kalerkantho


কুতুবদিয়ায় জাহাজ নোঙর

মাসুল পায় না বন্দর

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ১২:০৭



মাসুল পায় না বন্দর

কুতুবদিয়া গভীর সাগরে নোঙর করা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কোনো মাসুল পায় না চট্টগ্রাম বন্দর। এসব জাহাজ নোঙর করতে বন্দরের কাছ থেকে অনুমতিরও দরকার হয় না; তদারকি নেই চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসেরও। ফলে কী ধরনের পণ্য সেখানে জাহাজ থেকে নামানো হচ্ছে, অবৈধ বা উচ্চ শুল্কের কিংবা চোরাচালান পণ্য জাহাজে ভর্তি বা নামানো হচ্ছে কি না জানে না কেউই।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, আগে বন্দরের রামেজ ও এফ ডিভিশন সাগরে এসব চোরাচালান পণ্য তদারকি করত। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন আদেশে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সাগরে আসা এসব পণ্য তদারকি ও রাজস্ব আদয়ের জন্য চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরে চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, হ্যাঁ নতুন আদেশে ওই অঞ্চলে রাজস্ব আদায় ও তদারকির দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়নি। আর সুনির্দিষ্ট চোরাচালানের তথ্য থাকলে আমাদের জানাবেন। আমরা যাচাই করে দেখব।

বর্তমানে তিনটি জাহাজ এলএনজি নিয়ে কুতুবদিয়া গভীর সাগরে অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে এলএনজি পাইপলাইনে করে চট্টগ্রাম এনে গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এলএনজির কোনো জাহাজও বিল অব এন্ট্রি জমা পড়েনি।

কুতুবদিয়া গভীর সাগরে নোঙর করা জাহাজ থেকে পণ্য চোরাচালান হচ্ছে কি না জানে না কেউ
এদিকে বন্দর রাজস্ব না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমা বলতে শুধু সাড়ে ৭ নটিক্যাল মাইল অর্থাৎ বহির্নোঙরের আলফা, ব্রাভো ও চার্লি অ্যাংকরেজকেই বোঝায়। কুতুবদিয়া গভীর সাগর বন্দরের এই সীমানার বাইরে। ফলে বন্দরের সেখানে তদারকি বা কাজ করার সুযোগ নেই। বন্দরের সীমানা বাড়লে তদারকি ও আয়ের সুযোগ থাকবে।

তিনি বলছেন, কুতুবদিয়ায় নোঙর করা বড় জাহাজ থেকে পণ্য ছোট জাহাজে লাইটার বা নামানো হলে সেই জাহাজ থেকেই কেবল রিভার ডিউজ বা ভাড়া পায় বন্দর। পোর্ট ডিউজ, বার্থিং ডিউজ, পাইলটিংসহ অন্য কোনো মাসুল পায় না।

জানা গেছে, সম্প্রতি কুতুবদিয়া গভীর সাগরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি নিয়ে এক্সিলেন্স ও ইজনান জাহাজ দুটি কুতুবদিয়া গভীর সাগরে আছে। সেই দুটি জাহাজ থেকে এলএনজি নামানো হচ্ছে মাতারবাড়ীতে নির্মিত এলএনজি টার্মিনালেই। এই জাহাজ গ্যাস নামিয়ে সেখান থেকেই ফিরে যাবে কাতারে। ফলে সেই জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভেড়ার কোনো দরকার নেই। যেহেতু বন্দরের বহির্নোঙরে কিংবা বন্দর জেটিতে জাহাজগুলো ভিড়বে না। স্বাভাবিকভাবেই এসব জাহাজ থেকে কোনো মাসুল পাবে না বন্দর কর্তৃপক্ষ।

কুতুবদিয়া পৌঁছার পর কোনো ধরনের মাসুল দিয়েছেন জানতে চাইলে এক্সিলেন্স জাহাজের শিপিং এজেন্ট সি কম শিপিংয়ের নির্বাহী পরিচালক জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, যেহেতু এই পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করছে না, বন্দরের অনুমতিরও দরকার নেই; তাই মাসুলের দরকার পড়েনি। তবে কাস্টমসের অনুমতির প্রয়োজন থাকায় তাদের এক ধরনের মাসুল দিতে হয়।

জানা গেছে, বন্দরের ইতিহাসের সব বড় জাহাজই ভেড়ে কুতুবদিয়া সাগরে। কারণ সেখানে পানির গভীরতা সবচেয়ে বেশি থাকায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৫ থেকে ১৭ মিটার ড্রাফট বা গভীরতার জাহাজও ভিড়তে পারে। অথচ বন্দর সীমানার মধ্যে থাকা বহির্নোঙরে ভিড়তে পারে সাড়ে ১২ মিটার গভীরতার জাহাজ। বাংলাদেশে আসা সবচেয়ে বড় জাহাজ হচ্ছে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ; সেগুলো ভেড়ে কুতুবদিয়া গভীর সাগরে। বছরে এই ধরনের কী পরিমাণ জাহাজ কুতুবদিয়া থেকেই চলে যায় তার কোনো তথ্য বন্দরের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে শিপ হ্যান্ডলিং বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম সামশুজ্জামান রাসেল বলেন, আগে একাধিক বন্দরের জন্য একটি জাহাজে পণ্য আনলে চট্টগ্রামের জন্য কুতুবদিয়ায় নামত, বাকিটা মোংলা বন্দরে গিয়ে নামত। এখন ট্রানজিট পণ্যবাহী জাহাজ কুতুবদিয়ায় আসছে। এর সঙ্গে ইদানীং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ঘিরে সরকারের বড় উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণের কারণে কুতুবদিয়া সাগরে জাহাজ আসা প্রচুর বেড়েছে। তবে এ ধরনের জাহাজের সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই।



মন্তব্য