kalerkantho


‘পরিশ্রম মেধাকে অতিক্রম করে’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৪



‘পরিশ্রম মেধাকে অতিক্রম করে’

জিএমের চেয়ারম্যান ও সিইও ম্যারি বাররা

বিশ্বের গাড়ি কম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম নারী সিইও ম্যারি বাররা, যিনি ব্যতিক্রম নেতৃত্ব ও গুণাবলি দিয়ে প্রায় দেউলিয়া হয়ে পড়া একটি কম্পানিকে সাফল্যের শিখরে এনেছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি কম্পানি জেনারেল মোটরসে (জিএম) চাকরিজীবন শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে পদোন্নতি ও দায়িত্ব বাড়ে। ২০১৪ সালে তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই গাড়ি কম্পানিটির সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সময়ে জিএম সাফল্যের চূড়ায় ওঠে। ২০১৫ সালে কম্পানির মুনাফা আসে ৯.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০০৯ সালে দেউলিয়াত্বের কাছে যাওয়ার পর থেকে কম্পানির সর্বোচ্চ আয়। ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় তিনি কয়েকবারই জায়গা করে নিয়েছেন। ম্যারি বাররা বর্তমানে জিএমের সিইও ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুলে দেওয়া এক বক্তব্যে ম্যারি বাররা নেতৃত্বের চারটি গুণ নিয়ে কথা বলেছেন, যা একজন উদ্যোক্তাকে অর্জন করতে হবে।

যা জানেন না স্বীকার করুন : আপনি যা জানেন না তা স্বীকার করে নেওয়া ভালো, প্রয়োজনে যে কারো সাহায্য চাওয়া ভালো। এটি আরো ভালো যে আপনি আপনার অধীনদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। সেই সব মানুষের সঙ্গে ওঠাবসা করুন, যারা যেকোনো মুহূর্তে আপনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে এবং দোষ ধরিয়ে দেবে। এর ফলে একজন সিইও হিসেবে আপনার সম্মান ক্ষুণ্ন হবে না, বরং বাড়বে।

ক্রেতার আস্থা অর্জন করুন : ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অনেকের আস্থা নেই। গ্যালোপের এক জরিপে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বাস করে না। আপনি ব্যবসা, সরকারি চাকরি, এনজিও কিংবা যেখানেই আপনার ক্যারিয়ার গড়ুন না কেন, আপনার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে গুণগত পরিবর্তন আনা, ইমেজ বাড়ানো ও গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্কে পরিবর্তন আনা। জিএমে থেকে আমি গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়েছি। যে ব্যবসাতেই আপনি থাকুন না কেন, ক্রেতা জয়ী বললে আপনি জয়ী।

অনেক দূরে তাকাতে হবে : আপনার কম্পানির সফলতা নির্ভর করছে কত ভালো ক্রেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারলেন। আপনি যখন একটি প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেবেন তখন অবশ্যই তৃণমূল পর্যন্ত খবর রাখতে হবে। কিন্তু একজন স্বাপ্নিক নেতা হিসেবে সামনের প্রান্তিকের চেয়ে আরো দূরে তাকাতে হবে। আপনাকে আগামী দশকের কথা চিন্তা করতে হবে। ৪০ প্রান্তিক পার হলে কম্পানির অবস্থান ও খ্যাতি কোথায় পৌঁছতে পারে তা চিন্তা করতে হবে। বর্তমানে কর্মীরা তাদের প্রতিষ্ঠানকে অনেক বড় অবস্থানে দেখতে চায়। তাদের মধ্যে প্রেরণা জাগিয়ে তোলা আপনার দায়িত্ব। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এমন করতে হবে, যেখানে কর্মীরা পূর্ণ সম্ভাবনা ঢেলে দেবে।

কঠোর পরিশ্রম করুন : যদি বিশ্বকে পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনাকে মেধাবীর চেয়েও বেশি কিছু হতে হবে। অনেক পরিশ্রম করতে হবে। কারণ মেধাবী যদি কাজ না করে তাহলে পরিশ্রমী মানুষ তাকে হারিয়ে দিতে পারে। শিক্ষা দরজা খুলে দেয়। মেধা বিশ্ব খুলে দেয়। কিন্তু পরিশ্রম হচ্ছে সেই জিনিস, যার মাধ্যমে আপনি চিন্তার চেয়েও বেশি কিছু অর্জন করতে পারবেন।



মন্তব্য