kalerkantho


৫ দিনে অপারেটর বদলের আবেদন ১০ হাজার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:২১



৫ দিনে অপারেটর বদলের আবেদন ১০ হাজার

ছবি প্রতীকী

মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) বা মোবাইল ফোনের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সেবা চালু হওয়ার পর প্রথম পাঁচ দিনে আবেদন করেছে ১০ হাজার ১২২ জন গ্রাহক। এর মধ্যে সফল হয়েছে চার হাজার ১৮১ জন। আর আবেদন বাতিল হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬২ জন গ্রাহকের। প্রক্রিয়াধীন ৭৯টি আবেদন। গ্রাহক বেশি বাধা পেয়েছে গ্রামীণফোনের কাছ থেকে।

গতকাল মঙ্গলবার বিটিআরসির প্রকাশ করা এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম পাঁচ দিনে সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদল করেছে গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা। গ্রামীণফোনের চার হাজার ৬১৬ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের আবেদন করেছে। এর মধ্যে সফল হয়েছে এক হাজার ৮৩৪ জন এবং বাতিল হয়েছে দুই হাজার ৭৮২টি আবেদন। গ্রামীণফোন থেকে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক গিয়েছে রবি আজিয়াটায়। গ্রামীণফোন থেকে রবিতে মোট আবেদন এসেছে এক হাজার ৭৭০টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে এক হাজার ৩৫৬টি এবং বাতিল হয়েছে ৪০৫টি আবেদন।

গ্রামীণফোন থেকে বাংলালিংকে মোট আবেদন করেছে এক হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে সফল হয়েছে ৪৫০টি এবং বাতিল হয়েছে ৭৯১টি আবেদন। গ্রামীণফোন থেকে টেলিটকে আবেদন করেছেন ৪৪ জন গ্রাহক। এর মধ্যে সফল হয়েছে ২৮ জন এবং বাতিল হয়েছে ১৬টি আবেদন।

সবচেয়ে কম অপারেটর বদল করেছে টেলিটকের গ্রাহকরা। পাঁচ দিনে ৭০৯ জন গ্রাহক অপারেটর বদলের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে সফল হয়েছে ১৩০ জন এবং বাতিল হয়েছে ৫৭৯টি আবেদন।

সবচেয়ে বেশি অপারেটর বদলের আবেদন পেয়েছে রবি। পাঁচ দিনে রবির কাছে মোট আবেদন এসেছে পাঁচ হাজার ৮৯১টি। এর মধ্যে সফল হয়েছে দুই হাজার ৩৪১টি এবং বাতিল হয়েছে তিন হাজার ৫৫০টি আবেদন।

রবিতে গ্রামীণফোন থেকে এসেছে এক হাজার ৩৫৬ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ৯৭৫ জন। বাংলালিংক থেকে এসেছে ৯২৬ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ২৫৩ জন। টেলিটক থেকে এসেছে ৮২ জন গ্রাহক, বাধাগ্রস্ত হয়েছে ৩২২ জন।

গত ১ অক্টোবর এ সেবার পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হয়। এমএনপি সেবার লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডি এই সেবা দিচ্ছে। সেবা গ্রহণের জন্য একজন গ্রাহককে সিম প্রতিস্থাপনের ১০০ টাকা চার্জসহ ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা দিতে হচ্ছে। নিয়ম অনুসারে, অপারেটর বদল বা পোর্টিংয়ে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা। একবার বদলের পর দ্বিতীয়বারও অপারেটর বদল করতে অন্তত ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান শাহেদ আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘গত ১ অক্টোবর থেকে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর রবির শক্তিশালী নেটওয়ার্কে আসতে ইচ্ছুক গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি। সেবাটি নিতে গ্রাহকদের আরো আগ্রহী করে তুলতে প্রচারণা বাড়ানো দরকার। যেসব কারণে গ্রাহকরা এমএনপি সেবা নিতে পারছেন না, সেগুলো দূর করতে আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।’

ইনফোজিলিয়ন টেলিটেক বিডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার এমএনপি সেবার পরিস্থিতি সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় এখন পর্যন্ত অনেক গ্রাহক এ সেবা সম্পর্কে জানেন না। সেবা শুরু হওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) পর্যন্ত সাত কর্মদিবসে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার আবেদন এসেছে। এর মধ্যে পোর্টিং হয়েছে ৪৫ শতাংশ। আবেদন বাতিল হওয়ার শর্তগুলো নিয়ে বিটিআরসি কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত এ বিষয়ে সংশোধিত একটি নির্দেশনা জারি হবে।’ তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনই এ সেবার চাহিদা বাড়ছে এবং সেবার মানও উন্নত হচ্ছে।



মন্তব্য