kalerkantho

গ্যাসের দাম বাড়ালে বস্ত্র খাতে বিপর্যয় নামবে

১০ বছর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির রূপরেখা চান ব্যবসায়ীরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ মার্চ, ২০১৯ ১২:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্যাসের দাম বাড়ালে বস্ত্র খাতে বিপর্যয় নামবে

গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করেছেন বস্ত্র খাতের নেতারা। তাঁরা বলছেন, এটা হবে দেশের উদ্যোক্তা শ্রেণি বিলীন করা এবং তাঁদের গলা টিপে মেরে ফেলার শামিল।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বস্ত্র খাতের তিন সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিকেএমইএ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্যাস কম্পানিগুলোর প্রস্তাবনা অনুযায়ী গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে দেশের শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম না বাড়িয়ে অন্তত দুই বছর পর বাড়ানো উচিত। এর আগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ, সিঙ্গেল ডিজিটে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা ও গ্যাসের ইবিসি মিটার সরবরাহ করতে হবে। এরপর যৌক্তিকভাবে পর্যায়ক্রমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীরা সে অনুযায়ী দিতে রাজি।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাত মোট গ্যাসের ৭-৮ শতাংশ ব্যবহার করে। পুরো শিল্প খাতে ১৬-১৭ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয়। ২০১২ থেকে গ্যাস সংযোগ পাওয়া যায়নি। মালিকরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বছরের পর বছর গ্যাস সংযোগের জন্য ঘুরছেন। এখন মাত্র সংযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ানোর ফলে নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, নানা প্রতিকূলতার কারণে শুধু বিজিএমইএর ছয় হাজার সদস্যের মধ্যে তিন হাজার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা প্রতিদিন জন্মায় না। একটা উদ্যোক্তা জন্মাতে অনেক সময় লাগে।

বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ীকে ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সংযোগ এখনো পায়নি। ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ১০ বছরের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির রূপরেখা দিতে হবে। সে রূপরেখা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করবেন। কিন্তু এক সকালে ঘুম থেকে উঠে ১৩২ শতাংশ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির খবর শুনতে চাই না।’

বিকেএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘শিল্পের গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে গর্বের পোশাক খাত ধ্বংস হতে বেশি দিন সময় লাগবে না। তিতাসসহ অন্য সব ইউটিলিটি সেবা খাতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রতিনিধি রাখার সুপারিশ করেন তিনি।’

মন্তব্য