kalerkantho


ছাত্র নির্যাতনে তদন্ত কমিটির সুপারিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত হচ্ছে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০২:১৪



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত হচ্ছে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এহসান রফিককে নির্যাতন করার ঘটনায় হল ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সদ্ধিান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গতকাল সোমবার শৃঙ্খলা বোর্ডের এক সভায় বহিষ্কারের এই সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় বহিষ্কার আদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

বহিষ্কৃতরা হলো সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম (আইইআর), উপপ্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান হিমেল (উর্দু), সহসম্পাদক ওমর ফারুক (মার্কেটিং), রুহুল আমিন ব্যাপারী (সাংবাদিকতা), ফারদিন আহমেদ মুগ্ধ (লোকপ্রশাসন), সদস্য সামিউল ইসলাম সামী (সমাজবিজ্ঞান) ও আহসান উল্লাহ (দর্শন বিভাগ)।

তাদের মধ্যে ওমর ফারুককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। আর রুহুল আমিন, সামিউল ইসলাম সামী, আহসান উল্লাহ, মেহেদী হিমেল, ফারদিনকে দুই বছর ও ঘটনা সংঘটিত করতে প্ররোচনার দায়ে আরিফুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী কালের কণ্ঠকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সভায় এটার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কোনো কাজ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ক্যালকুলেটর ফেরত চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে থাকা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানকে মারধর করে হল শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মী। পরে তাঁকে হল থেকে বের করে দেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম। এরপর এহসান হল গেট দিয়ে বের হতে গেলে সেখানে তারা আবার তাঁকে মারধর করে। এতে তাঁর বাঁ চোখের কর্ণিয়া নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হল সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের কক্ষে আটকে রাখা হয়। ঘটনার পরদিন ভোরে সেখান থেকে পালিয়ে যান এহসান। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেয় তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় হল প্রশাসন হলের তিন হাউস টিউটরের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



মন্তব্য