kalerkantho


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.১%

বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বকে আরো বিপজ্জনক করে তুলবে : আইএমএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:২১



বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.১%

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৭ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। গতকাল মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা চলাকালে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বব্যাংকও চলতি অর্থবছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসেও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করেছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৮৬ শতাংশ।

আইএমএফের হিসাবে, চলতি বছর শেষে বাংলাদেশে ভোক্তা মূল্যসূচক (মূল্যস্ফীতি) ৫ দশমিক ৮ শতাংশ ও আগামী বছর ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাবে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ বিশ্বকে আরো দরিদ্র ও বিপজ্জনক করে তুলবে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ। বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে সংস্থার সর্বশেষ পূর্বাভাসে এ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়। সংস্থার মতে, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে একটি পূর্ণমাত্রার বাণিজ্য যুদ্ধ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষত তৈরি করবে, যা থেকে পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

আইএমএফ জানায়, ২০১৮ ও ২০১৯ অর্থবছরে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৭ শতাংশ, যা সংস্থার জুলাইয়ে দেওয়া পূর্বাভাস ৩.৯ শতাংশের চেয়ে কম।

বেশ কয়েকটি কারণেই বিশ্ব প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী বলে জানায় আইএমএফ। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ, ব্রিটেন, জাপানসহ ইউরোজোনের দেশগুলোর দুর্বল পারফরম্যান্স এবং সুদের হার বৃদ্ধি। বিশেষ করে সুদের হার বৃদ্ধির কারণে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং ম্যাক্সিকোসহ উদীয়মান অনেক দেশ থেকেই পুঁজির বহির্মুখী প্রবাহ বেড়েছে।

আইএমএফ মনে করে বাণিজ্য যুদ্ধের ফলে বাণিজ্যিক আস্থা কমে যাবে, যার ফলে কমবে বিনিয়োগ। এতে বিশ্ব অর্থব্যবস্থা আরো চাপের মধ্যে পড়বে। আইএমএফের হিসাবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্ব জিডিপি ০.৮ শতাংশের বেশি কমে যাবে। এমনকি দীর্ঘ মেয়াদে জিডিপি কমবে ০.৪ শতাংশ। বিশেষ করে বড় দুই অর্থনৈতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জিডিপিও হ্রাস পাবে।

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে চীনের ২৫ হাজার কোটি ডলার পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে, এর জবাবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের ছয় হাজার কোটি ডলার পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছে। এ ছাড়া ইইউ ও অন্যান্য কয়েক দেশের পণ্যেও যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করেছে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোরাইস ওবস্টফেল্ড বলেন, শুল্ক আরোপের আরো ঘটনা ঘটলে পরিবার থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ বাণিজ্যনীতি রাজনীতিকে প্রভাবিত করে। আর রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে অনেক দেশই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

আইএমএফ জানায়, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি আসবে ২.৯ শতাংশ এবং আগামী বছর ২.৫ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি হবে এ বছর ৬.৬ শতাংশ এবং আগামী বছর ৬.২ শতাংশ। মোরাইস ওবস্টফেল্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে তার প্রভাব বড় আকারে বোঝা যাবে ২০১৯ সালে। ফলে আগামী বছর দুই দেশের প্রবৃদ্ধিই কমে আসবে।

সংস্থা জানায়, ২০১৮ সালে ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি কমে হবে ২.০ শতাংশ। এ অঞ্চলের পাওয়ার হাউসখ্যাত জার্মানির ম্যানুফ্যাকচারিং অর্ডার ও বাণিজ্য দুই কমেছে। এ বছর জার্মানির প্রবৃদ্ধি আসবে ১.৯ শতাংশ। এ ছাড়া ইউরোপের আরেক বৃহৎ রাষ্ট্র ব্রিটেনের প্রবৃদ্ধি আসবে এ বছর ১.৪ শতাংশ, ফ্রান্সের ১.৬ শতাংশ ও রাশিয়ার প্রবৃদ্ধি আসবে ১.৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ দেশ জাপানের প্রবৃদ্ধি আসবে ১.১ শতাংশ ও ভারতের ৭.৩ শতাংশ। আগামী বছর দেশটির প্রবৃদ্ধি আসবে ৭.৪ শতাংশ।

এদিকে উন্নত দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরক্ষাবাদী নীতিতে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এ বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়বে। ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অনিশ্চয়তার চাপ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে ওইসিডি জানায়, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৭ শতাংশ, যা সংস্থার মে মাসের পূর্বাভাস থেকে যথাক্রমে ০.১ ও ০.২ পয়েন্ট কম।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে জানিয়ে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে বলে এর আগে সতর্ক করেছে রেটিং এজেন্সি মুডিস। এক বিবৃতিতে সংস্থা জানায়, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনা এ বছর আরো খারাপের দিকে যাবে এবং ২০১৯ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি।



মন্তব্য