kalerkantho


উদ্যোক্তা

তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি তাঁর কাজ

শরিফ রনি   

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৩:৩৭



তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি তাঁর কাজ

আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ রিটেইল একাডেমি

তরুণদের অনেককেই একটা কথা বলতে শোনা যায়, তা হলো—আমার তো কোনো মামা নাই তাই চাকরিও পাচ্ছি না। বড় প্রতিষ্ঠানে বড় কর্মকর্তা যদি হয় নিজের মামা, তাহলে চাকরির জন্য কোথাও দৌড়াতে হবে না। মামা ডেকে নিয়ে চাকরি দিয়ে দেবেন। এটা ঠিক যে মামা থাকলে চাকরি হয়, কিন্তু যাদের মামা নাই তারা কি বেকার বসে থাকবে।

বাংলাদেশ রিটেইল একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ মো. তাহের মনে করেন চাকরির জন্য দক্ষতা ও যোগাযোগই হলো মামা। অর্থাৎ সঠিক দক্ষতাই একজন তরুণকে চাকরির বাজারে যোগ্য করে তোলে। সেই সঙ্গে দক্ষতা অনুযায়ী কোথায় চাকরির জন্য যোগাযোগ করতে হবে তা জানাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ রিটেইল একাডেমি বাংলাদেশ স্কিল ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি দেশের রিটেইল সেক্টরের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। তা ছাড়া দক্ষতা অনুযায়ী কোথায় যোগাযোগ করলে কাজ পাওয়া সম্ভব সেগুলোতে সহায়তা করে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তাহের এসব কথা জানান।

তিনি ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন। ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন। এ ছাড়া ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিংয়ে যুক্ত আছেন। প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীদেরও। তিনি তরুণদের প্রেজেন্টেশন স্কিল, ইন্টারভিউ স্কিল, সিভি কিভাবে লিখতে হবে এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। পরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণ না দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তরুণদের জন্য কাজ শুরু করা দরকার। এভাবেই ২০১৭ সালে স্কিল ব্যাংক নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন রাজধানীর মিরপুরে। এরই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হলো রিটেইল একাডেমি। এ পর্যন্ত তাঁর একাডেমি থেকে ৯৮০ জন প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। এ বছর ১৫০০ জনকে চাকরির বাজারে সক্ষম করে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

তাহের বলেন, স্কিল ব্যাংকের উদ্দেশ্য হলো আমাদের দেশে যত রকম স্কিল আছে যেমন কেউ প্রেজেন্টেশনে ভালো, কেউ কম্পিউটারে কেউবা অটোমোবাইলস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভালো, কিন্তু এগুলোর কোনো সেন্ট্রাল ডাটা বেইস নেই। এ ছাড়া সেন্ট্রালি স্কিলের কোনো মানদণ্ডও নেই। তাই সেন্ট্রালি একটা ডাটা বেইস তৈরি করা এবং মানদণ্ড তৈরি করা। আর রিটেইল একাডেমি শুরু হয় অন্য কারণে। দেশের বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান স্কিল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে ঢাকাকেন্দ্রিক কাজ করে। ঢাকার বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ের জন্য কাজ করে। কিন্তু ঢাকার বাইরে অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যাদের সহায়তা দরকার। অনেকে দেখা যায়, এইচএসসি পাস করে ড্রপআউট হয়ে যায়। সেখানে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওদের বড় সমস্যা হলো তারা সঠিক দিকনির্দেশনা পায় না। তাদেরও ঢাকার ছেলে-মেয়েদের মতো মেধা আছে কিন্তু গ্রুমিং না পাওয়ার কারণে তারা চাকরি কিভাবে খোঁজ করতে হবে সেটাও জানে না, কোন কম্পানিতে কিভাবে আবেদন করতে হবে সেটাও জানে না। তখন গ্রামের পিছিয়ে পড়া ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা তৈরি করলাম রিটেইল একাডেমি।



মন্তব্য