kalerkantho


ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি

ক্রীড়া কর্মকর্তা প্রেসকর্মীসহ পাঁচজনের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:৩৭



ক্রীড়া কর্মকর্তা প্রেসকর্মীসহ পাঁচজনের স্বীকারোক্তি

প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রের আরো পাঁচ সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা হলেন নাটোর ও পাবনা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা রকিবুল হাসান ইসাহী, প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুর ও তাঁর প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের ছাত্র বনি ইসরাইল এবং তাঁর সহযোগী মারুফ হোসেন।

গত ১২ ডিসেম্বর আদালত ইসাহী, বনি ও মারুফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর বৃহস্পতিবার সাইফুল ও খান বাহাদুরের এক দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড চলাকালেই তাঁরা গতকাল শুক্রবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও আদালত সূত্র জানায়, গ্রপ্তোরকৃতরা ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ও জালিয়াতিতে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। তঁারা এই চক্রে জড়িত আলাদা সিন্ডিকেটের ব্যাপারেও বিস্তারিত জানিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত সিআইডির হাতে গ্রপ্তোর ২৪ আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ ইউনিটের প্রধান বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আসামিরা রিমান্ড চলাকালেই স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতের কাছে সব স্বীকার করে নিতে রাজি হয়। আমাদের জিজ্ঞাসাবাদেও তারা জালিয়াতিতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'

গত ৯ ডিসেম্বর রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বনি ইসরাইল ও মারুফ হোসেনকে। তাঁরা দুজন ভর্তি জালিয়াতির জন্য ছাত্র সংগ্রহ এবং রকিবুল হাসান ইসাহীকে ছাত্রদের তথ্য সরবরাহ করতেন। ইসাহী নাটোর ও পাবনা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা। তাঁকে ১১ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ ডিসেম্বর জামালপুর থেকে গ্রপ্তোর করা হয় সাইফুল ইসলামকে। সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রেস কর্মচারী খান বাহাদুরের তথ্য পাওয়া যায়। রাজধানীর ইন্দিরা রোডের পিপলস প্রিন্টিং প্রেসের এই কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুল প্রশ্ন ফাঁস করে ইসাহীকে দেন। এর আগে গত সপ্তাহে ঢাবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের পর তাঁরা গত ৯ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সিআইডির সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি এবং ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস করেছেন।


মন্তব্য