kalerkantho


ব্যবসা পরিবেশে দুই বছরে ৫৪ ধাপ এগিয়েছে ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৩৯



ব্যবসা পরিবেশে দুই বছরে ৫৪ ধাপ এগিয়েছে ভারত

ছবি অনলাইন

বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে এ বছর সবচেয়ে উন্নতি করা শীর্ষ ১০ দেশের অন্যতম ভারত। দেশটি এবারের তালিকায় ২৩ ধাপ এগিয়ে ৭৭তম স্থানে উঠে এসেছে। আর গত বছরের তালিকায় এগিয়ে ছিল ৩১ ধাপ। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে দেশটি ব্যবসা সহজীকরণে এগিয়েছে ৫৪ ধাপ, যা বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিতে একটি বড় অর্জন।

সম্প্রতি ‘ডুয়িং বিজনেস রিপোর্টে ২০১৯’ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এতে দেশগুলোতে ব্যাবসায়িক পরিবেশে কতটুকু উন্নতি হয়েছে তা নির্ণয়ে দশটি মানদণ্ড মূল্যায়ন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে নতুন ব্যবসা শুরু করা, অবকাঠামো নির্মাণের অনুমতি পাওয়া, বিদ্যুত্ সুবিধা, সম্পত্তির নিবন্ধন, ঋণ পাওয়ার সুযোগ, সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর পরিশোধ, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তি বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া হওয়া ব্যবসার উন্নয়ন।

এর মধ্যে সাতটি মানদণ্ডেই গত বছর অগ্রগতি অর্জন করেছে ভারত। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাবসায়িক ক্ষেত্রে অন্যতম সংস্কারক দেশ ভারত। তারা সংস্কার অব্যাহত রেখেছে। ভারত এখন দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ সংস্কারক দেশ। ২০১৪ সালে মোদি সরকার শীর্ষ ৫০ এ প্রবেশের যে লক্ষ্য স্থির করেছেন তা অর্জন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

২০১৪ সালে মোদি সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন বিশ্বের ১৯০ দেশের মধ্যে ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে ১৪২তম অবস্থানে ছিল ভারত। ২০১৬ সালে দেশটির অবস্থান বেড়ে হয় ১৩১তম। ২০১৭ সালে অবস্থান আরো এগিয়ে হয় ১০০তম। আর সর্বশেষ প্রতিবেদনে অবস্থান এগিয়ে হয় ৭৭তম।

বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইনডিকেটরস গ্রুপের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপক রিতা রামালহো বলেন, একটি দেশ র্যাংকিংয়ে যত এগোবে পরের ধাপগুলো তার জন্য আরো কঠিন হবে। কারণ ব্যবসা সহজীকরণে সব দেশের মধ্যেই প্রতিযোগিতা চলছে।

ভারতের কর্মকর্তারা বলেন, ভারত আগামী বছরের র্যাংকিংয়ে আরো উন্নতি করবে। কারণ এখনো অনেক খাতে সংস্কার চলছে, যা প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।

গত বছর ভারত ১০টি নির্দেশকের সাতটিতেই উন্নতি করে। এর মধ্যে নির্মাণ অনুমোদনে গত বছরের ১৮১তম স্থান থেকে এ বছর ৫২তম স্থানে উঠে এসেছে। সীমান্ত বাণিজ্যে ২০১৭ সালের ১৪৬তম স্থান থেকে ২০১৮ সালে ৮০তম হয়। ব্যবসা শুরু সূচকে ১৫৬তম থেকে এগিয়ে ১৩৭তম হয়। ঋণ প্রাপ্তিতে ২৯তম থেকে এগিয়ে হয় ২২তম। বিদ্যুত্ প্রদানে গত বছরের ২৯তম থেকে এ বছর ২৪তম হয়। চুক্তি বাস্তবায়নে ১৬৪তম থেকে এক ধাপ এগিয়ে হয় ১৬৩তম।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ব্যবসা শুরু করতে আগে অনেক ধরনের ফরম পূরণ করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ। অথচ এখন একটি ফরম পূরণ করলেই কাজটি হয়ে যায়। ভ্যাট প্রদান অনেক সহজ ও গতিশীল হয়েছে জিএসটি (পণ্য ও সেবা কর) বাস্তবায়নের পর থেকে। আগে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনেক ধরনের কর ও ভ্যাট দিতে হতো, যা একবারে দেওয়া যায় জিএসটির মাধ্যমে। এর পাশাপাশি করপোরেট আয়কর কমানোর ফলে দেশটিতে কর দেওয়া কম ব্যয়বহুল হয়েছে।

আমদানি-রপ্তানিতেও খরচ ও সময় কমিয়ে এনেছে দেশটি। কনটেইনারে ইলেকট্রিক সিল, বন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সিগনেচারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল ডিজিটালাইজড করায় এ সময় কমেছে। এ ছাড়া নির্মাণ অনুমোদনেও দেশটি সময় কমিয়ে এনেছে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক। ইন্ডিয়া টুডে, পিটিআই।



মন্তব্য