kalerkantho


বিআইবিএমের গবেষণা প্রতিবেদন

কৃষি খাতের ঋণ পণ্যে বৈচিত্র্য নেই

► উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষিতে ভ্যালু চেন ফাইন্যান্সিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ ► সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রায় ৮ শতাংশ ঋণ কৃষিতে সেখানে বেসরকারি ব্যাংকের ২ শতাংশের কম ► কৃষিতে তুলনামূলক খেলাপি ঋণ কম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৩৮



কৃষি খাতের ঋণ পণ্যে বৈচিত্র্য নেই

বৈচিত্র্য নেই কৃষি খাতের ব্যাংকঋণে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা কৃষিঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট কৃষিঋণের ৫৯ শতাংশ ঋণ দেওয়া হচ্ছে শস্য উৎপাদনে। প্রাণিসম্পদ এবং পোল্ট্রি উপখাতে ১০ শতাংশ, মেস্য ৯ শতাংশ, দারিদ্র্য বিমোচনে ৬ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দেওয়া হয়েছে ১ শতাংশ ঋণ। শষ্য গুদামজাতকরণে এ হার শূন্যের কোটায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটরিয়ামে ‘অ্যাড্রেসিং অ্যাগ্রিকালচার থ্রু ভ্যালু চেন ফাইন্যান্সিং-হাউ টু অ্যাট্রাক্ট ব্যাংকস?’ শীর্ষক কর্মশালায় এ গবেষণা প্রতিবেদনের ওপর আলোচনাকালে বক্তারা বলেন, কৃষি খাতের এ বৈচিত্র্যহীন ঋণ বিতরণের কারণে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষিতে ভ্যালু চেন ফাইন্যান্সের ওপর জোর দিতে হবে। এ ছাড়া কৃষি খাতে খেলাপি ঋণ তুলনামূলক কম বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এতে আরো বলা হয়, কৃষিঋণে বেসরকারি ব্যাংকের অংশগ্রহণ কম। সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রায় ৮ শতাংশ ঋণ কৃষিতে, সেখানে বেসরকারি ব্যাংকের ২ শতাংশেরও কম।

বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ২৪টি ব্যাংকের তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিআইবিএম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ডিএসবিএম) মো. মহিউদ্দিন সিদ্দিকী।

বিআইবিএমের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণসংক্রান্ত একটি আলাদা নীতিমালা তৈরি করে দিয়েছে। যাতে কৃষি খাতে সঠিকভাবে কৃষিঋণ বিতরণ হয়। কৃষিঋণে ভ্যালু চেন ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। যাতে দ্রুত এ ধরনের ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। এই খাতকে সক্রিয় ও সচল রাখতে হলে ব্যাংকের অর্থায়ন জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ঋণ দিতে হবে।

বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, কৃষিকে আরো এগিয়ে নিতে হলে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব উপখাতকেই অর্থায়ন করতে হবে। উৎপাদন, বাজারজাতসহ সব উপখাতকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, কৃষি খাতের চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। বাকি সামান্য কিছু বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চাহিদা পূরণ হচ্ছে, কিন্তু একটি বড় অংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষি বিতরণ হচ্ছে ৯ শতাংশ সুদে, কিন্তু ঋণ পরিচালন ব্যয় ১০ শতাংশের বেশি। এ জন্য বছর শেষে মূলধন ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা সরকার পূরণ করছে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, উৎপাদন, আমদানি এবং বাজারজাতকরণ ও রপ্তানিসহ যাবতীয় বিষয় এখন কৃষি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব দিক বিবেচনা করে ঋণ দিতে হবে। তিনি বলেন, শিল্প খাতের বড় বড় গ্রাহকরা ঋণ নিয়ে ফেরত দিতে চায় না। কৃষিঋণের আদায় ভালো, খেলাপির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, বড় ঋণের ১০ শতাংশ খেলাপি হয়ে যায়, এটি নিয়ে ব্যাংকগুলোর ভাবনা কম। কিন্তু মোট ঋণের ২ শতাংশ কৃষিঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ধরনের আপত্তি, যা থাকা উচিত নয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।



মন্তব্য