kalerkantho


উদ্যোক্তা

টার্কি খামারে দৃষ্টান্ত গড়তে চান মতিউর

আব্দুল্লাহ আল মামুন জকিগঞ্জ (সিলেট)    

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:১১



টার্কি খামারে দৃষ্টান্ত গড়তে চান মতিউর

মতিউর বিদেশ গিয়ে যতটা আয় করতে পারেননি, দেশে তার চেয়ে বেশি আয় করেছেন টার্কি মুরগির খামার গড়ে। এই খামার তাঁকে পরিচিতি ও অর্থ দুটিই এনে দিয়েছে। জকিগঞ্জে তিনি এখন টার্কি মতিউর নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তিনি মনে করেন, বিদেশে কাজের জন্য না গিয়ে দেশে টার্কি মুরগি চাষ করলে বেশি আয় করা সম্ভব।

মতিউর ১৯৯৯ সালে গিয়েছিলেন সৌদি আরব। সেখানে তিনি কাজ করতেন নির্দিষ্ট বেতনে। ওই বেতনে খুব সাধারণ মানের জীবন যাপন করতেন। এরপর আবার পাড়ি জমান সিঙ্গাপুরে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে দেশে ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নেন আর বিদেশ নয়, এবার দেশেই টার্কির খামার করবেন। প্রস্তুতি হিসেবে ছিল এক মাসের একটি প্রশিক্ষণ, যা সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন নিয়েছিলেন।

খামার গড়ার শুরুতে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ মাস বয়সী ১৮ জোড়া মুরগি কেনেন। শুরুতে লালন-পালনে কিছুটা অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন মতিউর। পর্যায়ক্রমে খামারের মুরগির সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মতিউরের খামারে বিভিন্ন জাতের মুরগির সংখ্যা ৩৫০টি। যার মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। গত এক বছরে তিনি আড়াই লাখ টাকার বাচ্চা বিক্রি করেছেন জকিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়।

উপজেলা কালীগঞ্জের আবু বকর, খলাদাপনিয়ার প্রবাসী নিজাম উদ্দিনসহ অনেকেই মতিউরের মতো খামার করার চেষ্টা করছেন। গত নভেম্বরে কালীগঞ্জে টার্কি মুরগি পালনের ওপর একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন তিনি।

সেখানে জানান, টার্কি মুরগি কেনা, ঘর তৈরি, ইনকিউবেটর (ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর মেশিন) কেনা, মোরগের খাবার, ওষুধপাতি সব মিলিয়ে গত দুই বছরে যে টাকা ব্যয় হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি টাকার মুরগি আছে তাঁর খামারে। খামারে যোগ করেছেন উন্নত জাতের মুরগি। খামার সম্প্রসারণে তৈরি করছেন নতুন ঘর। তিনি এই খামার থেকে মুরগি বিক্রির পাশাপাশি আগ্রহীদের কাছে বাচ্চা সরবরাহ করে আসছেন।

মতিউর বলেন, সাধারণ মুরগির মতোই লালন-পালন করা যায় টার্কি মুরগি। তবে খামার করতে বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। ২৮ দিনে ডিম থেকে বাচ্চা হয়।  প্রতিটি মুরগি বছরে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।

তিনি জানান, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে টার্কি মুরগির বাচ্চা উৎপাদনই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। সনাতন পদ্ধতিতে বাচ্চা ফোটাতে ব্যয় বেশি হয়।

তিনি জানান, সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া গেলে মুরগি পালনে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন তিনি।

জকিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ জানান, শিগগিরই খামারটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেবেন।



মন্তব্য