kalerkantho


ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতি

ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০১:২১



ছাত্রলীগ নেতাসহ ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতিতে জড়িত ছাত্রলীগের এক নেতাসহ ১৫ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের ওই নেতা ও অন্য দুজন জালিয়াতির হোতা। অন্য ১২ জন জালিয়াতির মাধ্যমে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সদ্ধিান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা বোর্ড।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের কক্ষ থেকে এক শিক্ষিকা উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।  

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাঁদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে তাঁদের মধ্যে তিনজন হলেন ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নাভিদ আনজুম তনয়, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মহিউদ্দীন রানা, ফলিত রসায়ন ও কেমিকেৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁরা তিনজন জালিয়াতচক্রের 'মাস্টার মাইন্ড' হিসেবে কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে মহিউদ্দিন রানা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক ছিলেন। ঘটনার পর তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বাকি ১২ শিক্ষার্থীরা হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাহিদ ইফতেখার, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির মো. আজিজুল হাকিম, মনোবিজ্ঞানের মো. বায়েজীদ, সংস্কৃত বিভাগের প্রসেনজিত্ দাস, স্বাস্থ্য অর্থনীতির ফারদিন আহমেদ সাব্বির, অর্থনীতি বিভাগের রিফাত হোসাইন, ইসলামিক স্টাডিজের রাফসান করিম, বাংলা বিভাগের আঁখিনুর রহমান অনিক, ইতিহাসের টি এম তানভীর হাসনাইন, শিক্ষা ও গবেষণার মুন্সী মো. সুজাউর রহমান ও পালি ও বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র নাজমুল হাসান নাঈম।

এদিকে সিন্ডিকেট বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের কক্ষ থেকে শিক্ষিকা উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমাদকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। অন্যরা হলেন সিন্ডিকেট সদস্য ও আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক, সিন্ডিকেট সদস্য নীলিমা আক্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য বাহালুল মজনুন চুন্নু।

কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে সিন্ডিকেট সূত্র জানায়।
সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের প্রতিবেদন, দুই শিক্ষকের নিজেদের বিভাগের কোলাবরেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিঅ্যান্ডডি) কমিটির সদ্ধিান্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এ তদন্ত কমিটি করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষককে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের কক্ষ থেকে তালা ভেঙে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকের স্ত্রী উপাচার্য, এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই শিক্ষককে এক বছরের জন্য নিজ নিজ বিভাগের সব একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাবহির্ভূত কাজ করে কেউ পার পাবে না। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড বহিষ্কারের সুপারিশ করে। পরে সিন্ডিকেট এই সুপারিশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। মনোবিজ্ঞান বিভাগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।



মন্তব্য