগরিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে শুধু স্কুল ও কলেজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

গতকাল বিকেলে কলেজ মাঠে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপাধ্যক্ষ ফাদার শঙ্কর লেনার্ড রোজারিও সিএসসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্সবের বিভিন্ন প্রতিযোগীতার বিচারকমন্ডলী ও কলেজের শিক্ষকরা। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগীতার কৃতি শিক্ষার্থীদের সনদ ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ ফাদার শঙ্কর লেনার্ড রোজারিও সিএসসি বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। যে জাতি নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চায় যত এগিয়ে, সেই জাতির অবস্থান বিশ্ব মানচিত্রে তত উন্নত। তিনি বলেন, শিক্ষা, মস্তিষ্ক, সংস্কৃতি সব এক সূত্রে গাথা। সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতির শেকড়ের সন্ধান লাভ হয় এবং এভাবেএ একজন শিকার্থী যোগ্য নাগরিক হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, 'নটরডেম কলেজ দেশীয় সংস্কতি চর্চায় নিদর্শন রাখতে 'আমার বাংলাদেশ, আমার সংস্কৃতি' স্লোগান নিয়ে ৪র্থ বারের মতো এই উৎসবের আয়োজন করেছে। এই আয়োজনকে সবার জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যাতে করে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এরকম দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে যোগদান করা অভিভাবক গীতিকার ও সুরকার আইয়ুব উল্লাহ বলেন, আমাদের দেশের অভিভাবকদের ধারণা, শিশুরা সংস্কৃতি চর্চা করলে পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়ে। এই ধারণা অমূলক। কারণ একজন শিক্ষার্থী পড়াশুনার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা করলে, সে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। নটর ডেম কলেজ সেই দৃষ্টান্তই স্থাপন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে।

উৎসবে অংশ নেওয়া সেন্ট জোসেফ স্কুলের শিক্ষার্থী ফাহিম শাহরিয়ার চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, 'এই উৎসবে অংশ নিয়ে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এখানে অনেক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা হয়েছে, যে প্রতিযোগীতা আমাদের ভাল কিছু করার মানসিকা সৃষ্টি করতে সড়্গম হয়েছে। এই উৎসবের সবগুলো ক্যাটাগরিতেই ছিল দেশীয় সংস্কৃতির উপাদান। ফলে এর মাধ্যমে আমরা দেশের প্রতি এক ধরনে উচ্চমানের ভালোবাসা তৈরির প্রয়াস পেয়েছি। আমরা উজ্জীতিত হয়েছি।'

গত ৯ মার্চ এই উৎসবের শুরু হয়। এতে অংশ নেয় নটর ডেম, ভিকারুন নেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট ক্যাডট কলেজ, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ, সরকারি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, বাংলা বাজার গার্লস স্কুল, ঢাকা মহিলা কলেজ, মাইলস্টোন কলেজসহ ৫৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা ফোক গান, অধুনিক গান, দেশাত্মবোধক গান, নজরুল গীতি, রবীন্দ্র সংগীত, রচনা প্রতিযোগিতা, বাংলা হাতের লেখা, ইংরেজি হাতের লেখা, রচনা প্রতিযোগীতা, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন ও দেয়াল পত্রিকা প্রকাশনার প্রতিযোগীতাসহ ১৯ বিভাগে অংশ নেয়।



মন্তব্য