kalerkantho

সৌদির বড় বিনিয়োগ আসছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ মার্চ, ২০১৯ ১১:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌদির বড় বিনিয়োগ আসছে

দুই মন্ত্রীর নেতৃত্বে সৌদি যুবরাজ মনোনীত ৩৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল ঢাকায়

বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চার দশকের বেশি হলেও এ সময়ে দেশটি থেকে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসেনি; যতটা এসেছে ভারত ও চীন থেকে। এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে ২৫ লাখের বসবাস সৌদি আরবে; এত দিন এটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় পাওয়া। তবে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে দেশটির দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দেশটির অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মেদ আল তোয়াইজরি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক মন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসাবি এখন ঢাকায়। আজ বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাবে সমঝোতা ও চুক্তি হওয়ার আভাস মিলেছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি উদ্যোক্তারা এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চান। তাঁদের পছন্দের তালিকায় আছে সিমেন্ট কারখানা ও হালাল মাংস কারখানা নির্মাণও। বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর কম্পানি টেলিটককে লাভজনক করতে এর সঙ্গে যুক্ত হতে চায় সৌদি আরব। বাংলাদেশের পর্যটনের বিকাশেও আগ্রহ দেখিয়েছে দেশটি। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ, খাদ্য ও বেকারি শিল্প, পেপার মিল ও লেদার খাতেও এখানে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে সৌদি আরব। সৌদি আরবে বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে বিমার আওতায় নিয়ে আসা এবং সৌদি আরবে সোনালী ব্যাংকের শাখা খোলার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার সারা দেশে যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সেখানে অন্তত একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল চায় সৌদি আরব। আজ সরকারের নীতিনির্ধারকের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি প্রিন্স মনোনীত ৩৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ জানাবে। আলোচনা সব ঠিকঠাক চললে দেশটি দেড় হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম; বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

বিডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মোহাম্মেদ আল তোয়াইজরি এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী ড. মাজিদ বিন আব্দুল্লাহ আল কাসাবির নেতৃত্বে ৩৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার ঢাকায় এসেছে। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট ও পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন প্রতিনিধিদলে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে সৌদি আরবের দুই মন্ত্রীর। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল পুরো আয়োজনে নেতৃত্বে থাকছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের দুই মন্ত্রীর সফরটিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সব শেষ তথ্য বলছে, সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের অর্থায়নে বাংলাদেশে এখন ছয়টি প্রকল্প চলমান। এসব প্রকল্পে দেশটি ২৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে। সৌদি অর্থায়নে বাংলাদেশে এখন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু, তিস্তা নদীর ওপর সেতু, শিকলবাহায় ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ছয়টি প্রকল্প চলমান। সৌদি আরবের কাছ থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রস্তাব দীর্ঘদিন ধরে আশা করে আসছিলেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক চুক্তি, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদির পক্ষে অবস্থানসহ নানা ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে বর্তমান সরকারের। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটি থেকে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসছে বলে জানিয়েছেন বিডার একাধিক কর্মকর্তা।

এবারের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে সরকার গ্রামেই শহরের সব সুবিধা পাওয়া যাবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সে বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে সৌদি কম্পানির সঙ্গে। ঢাকা শহরের চারপাশে সার্কুলার রিং রোড নির্মাণ পকল্পে সৌদি বিনিয়োগ চায় সরকার। এ বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ স্টিল ও প্রকৌশল করপোরেশনের আওতাধীন জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং কম্পানি লিমিটেডের (জিইএমকো) কারখানায় উৎপাদনে ব্যবহৃত পুরনো যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণে এবং প্রতিষ্ঠানটির অব্যবহৃত জায়গায় নতুন শিল্প স্থাপনে ১০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে সৌদি প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশন লিমিটেড। আজ (বৃহস্পতিবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উভয় দেশের প্রতিনিধির মধ্যে এ বিষয়ে চূক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কারখানার ফেলে রাখা জায়গায় নতুন শিল্প গড়ে তুলতে পরিকল্পনা নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় জিইএমকোতে সৌদি বিনিয়োগ আহ্বান করা হয়। এ আহ্বানে সৌদি সরকার ১০ কোটি ডলারের এ বিনিয়োগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।’

মন্তব্য