kalerkantho

খরুচে শহর প্যারিস হংকং সিঙ্গাপুর

বাণিজ্য ডেস্ক   

২০ মার্চ, ২০১৯ ১১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খরুচে শহর প্যারিস হংকং সিঙ্গাপুর

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর তিনটি। ইউরোপের প্যারিস এবং এশিয়ার হংকং ও সিঙ্গাপুর। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গত ৩০ বছরের জরিপে এবারই প্রথম তিনটি শহর শীর্ষে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে ১৩৩ শহরের ১৬০টি পণ্য বা সেবার ব্যয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে বেঞ্চমার্ক হিসেবে নিউ ইয়র্ককে ধরে দেখা হয়েছে কোন শহরে পণ্যের দাম বেড়েছে বা কমেছে। গত বছর প্যারিস ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যয়বহুল শহর।

এ বছর ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, পঞ্চম স্থানে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা ও জাপানের ওসাকা। সপ্তম স্থানে থাকা তিনটি শহর হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক। দশম স্থানে রয়েছে ইসরায়েলের তেল আবিব ও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে চারটিই দক্ষিণ এশিয়ার। প্রথম স্থানে রয়েছে ভেনিজুয়েলার কেরাকাস, দ্বিতীয় সিরিয়ার দামাস্কাস, তৃতীয় উজবেকিস্তানের তাসখন্দ, চতুর্থ কাজাখস্তানের আলমাতি, পঞ্চম ভারতের বেঙ্গালুরু, ষষ্ঠ পাকিস্তানের করাচি ও নাইজেরিয়ার লাগোস, সপ্তম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস ও ভারতের চেন্নাই এবং অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারতের নয়াদিল্লি।

প্রতিবেদনের রচয়িতা রোক্সানা স্ল্যাবচেভা বলেন, ইউরোপীয় শহরগুলোতে গৃহস্থালি পণ্য, ব্যক্তিগত সেবা ও বিনোদন পণ্যের দাম বেশি। ২০০৩ সাল থেকেই শীর্ষ ১০ ব্যয়বহুল শহরের মধ্যে রয়েছে প্যারিস, যা খুবই ব্যয়বহুল। তিনি বলেন, প্যারিসে একজন নারীকে চুল কাটানোর জন্য গড়ে ব্যয় করতে হয় ১১৯.০৪ ডলার, জুরিখে গুনতে হয় ৭৩.৯৭ ডলার এবং ওসাকাতে ৫৩.৪৬ ডলার। একই সেবা পেতে ভেনিজুয়েলার কেরাকাসে ব্যয় করতে হয় ১.৭৭ ডলার, করাচিতে ২৯.৪০ ডলার, বেঙ্গালুরুতে ১৪.৬৫ ডলার এবং চেন্নাইতে ১০.৪৬ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা এ বছর অনেক শহরের র‌্যাংকিং পরিবর্তনে প্রভাব ফেলেছে। ফলে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, তুরস্ক এবং ভেনিজুয়েলাসহ অনেক দেশের ব্যয়বহুল অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। যেমন ভেনিজুয়েলার কেরাকাস শহরে গত বছর মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ১০০০০০০ শতাংশ। এতে সরকার বাধ্য হয়ে একটি নতুন মুদ্রা প্রচলন করে। ফলে এ বছরের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এ দেশটি উঠে আসে।

ইআইইউ জানায়, রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাঘাত হওয়ায় বেশ কিছু শহর কম ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় উঠে আসে। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় এমনিতেই পণ্যের দাম কম।

মন্তব্য