kalerkantho


ডিএসইর শেয়ার বিক্রির অর্থ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে

কর ছাড় পেতে তিন বছর রাখতে হবে মূলধন

রফিকুল ইসলাম    

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:১০



কর ছাড় পেতে তিন বছর রাখতে হবে মূলধন

সরকারের এই সিদ্ধান্তে ডিএসইর প্রত্যেক সদস্য প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউসগুলো প্রায় ৩৮ লাখ টাকা করে বেশি অর্থ পাচ্ছে। নির্বাচনের বছরে পুঁজিবাজারে নতুন করে প্রায় ১০০০ কোটি টাকা ফান্ড সরবরাহে ব্রোকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এমন ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। কারণ নির্বাচনের বছরে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ কম থাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এই টাকা এলে বাজার কিছুটা উন্নতি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রি থেকে প্রত্যেক সদস্য প্রায় চার কোটি টাকা করে পাবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিষ্ঠান বা ব্রোকারেজ হাউস, যারা প্রতিষ্ঠানটির আইনগত মালিক। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের মূলধনী মুনাফা থেকে সরকার ১৫ শতাংশ রাজস্ব পায়।

চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার বিক্রি থেকে ৯৪৭ কোটি টাকা মূলধন পেয়েছে ডিএসইর সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলো। সরকারি কোষাগারে ১৫ শতাংশ কর পরিশোধের পর এই টাকা সদস্যদের মধ্যে বণ্টিত হওয়ার কথা কিন্তু তারল্য সংকট কাটাতে এই অর্থের পুরো অংশ পুঁজিবাজারে রেখে কর সুবিধা পেতে আবেদন জানায় ব্রোকার মালিকরা।

গত জুলাইয়ে মৌখিক আশ্বাসে কর ছাড় দিতে রাজি হন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, ১৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে কর। কিন্তু তিন বছর এই অর্থ পুঁজিবাজার থেকে বাইরে নেওয়া যাবে না। এই ঘোষণা এক মাস পার হলেও এখনো এসআরও জারি হয়নি।

সব প্রক্রিয়া শেষে এই সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন হতে পারে। আগামী তিন বছর এই অর্থ পুঁজিবাজারের বাইরেও নেওয়া যাবে না, এমন শর্ত বা বাধ্যবাধকতাও রেখে প্রজ্ঞাপন ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ডিএসইর ২৫০ সদস্য। যারা কর ছাড় পেলে সরাসরি উপকৃত হবে, প্রত্যেকেই প্রায় ৩৮ লাখ টাকা করে বেশি অর্থ পাবে।

পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারল্য সংকট কাটাতে পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারী স্বার্থ বিবেচনায় কর ছাড় পেতে এক বছর এই অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তিন বছরের আগে মূলধন তোলা যাবে না আর কেউ তুলতে চাইলে কর ছাড়ের সুবিধাবঞ্চিত হবে এমন শর্ত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে এনবিআর। এই সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারি হলে সেই টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে ব্রোকাররা। পুঁজিবাজারে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ এলে কিছুটা চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসইর এক সদস্য জানান, তিন বছরের বাধ্যবাধকতা রেখেই এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে আমরা কেউ কোনো মূলধন তুলতে পারব না। আর কেউ যদি মূলধন তুলে নেয়, তবে কর সুবিধায় ছাড় পাবে না, ১৫ শতাংশ হারেই কর কেটে নেবে রাজস্ব বোর্ড।

জানা যায়, কৌশলগত অংশীদারের কাছে শেয়ার বিক্রির অর্থ ব্রোকারেজ হাউসগুলোরই, কারণ তারাই ডিএসইর শেয়ারের আইনগত মালিক। গেইনট্যাক্সে ১০ শতাংশ ছাড় পেলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বেশি অর্থ পাবে ব্রোকারেজ হাউসগুলো। আর এই অর্থ পুরোটাই পুঁজিবাজারে এলে তারল্য প্রবাহ বাড়বে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর ১৮০ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ শেয়ারের মালিক ২৫০ জন সদস্য। শতকরা হিসাবে প্রত্যেক সদস্যের শেয়ার ০.৪ শতাংশ বা ৭২ লাখ ১৫ হাজার ১০৬টি। সদস্যদের এই শেয়ার থেকে ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার বিক্রি করেছে ব্রোকারেজ হাউস। প্রতিটি শেয়ার ২১ টাকা মূল্যে, দাম দাঁড়ায় ৯৪৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা।

হিসাবে দেখা যায়, ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি থেকে প্রায় ৯৪৭ কোটি টাকা অর্থ পেয়েছে ব্রোকারেজ হাউস। এখনো টাকা হাতে না পেলেও ডিএসইর নিজস্ব হিসাবে টাকা জমা রয়েছে। এই টাকা থেকে ১৫ শতাংশ গেইনট্যাক্স বাদ দিলে মূলধন দাঁড়ায় ৮০৪ কোটি ৯৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৩১ টাকা। অর্থাৎ ১৪২ কোটি টাকা পাবে সরকার। আর ব্রোকারেজ হাউস বা সদস্যরা পাবেন তিন কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১০ টাকা।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই করহার ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে কমানো হবে। অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউসগুলো ১০ শতাংশ কর ছাড় পাবে। চীনাজোট থেকে পাওয়া অর্থে ৫ শতাংশ রাজস্ব হিসাবে সরকার পাবে ৪৭ কোটি ৩৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৩১ টাকা। আর ১০ শতাংশ কর ছাড়ে ব্রোকার বা সদস্যরা পাবেন ৮৯৯ কোটি ৬৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৭ টাকা। অর্থাৎ ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ৬৬২ টাকা বেশি পাচ্ছে ব্রোকাররা। এখন এই ছাড় পেলে প্রত্যেক ব্রোকার অর্থাৎ ২৫০ জন প্রত্যেকেই পাবে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেক সদস্য ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৩০ টাকা করে বেশি পাবেন।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাদেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কর সুবিধা পেতে হলে এই অর্থ আগামী তিন বছর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাবে রাখতে হবে। তবে এই সময়ের আগে কেউ মূলধন তুলতে চাইলে ১৫ শতাংশ হারেই কর কেটে নেবে সরকার। অতিদ্রুতই এই প্রজ্ঞাপন জারি হবে আমরা জানতে পেরেছি। কর ছাড়ের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত পেলেই আমরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করব।’



মন্তব্য