kalerkantho


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ৫০ বছর

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি   

১ মার্চ, ২০১৮ ২৩:২৩



বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ৫০ বছর

উপমহাদেশের প্রথম উচ্চতর মৎস্য শিক্ষা ও গবেষণার প্রতিষ্ঠান হিসাবে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ। ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ১৯৬৭ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ। ২০১৭ সালে এসে বিশ্বমানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর গ্রাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে সফলতার ৫০ বছরে পদার্পণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষদটি। ৫০ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ মার্চের ২ থেকে ৪ তারিখ তিন দিনব্যাপী সকল গ্রাজুয়েট ও অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছে সুবর্ণ জয়ন্তী। প্রায় ২ হাজার আলুমিনায় এতে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

গত ৫০ বছরে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ গবেষণার ক্ষেত্রে অসাধারণ সফলতার সাক্ষ্য বহন করে যাচ্ছে অনুষদটি। এগুলোর  মধ্যে বাইম, মাগুর, শিং, তারা বাইম, গুচি বাইম, ও বাটা মাছের কৃত্রিম প্রজননসহ ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি, এক সঙ্গে সবজি ও মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতি (একুয়া পনিক্স), স্বল্প খরচে বরফ বকর, রিং টানেল পদ্ধতিতে শুটকি, খাঁচায় পাঙ্গাস মাছের চাষ, ডাকউইড দিয়ে মিশ্র মাছ চাষ, মাছের বিষ্ঠা দিয়ে সবজি চাষ, মাছের জীবন্ত খাদ্য হিসাবে টিউবিফেক্স (এক ধরনের কীট) উৎপাদনের কলাকৌশল, ইলিশ মাছ আরোহণের পর মানসম্মত উপায়ে বাজারজাত করণ, দেশি পাঙ্গাসের কৃত্রিম প্রজনন, মাছের পোনা চাষের জন্য রটিফারের চাষ, কুচিয়া মাছের কৃত্তিম চাষ পদ্ধতি আবিষ্কার, খাঁচায় দেশি কৈ মাছ চাষ পদ্ধতি এবং ইলিশ মাছের স্যুপ এবং নুডুল্‌স উদ্ভাবন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়াও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের জীন টেকনোলজি, মৎস্য জীব ও শারীরতত্ত্ব,  মৎস্যচাষ, মৎস্য পুষ্টি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও মাটির ভৌত রসায়ন, মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ গবেষণাগারগুলি ইতিমধ্যেই বিশ্বমানে উন্নীত হয়েছে।

২০১৭ সালে এক প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের চাষের মাছের উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাষের মাছের উৎপাদন ছিল ১৭ লাখ ২৬ হাজার মেট্রিক টন। এ উৎপাদন বেড়ে ২০১৭ সালে  হয়েছে প্রায় ২১ লাখ মেট্রিক টন। আর এই বিপুল উৎপাদনের জন্যই পৃথিবীতে মুক্ত জলাশয় এবং চাষ ভিত্তিক মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ পঞ্চম। আর এই বিপুল মাছ উৎপাদনে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দেশে কর্মরত মৎস্যবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, মাঠকর্মী ও সম্প্রসারণকর্মী। যাদের বেশির ভাগই বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্রাজুয়েটবৃন্দ। মাছের জাত উন্নয়ন, মৎস্য সংরক্ষণ, মাছ চাষ, মাছের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনা, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মৎস্যপণ্য উৎপাদন সংক্রান্ত প্রায় সব তথ্যপ্রযুক্তি প্যাকেজের সুতিকাগার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ। এখানে উদ্ভাবিত প্রায় সব প্রযুক্তিই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাকৃবি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের গ্রাজুয়েট ও মৎস্যচাষী, হ্যাচারি মালিক ও মাঠকর্মীদের মাধ্যমে পরিবর্তিত, পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত হয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।

বর্ণাঢ্য আয়োজন :
অনুষদের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে এই পর্যন্ত অধ্যায়নরত সকল গ্রাজুয়েটদের একত্র করে দিনটিকে উদযাপন করতে ২ থেকে ৪ মার্চ সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। অনুষ্ঠানে মৎস্য সেক্টরের সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ-মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিব, মহাপরিচালকসহ অন্যান্য পলিসি মেকারগণ, আন্তর্জাতিক, বহুজাতিক সংস্থা, দাতাগোষ্ঠির প্রতিনিধিবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার ও কম্পানির প্রতিনিধি, ব্যক্তি উদ্যোক্তা, মৎস্যচাষী ও হ্যাচারি মালিকগণ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। তিন দিনের অনুষ্ঠানমালাকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, মৎস্য র‌্যালি, মৎস্য গবেষণাভিত্তিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, মৎস্য-মেলা, পোস্টার প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রভৃতি দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।

অনুষদীয় ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দীন আহমেদ বলেন, বিশ্বমানের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর গ্রাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে দেশের জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন এবং দেশের মাছের উৎপাদনের উত্তরোত্তর বৃদ্ধি সাধন, সেই সঙ্গে যুগোপযোগী ও মানসম্মত মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমে মাঠ-উপযোগী তথ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সমগ্র দেশের মৎস্যচাষী, হ্যাচারি মালিক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও সম্প্রসারণ কর্মীদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।



মন্তব্য