kalerkantho


টেকসই বনায়ন ও রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা

১৬৬০ কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১৩:২৭



১৬৬০ কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

টেকসই বনায়ন ও ঝরে পড়া রোধে বাংলাদেশকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বহুজাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ এক হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এসংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ আর বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত সংস্থাটির আবাসিক প্রধান চিমিয়াও ফান। পাঁচ বছর গ্রেসপিরিয়ডসহ ৩০ বছরে বাংলাদেশ এই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে। ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব জানান, ‘টেকসই বনায়ন এবং জীবিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ এবং ‘দ্বিতীয় ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা’ শীর্ষক প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার অনুদান দেবে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পের আওতায় টেকসই বনায়ন এবং জীবিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং প্রকল্প এলাকার বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প আয়বর্ধক কাজের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বনভূমির পরিমাণ বাড়ানো হবে। এ ছাড়া প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণ, তথ্য পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার মাধ্যমে সহযোগিতামূলক বন ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে।

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা প্রকল্পের জন্য পাওয়া অনুদান ব্যবহার করা হবে কক্সবাজার এলাকার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তরুণদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ করে দিতে। এ অনুদানের অর্থ দিয়ে পাঠ্যপুস্তক ও উপকরণ সামগ্রীর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, মহিলা শিক্ষক নিয়োগ এবং ক্যাম্পের মধ্যে নতুন শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হবে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটির বাড়তি অর্থায়ন হিসেবে আড়াই কোটি ডলার অনুদান কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপকরণ সামগ্রীর পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নারী শিক্ষক নিয়োগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য নতুন শিক্ষাকেন্দ্র  তৈরি করা হবে। এ ছাড়া বিদ্যমান শিক্ষাকেন্দ্রকে সহায়তা দেওয়া, ক্যাম্পের শিক্ষাকেন্দ্রের জন্য শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান চিমিয়াও ফান বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশ্বব্যাংক অনুদান দিয়ে সহায়তা করছে। এসব সহায়তা শুধু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে উপকার পাবেন তা নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।



মন্তব্য